দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের সমস্ত শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক-শ্রমিক মেহনতি জনতা তাদের অধিকার হারিয়েছে। এই দুর্নীতিবাজ সরকার আমাদের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে, মানুষের পকেট কেটে নিয়ে দুর্নীতি করছে, সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে। তাদের বিরুদ্ধে আজ প্রতিরোধ তুলতে হবে।

বুধবার (০১ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক র‍্যালি উদ্বোধনের সময় তিনি দুর্নীতিবাজদের প্রতিরোধে সবাইকে আহ্বান জানান।

নিজেদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি জনতাকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে শ্রমিকরা তাদের অধিকার হারিয়েছে। এই দুর্নীতিবাজ সরকার মানুষের পকেট কেটে নিয়ে দুর্নীতি করছে। তারা সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, এই মে দিবস অধিকার আদায়ের দিন। এই দিবসকে সামনে রেখে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, আমাদের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য। সরকার একদিকে চুরি করে আমাদের ভোটের অধিকার লুট করেছে। অন্যদিকে, আমাদের ভাতের অধিকার লুট করছে। আজকে আমাদের বেঁচে থাকার জন্য শ্রমিক জনতার ঐক্য খুবই জরুরি। অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন সংগ্রামে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আজকে একটি মহান দিন। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের বাংলাদেশে শ্রমিক ভাইদের মর্যাদা নেই। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নেই, শ্রমিক ভাইয়েরা মানবেতর জীবনযাপন করেন। দ্রব্যমূল্য প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাসা ভাড়া এমনকি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সরকার তাদের দুর্নীতিকে বৈধ করার জন্য এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা একদিকে শেয়ার মার্কেট লুট করছে, ব্যাংক লুট করছে, অন্যদিকে মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা লুট করছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে শ্রমজীবী মানুষের কাছ থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে তারা দুর্নীতির পদ্মাসেতু নির্মাণ করে, তারা কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ করে, যেগুলো সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়।

তাই আজ আপনারা যারা এই মে দিবস পালন করছেন, আপনাদের সেই অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। আজকে গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি ও রেমিটেন্সের আয় দিয়ে বাংলাদেশ চলছে। অথচ তারা যে টাকাগুলো আয় করছে, সেই টাকা সরকার দুর্নীতি করে নষ্ট করছে।

পরে মির্জা ফখরুল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে শ্রমিকদের এই র‍্যালির উদ্বোধন করেন।পরে একটি র‍্যালি নয়াপল্টন থেকে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে আবার নয়াপল্টনে এসে শেষ হয়।তাদের হাতে বিভিন্ন রকমের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লেকার্ড দেখা যায়। এসময় খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন দলের নেতাকর্মীরা।

You might like