ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল ও হারাম

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তায়ালার।
আর এজন্যই আমরা তার প্রশংসা করি।
তার নিকট সহায্য,ক্ষমা প্রার্থনা এবং সর্বদা তারই উপর ভরসা রাখি।
আমরা মহান প্রভুর নিকট আশ্রয় কামনা করছি।
আমাদের নফসের অন্যায় আচরণ এবং খারাপ আমলের অনিষ্ট হতে।
বস্তুতঃ-মহান আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারেনা।

আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন পৃথবীতে এমন কেউ নেই যে তাকে হেদায়েত করবে।
সুতরাং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত কোন উপস্য নেই,তিনি একক এবং তার কোন শরিক নেই।
আমরা আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)-আল্লাহর বান্দা এবং প্রিয় রাসূল।
মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে সুসংবাদদাতা ভীতি প্রদর্শক,আল্লাহ তায়ালার প্রতি আহবানকারী ও আলোদানকারী প্রদীপ রুপে সত্য ইসলামসহ প্রেরণ করেছেন।

অতঃপর হে মুসলিম ভাইগণ!
আপনারা আল্লাহর পক্ষ হতে হালাল কৃত রিযিক গ্রহন করুন।এবং মহান আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা থেকে দূরে থাকুন।
এমনকি সন্দেহযুক্ত জীবিকা সমূহ গ্রহণ করা থেকেও আপনারা বিরত থাকুন।
আশা করা যায় আপনারা মুত্তাকী হতে পারবেন।
এ অধ্যায়ে বহুসংখ্যক আয়াত ও হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ-
হে মানব সকল!
তোমরা ভক্ষণ করো জমিনে যা হালাল ও পবিত্র,
আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না,
নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণীতঃ-
তিনি বলেন জাহেলি যুগের লোকেরা অনেক কিছু ভক্ষন করতো আবার অপরিচ্ছন্ন মনে করে বহু কিছু ত্যাগ করত।
অতঃপর মহান আল্লাহ তায়ালা তার নবীকে প্রেরণ করেছেন এবং তার উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং উহার মধ্যে হালালকে হালাল বলেছেন এবং হারাম কে হারাম বলেছেন।

আর যা হতে তিনি চুপ রয়েছেন তা ক্ষমার যোগ্য।
এরপর রাসূল (সাঃ) আয়াত তেলাওয়াত করলেনঃ
হে রাসুল!আপনি বলুনঃ-
আমার নিকট যা অহী করা হয়েছে তাতে আমি ভক্ষণকারীর জন্য ভক্ষণ করা হারাম পাইনি মৃত ব্যতীত।
(আবু দাউদ)

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ)হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল (সাঃ)বলেছেন মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি পবিত্র ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করেন না।
আর তিনি মুমিনদেরকে উহার নির্দেশ দিয়েছেন যা নির্দেশ দিয়েছেন রাসূলগনকে।

আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ-
হে ঈমানদারগণ!
তোমাদেরকে আমি যে পবিত্র জীবিকা দান করেছি উহা থেকে ভক্ষণ করো,অতঃপর রাসূল (সাঃ)এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে দূর-দূরান্তে সফর করছে।
(মুসাফিরের দোয়া সাধারণত কবুল হয়)।
তার মাথার চুল এলোমেলো,শরীর ধূলায় ধূসরিত এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তি দু হাত আসমানের দিকে উঠিয়ে কাতরস্বরে হে প্রভু!হে প্রভু! বলে ডাকছেন।
কিন্তু,তার খাদ্য ও পানীয় হারাম।
পরিধেয় বস্ত্র হারাম এবং সে হারামই খেয়ে থাকে।
এই ব্যাক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে???
(মুসলিম)।

হযরত আতিয়্যা সাদী (রাঃ)-হতে বর্ণীতঃ-
রাসূল (সাঃ)বলেছেনঃ-কোন বান্দা মুত্তাকী পরহেজগারের শ্রেণীভুক্ত হতে পারে না,যতক্ষণ না সে গুনাহের কাজ হতে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে গুনাহের কাজকেও এড়িয়ে চলে।
(ইবনে মাজাহ)।

হযরত আবু উমামা (রাঃ)-হতে বর্ণীতঃ-
রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ-তোমরা গায়িকা ক্রয়-বিক্রয় করোনা এবং তাদেরকে গান শিক্ষা দিওনা,উহার মূল্য হারাম।
এ ধরনের কাজ যারা করে তাদের সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে।
এক শ্রেণীর মানুষ আছে, যারা অহেতুক কথা-বার্তা ক্রয় করে।
তাদের জন্য অপমানজনক শাস্তির কথা রয়েছে।
(তীরমিযী ও ইবনে মাজাহ)।

হযরত মেকদাদ ইবনে মা’দীকারাব (রাঃ)-থেকে বর্ণীতঃ-
রাসূল (সাঃ)-বলেছেনঃ-
কারোর জন্য নিজের হাতের উপার্জন অপেক্ষা উত্তম আহার বা খাদ্য আর নেই।
আল্লাহর নবী হযরত দাউদ (আঃ) নিজের হাতে উপার্জিত খানা ভক্ষণ করতেন।
(বুখারী)

হে আল্লাহ!
আপনি উত্তম রিজিকদাতা।আপনি আমাদের বরকতময় হালাল ও পবিত্র রিজিক দান করুন।
আল্লাহুম্মা আমিন।

লেখক পরিচিতি :

মো: রফিকুল ইসলাম।
শিক্ষার্থীঃ-ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়।

You might like