বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি সংরক্ষণে ম্যুরাল ভাস্কর্য ঘেরা এক দৃষ্টিনন্দন জনপদ শিবচর

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার প্রতিকৃতি শিবচরে খুজে পান বিশিষ্টজনেরা

মাজহারুল ইসলাম (রুবেল) :

বরেন্য সাংবাদিক শফিকুর রহমান। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বর্তমানে সংসদ সদস্য। বরেন্য এই সাংবাদিক শিবচর প্রেস ক্লাব উদ্বোধনে এসে মুক্তিযুদ্ধময় শিবচর দেখে বিমোহিত। ঢাকায় ফিরে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বক্তব্যকালে শিবচরকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলার সাথে তুলনা করেন। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি স্বনামধন্য জাতীয় দৈনিকে পদ্মার ওপাড়ে শিবচর একখন্ড সোনার বাংলা শিরোনামে বড় ধরনের ফিচারও লেখেন। পরিকল্পিত উন্নয়নের সাথে শিবচরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষনে গৃহিত পদক্ষেপগুলোকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তয়ানের প্রতিচ্ছবি হিসেবে উল্ল্যেখ করে জাতীয় সংসদে একাধিক এমপি মন্ত্রী শিবচরকে নিয়ে বক্তব্যও রেখেছেন।

অনেক মন্ত্রী এমপি শিবচরে আসেন উন্নয়ন পন্থা দেখতে। স্পীকার ড.শিরীন শারমীন চৌধুরী,আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ,বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, নাট্য ব্যক্তিত্ব সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ম.হামিদ, বরেন্য সাংবাদিক জাতীয় প্রেস ক্লাব সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, মোজাম্মেল বাবু,মনজুরুল আহসান বুলবুলসহ দেশ বরেন্য ব্যক্তি বর্গ বহু এমপি মন্ত্রীরা শিবচরকে বঙ্গবন্ধুর আর্দশের এক উজ্জ্বল জনপদ হিসেবে উল্ল্যেখ করেছেন। সবমিলিয়ে পদ্মা সেতু সংলগ্ন উপজেলাটির অধিকাংশ সড়কের মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের অসংখ্য প্রতিকৃতি যেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের এক উজ্জীবিত জনপদ শিবচর। আর এসব সম্ভব হচ্ছে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের সাধারণ সম্পাদক নুর-ই আলম চৌধুরীর উদ্যোগে।

জানা গেছে, ভৌগোলিক কারণে পদ্মা সেতু সংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার মাদারীপুরের শিবচর উপজেলাটি বহুল পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ। মহান মুক্তিযুদ্ধে এ উপজেলার বীর সন্তানদের রয়েছে অনন্য অবদান। বঙ্গবন্ধুর বড় বোন চৌধুরী ফাতেমা বেগমের ছেলে তৎকালীন প্রাদেশিক সরকারের এমপি ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদা ভাই) ছিলেন মুজিব বাহিনীর কোষাধ্যক্ষ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। বড় বোনের বাড়ির সূত্র ধরে শিবচরে বঙ্গবন্ধুর নিয়মিত পদচারণা ছিল। দাদা ভাইয়ের নির্দেশনাতেই শিবচর থেকে পার্শ্ববর্তী ৯ উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা হয়। উপজেলাটিতে ঢুকতেই একের পর এক চোখে পড়বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ও সেতুগুলো লাল-সবুজের রঙে ঢাকা রয়েছে। এ ছাড়া বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিও রয়েছে অসংখ্য স্থানে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি শেখ হাসিনা সড়কের বিজয় চত্বর, বরহামগঞ্জ চত্বর, সড়ক ৭১ সংলগ্ন ৭১ চত্বর, চৌধুরী ফাতেমা বেগম পৌর অডিটরিয়াম, আওয়ামী লীগ কার্যালয়, উপজেলা পরিষদ ভবন, পৌরসভা ভবন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী কলেজসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রবাহমান ৭১ ভাস্কর্য, স্বাধীনতাস্তম্ভ, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভ, মুক্তবাংলা, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ ,লিটন চৌধুরী স্কয়ার নামক অসংখ্য ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। রয়েছে দৃষ্টিনন্দন লালন মঞ্চ,রবীন্দ্র সরোবর,লিটন চৌধুরী অডিটোরিয়াম। বিভিন্ন স্কুল, সড়ক, সেতু, ঘাট শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করা হয়েছে। ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী দাদা ভাইয়ের নামে তোরণ নির্মাণের মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালে এ কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিলেন তারই সন্তান চিফ হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী। এসব স্মৃতিস্তম্ভে বিভিন্ন দিবসে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা জানানোয় প্রসার ঘটছে মুজিব আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, জাতীয় ও শোক দিবসগুলোতে এসব প্রতিকৃতি ঘিরে পালিত হয় নানা কর্মসূচি। বছরজুড়েই পর্যটক সমারোহ বাড়ছে দিন দিন। এ ছাড়া লাল-সবুজের সমারোহে উপজেলাটিকে করে তুলেছে মুক্তিযুদ্ধময় মুজিব আদর্শের এক অনন্য জনপদ।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোঃ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর বড় বোনের বাড়ি শিবচরের দত্তপাড়ায় হওয়ায় বঙ্গবন্ধুর ছিল আত্মার টান ছিল এ এলাকার মানুষের প্রতি। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা অনেক সময় কাটিয়েছেন এ মাটিতে। তাইতো শিবচর আজ রুপ নিয়েছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এক পুন্য ভূমিতে।

শিবচর পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খান বলেন, আমাদের শিবচর উপজেলায় যে দিক থেকেই কেউ প্রবেশ করুক তার নজরে পড়বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিসহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসসমৃদ্ধ বিভিন্ন ভাস্কর্য ও লাল-সবুজের বিশাল সমারোহ। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি শিবচরে যে পরিমাণে রয়েছে, তা বাংলাদেশের অন্য কোথাও আছে কি-না তা আমার জানা নেই।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে শিবচর সারাদেশে দৃষ্টান্ত হতে পারে।সৌভাগ্য এ ধরনের জনপদে চাকুরি করতে পেরে। শিবচরে এখন অনেকেই উন্নয়ন মন্ত্রর সাথে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের কর্মপন্থা শিখতে আসেন।

চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেরনাতেই শিবচর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সমৃদ্ধ মুক্তিযুদ্ধময় এক জনপদ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্যই বাংলাদেশ স্বাধীন হয় । তাই তার আদর্শ ধরে রাখা আমাদের দায়িত্ব। আর শিবচরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য ভূমিকা রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধে। সেই স্মৃতি সংরক্ষণ করার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম বেড়ে উঠছে।

You might like