ধিক্কার জানাই এ ধরনের বিকৃত রুচির নরপশুদেরকে

সম্পাদকীয় …

 

কার্যকরী ৯৯৯ নম্বরটির মাধ্যমে ইতিমধ্যে দ্রুতগতিতে অনেক সমস্যার সমাধান পেয়েছেন বিপদগ্রস্ত মানুষজন। আর ছড়িয়ে পড়ছে ৯৯৯টি সম্পর্কে। দ্রুতকার্যকরী হিসেবে এই নম্বরের ব্যবহার দ্রুত বেড়েই চলেছে। আর তাই নম্বরটি এখন সবার ঠোঁটস্থই হয়ে গেছে বলা চলে।

প্রিয় সময়ে প্রকাশিত ‘পুত্রবধূকে বিকৃত লালসায় ধর্ষণ, শ্বশুর গ্রেফতার’ ও ‘ফরিদগঞ্জে পিতা কর্তৃক কন্যাকে ধর্ষণ ও গ্রেফতার’
শিরোনাম দুটোর সংবাদের মাধ্যমে পাঠকমাত্রই জানতে পেরেছেন যেন প্রথমোক্ত গৃহবধূ ৯৯৯ নম্বরটি ব্যবহার করেই নিজের জীবন রক্ষা করতে পেরেছিলেন। তাছাড়া ফরিদগঞ্জে পিতা কর্তৃক নিজ কন্যাকে ধর্ষণ ও থানা পুলিশ কর্তৃক পিতাকে গ্রেফতার এগুলো হচ্ছে আধুনিক সমাজের বিকৃত কিছু মানুষের বিকৃত মগজের শয়তানি চিন্তাধারার ফসল।

আমরা ঘৃণা করি এমন হীন কাজকে! ধিক্কার জানাই এ ধরনের বিকৃত রুচির মানুষকে; এদের কারণেই সমাজ নোংরা হয়ে যাচ্ছে, হয়ে যাচ্ছে আবর্জনায় পরিপূর্ণ। আমরা জানি না, এমন মানুষকে আইন কী শাস্তি দেবে? কী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করলে এমন কুরুচিসম্পন্ন মানুষগুলো শিক্ষা পাবে?

প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, রাজধানীর পল্লবীতে নিজের ওরসজাত ছেলের স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেই ৭০ বছর বয়সী কুরুচিসম্পন্ন মানুষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী ঐ গৃহবধূ নিজেই পুলিশের হেল্প লাইন ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ জানিয়েছে। আমাদের ধারণা, যদি ৯৯৯ নম্বরটি ঐ ভুক্তভোগী না জানতো তাহলে তার প্রতি অনেক অন্যায় ও নির্যাতন হয়ে যেতো। আর অভিযোগের সত্যতা পেয়ে পুলিশ সেই শ^শুরকে গ্রেফতার করেছে। সেই অভিযুক্ত বৃদ্ধ একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা এবং নিজ বাড়িতেই তার প্রতিবন্ধী ছেলে ও পুত্রবধূকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। ভুক্তভোগী ওই নারীর অভিযোগে জানা যায় যে, স্বামী প্রতিবন্ধী হওয়ার সুযোগেই শ্বশুর তাকে ধর্ষণ করেছে বলে জানায়।

এছাড়াও চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারিণী সপরিবারে ঢাকায় থাকতেন। করোনার কারণে তারা সপরিবারে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন। অভিযোগকারিণীর স্বামী মনির (৩৭) (পিতা-মৃত সেকান্দর আলী) ও বাড়িতে একই সাথে বসবাস করতেন। অভিযোগকারিণী তার ছেলের অনলাইনে পরীক্ষার সুবাদে তার ১৪ বছরের মাদ্রাসাপড়ুয়া কন্যা সন্তানকে বাড়িতে রেখে ঢাকায় চলে যান। এ সুবাদে গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রি. রাতে তার মেয়েকে ঘুমন্ত অবস্থায় ঝাঁপটিয়ে ধরে মেরে ফেলার ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং মুখে চাপ দিয়ে পরনের কাপড় খুলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। তাকে মেরে ফেলার হুমকি ধমকি দেওয়ায় অভিযোগকারিণীর কন্যা প্রথমে ঘটনাটি কাউকে বলতে পারেনি। পরদিন তার কান্নাকাটির প্রেক্ষিতে বিষয়টি সে দাদিকে জানায়। এই সময়ে ধর্ষক মনির তার কন্যাকে তার স্ত্রীর কাছে ঢাকায় নিয়ে গেলে তার কন্যা বিষয়টি মাকে জানায়। এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় ধর্ষিতার মায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল গভীর রাতে ধর্ষক মনিরকে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।

আমরা এমন নিকৃষ্ট ও কুরুচিপূর্ণ মানুষদের কার্যক্রমের ঘৃণা করি ও নিন্দা জানাই। এ জাতীয় মানুষকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক কঠিন শাস্তি দেয়া উচিত। কেননা এ ধরনের মানুষের কারণেই সমাজের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রুচিশীল মানুষের যাতনা বেড়ে যাচ্ছে, বেড়ে যাচ্ছে সহিংসতা। নিশ্চয়ই এমন ঘটনার জন্যে ওই গৃহবধূর মা বাবা আত্মীয়স্বজন ও ওই কন্যার মা ও আত্মীয়-স্বজন অত্যন্ত ব্যথিত ও লজ্জিত! সেই সাথে ওই নরপশুদের আত্মীয়স্বজনও সমাজের মানুষের কাছে মুখ দেখাতে পারছে না। হয়তো পরিচয় দিতে না পেরে, সমাজই দূরে সরে আছে; অবশ্যই এটাই স্বাভাবিক। এ ধরনের মানুষকে পরিচয় দিলে সমাজের নোংরামী আরো বেড়েই যায়। সুতরাং এ ধরনের মানুষকে ধরিয়ে দেয়ার জন্যেই ৯৯৯ নম্বরটি কার্যকরী। আর এ ধরনের নোংরা মানুষের চরিত্রকে দ্রুত শাস্তি দেয়ার জন্যে ও ধরিয়ে জন্যেই হেল্পলাইন ৯৯৯ নম্বরটি অত্যন্ত কার্যকরী।

আমরা সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, প্রিয় সময় গুজব প্রচার করে না

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রি. ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ সফর ১৪৪২ হিজরি, মঙ্গলবার

You might like