কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কোটিপতি কর্মচারী আবুল খায়েরের দুর্নীতির যতো কথা

ধারাবাহিক প্রতিবেদন।। পর্ব-০২

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও অসহায় তার কাছে!

# বউয়ের নামে ঠিকাদারী ব্যবসা : তৈরী করেছেন দালাল সিন্ডিকেট

বিশেষ প্রতিবেদক: ৩০ অক্টোবর ২০২০

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোটিপতি ড্রাইভারের পর এবার আরেক কোটিপতি কর্মচারীর গল্প তুলে ধরতে চাই আপনারে সামনে। তবে আজকের গল্প কিন্তু রাজধানীর নয়, মফস্বলের এক হাসপাতালের। মফস্বলে থেকেও কি করে কোটি টাকার পাহাড় গড়া যায়, তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ আজকের গল্পের এই নায়ক। তিনি আর কেউ নন, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের টেলিফোন অপারেটর আবুল খায়ের।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের টেলিফোন অপারেটর আবুল খায়ের।

দুর্নীতি দমন কমিশন চেয়ারম্যান বরাবরে এক কর্মচারীর করা লিখিত অভিযোগ ও হাসপাতাল সূত্রে থেকে জানা যায়, ১৯৯২ সালের ১১ জানুয়ারি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি চালু করা হয়। শুরুতে হাসপাতালের কর্মকর্তা, ডাক্তার, রেজিষ্ট্রার, অপারেশন থিয়েটার ও ১৩টি ওয়ার্ডে স্টাফ নার্সদের জন্য মোট ৭০টি টেলিফোনে সেট ছিল। অভিযোগ রয়েছে পরবর্তীতে ৫/৬টি সেট নষ্ট দেখানো হয় এবং বাকী সেট গুলি টেেিফান একচেঞ্জ মশিন ও পিএ সেটসহ সে বিক্রি কওে দেয়। পরে আবুল খায়ের নিরা টেলিকম নামে হাসপাতালের সামনে লাল মিয়া ম্যানশনে একটি টেলিফোন দোকান পরিচালণা করেন। এর টেলিফোন নম্বর ৭৬৩৪৫ ও ৬৮২৩৬। ওই নম্বর গুলি হাসপাতালের। এসব নম্বরের মাধ্যমে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা ব্যবসা করেন।

এছাড়াও হাসপাতালের টেলিফান একচেঞ্জের ১০টি হাইপাওয়ার ফুল চার্জ লাইট ছিল এসব তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। টেলিফোন একচেঞ্জ মেশিন, পি.এ সেট টেলিফোনসহ স্থাপন ব্যয় প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা: স্বপন কুমার অধিকারী এসব বিষয়ে আবুল খায়েরকে গত বছরের ১৯ মে ও ৭ আগস্ট দু’দফায় কারণ দর্শানোর পত্র দিয়ে টেলিফোন একচেঞ্জ, পিএ সেট ও টেলিফোনসেট কোথায় আছে এবং তা হাসপাতালে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য বলা হলেও তিনি এ বিষয়ে ইতিবাচক কোন উত্তর দেননি। পরে বিষয়টি গড়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পর্যন্ত।

এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে একই বছরের (২০১৯) ২৩ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আবুল খায়েরকে বদলীসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় আউনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে এখনো সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে সরকারী কর্মচারী হয়েও আবুল খায়ের ২০০১ সাল থেকে হাসপাতালের অভ্যন্তরে তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারের নামে কাপড় ধোলাই ও পথ্য সরবরাহের ঠিকাদারী কাজ করে আসছেন। স্ত্রীর নামে হাসপাতালে ঠিকাদারীর নামে রোগীদের যথাযতভাবে খাবার সরবরাহ না করে স্থানীয় দাপটের কারণে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করে আসছেন। হাসপাতালের ঠিকাদারী কার্যাদেশ ও তার স্ত্রীর নামে জমা দেয়া ট্রেড লাইসেন্স জব্দ করে এরই মধ্যে তদন্তে প্রমান পেয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক টিম ও গোয়েন্দা সংস্থা।

হাসপাতালের একাধিক সূত্র ও লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, আবুল খায়ের কতিপয় নার্স, আউটসোর্সিং ক্লিনার ও স্থানীয় দালালদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরী করেছেন। বিভিন্ন ক্লিনিকে রোগী পাঠানো, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট লোকজনের চাহিদামতো করে দেয়ার কথা বলে এবং হাসপাতাল থেকে ভূয়া জখমী সনদ বের করার বিনিময়ে অবৈধ অর্থ আয় করে যাচ্ছেন। ২০১২-১৩ সালে এই হাসপাতালের সাবেক চিকিৎসক ডাঃ জিয়াউর রহমানের প্রধান সহযোগি হিসেবে ভ’য়া জখমী সনদ বাণিজ্য করে বিপুল টাকা কামায়। সে সময় বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডাঃ জিয়ার বিরুদ্দে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও, চোখের অন্তরালে থেকে যান আসল নায়ক খায়ের।

তবে, সম্প্রতি দূনীতিদমন কমিশন তার এসব কর্মকান্ডের বিষয়ে তদন্তে নেমেছে। এসমস্ত কাগজপত্রাদি ইতিমধ্যেই আমাদরে হাতে এসেছে।

আমরা আগের পর্বেও উল্লেখ করেছিলাম যে, কিছু নামাধারী সাংবাদিককেও সে মাসুহারা দিয়ে লালন করেন। খায়েরকে নিয়ে কেউ মুখ খুললে উল্টো ওই ব্যাক্তির মানসম্মান ক্ষুন্ন করে, আজেবাজে গল্প রচনা করে, তা অখ্যাত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করান। খায়ের সম্পর্কে এমনসব চমকপ্রদ কাহিনী তথ্য প্রমাণসহ তুলে ধরবো আমাদের ধারাবাহিক পর্বগুলোতে। আমারে সাথেই থাকুন, চোখ রাখুন পরের পর্ব গুলোতে।

আমরা খবরের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, সঠিক সংবাদ পরিবেশনই আমাদের বৈশিষ্ট্য

৩০ অক্টোবর ২০২০ খ্রি. ১৪ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরি, শুক্রবার

 

You might like