ইসলামের দৃষ্টিতে গান-বাদ্যের নিষিদ্ধতা ও অপকারিতা

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তায়ালার।
আর এজন্যই আমরা তার প্রশংসা করি।
তার নিকট সহায্য,ক্ষমা,প্রার্থনা এবং সর্বদা তারই উপর ভরসা রাখি।
আমরা মহান প্রভুর নিকট আশ্রয় কামনা করছি।
আমাদের নফসের অন্যায় আচরণ এবং খারাপ আমলের অনিষ্ট হতে।
বস্তুতঃ-মহান আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারেনা।

আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন পৃথবীতে এমন কেউ নেই যে তাকে হেদায়েত করবে।
সুতরাং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত কোন উপস্য নেই,তিনি একক এবং তার কোন শরিক নেই।
আমরা আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)-আল্লাহর বান্দা এবং প্রিয় রাসূল।
মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে সুসংবাদদাতা ভীতি প্রদর্শক,আল্লাহ তায়ালার প্রতি আহবানকারী ও আলোদানকারী প্রদীপ রুপে সত্য ইসলামসহ প্রেরণ করেছেন।

অতঃপর হে দ্বীনি ভাইয়েরা আমার!
সাধ্য অনুযায়ী পরিপূর্ণ ইসলামের বিধান অনুসরণ করুন।
দ্বীন ইসলামে কোন প্রকার অশুভ বিদয়াত সৃষ্টি করবেন না।কেননা,তা প্রকাশ্যে মারাত্মক গুমরাহী ব্যতীত আর কিছুই নয়।
আর আপনারা ছায়াছবি নাট্যানুষ্ঠান-থিয়েটার বাজে কোন প্রকারের বাদ্যযন্ত্র ও নাচ-গান হতে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।কেননা,এসব কিছুই মানুষকে সঠিক পথ থেকে দূর করে শয়তানের দলের সদস্য বানায়।

মহান আল্লাহ তায়ালা এ প্রসঙ্গে ইরশাদ করেনঃ
তোমরা কি এ কুরআনের বাণী শুনে আশ্চর্য বোধ করছো নাকী হাসছোঁ???
কিন্তু,ক্রন্দন করছ না।
বরং গান-বাদ্য ও সুর লহরীতে লিপ্ত আছো।

হযরত ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ) বর্ণিত, রাসূল (সাঃ)-বলেনঃ-আমার উম্মতের মধ্যে কতিপয় মানুষকে জমিনের গর্ভে গ্রোথিত করণ অন্য আকৃতিতে রূপান্তরিত করণ ও শিলা পাথর বর্ষণ সংঘটিত হবে।
এতদশ্রবণে জৈনিক সাহাবী আরজ করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ এটা কবে ঘটবে???
তিনি উত্তরে করলেনঃ- যখন সমাজে বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকাদের প্রাধান্য সৃষ্টি হবে এবং অধিকহারে মদপান চলবে।
(তীরমিযী)।

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ)-হতে বর্ণীত,রাসূল (সাঃ)-বলেন শেষ যুগে আমার উম্মতের মধ্য হতে একদল লোকের আকৃতির বিকৃতি ঘটবে।
সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ!
তারা কি তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য দিবেনা???
প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সাঃ)-বলেনঃ-হ্যাঁ,

তারা রোজা রাখবে,হজ্ব করবে এবং নামাজও পড়বে। প্রশ্ন করা হলো তাহলে উক্ত শাস্তি কেন???
তিনি উত্তর দিলেন-তারা বাদ্য-যন্ত্র ও গায়িকাদের অনুষ্ঠান পরিচালনা করবে।
(ইবনে আবি দুনিয়া)।

হযরত জাবের (রাঃ)-হতে বর্ণীতঃ-তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ)-ইরশাদ করেনঃ-গান মানুষের অন্তরে নেফাক (শঠতামী) শয়তান সৃষ্টি করে।
যেমন-পানি সৃষ্টি করে ফসলাদি।
(বায়হাকী শরীফ)।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ)-হতে বর্ণীতঃ-তিনি বলেন রাসূল (সাঃ)-ইরশাদ করেনঃ-গান-বাদ্য শ্রবণ করা গুনাহ,ইহার আসরে বসা ফাসেকী এবং ইহার স্বাদ অন্তর দিয়ে আস্বাদন করা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।
(ইবনে মাজাহ)।

হযরত নাফে আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ)-হতে বর্ণীতঃহযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ)-তাকে এ মর্মে সংবাদ দেন যে,রাসূল (সাঃ)-বলেনঃ-নিশ্চয় যারা এসব ছবি বা প্রতিকৃতি তৈরী করে কেয়ামত দিবসে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে এবং বলা হবে তোমরা যে সব জীব-জন্তুর ছবি তৈরি করেছিলে সেগুলোর মধ্যে জীবন দান কর।
(একথা প্রকাশ্য যে,তারা জীবন দান করতে পারবে না বিধায় তারা শাস্তির অধিকারী হবে)।
(বুখারী ও মুসলিম)।

কাফেরদের মধ্যে একশ্রেণীর লোক এমন আছে,
যারা বেহুদা কথাবার্তা (গান-বাজনা) খরিদ করছে।
এর দ্বারা তারা না জেনে-শুনে মানুষকে পথভ্রষ্ট করে চলছে।
আর তারা কুরআন পাকের আয়াতগুলো নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করছে।
নিশ্চয় এদের জন্য লাঞ্ছনাকারী ও অপমানজনক শাস্তি রয়েছে।
(সূরা লোকমান-৬)।

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে পবিত্র কুরআনের বরকত দান এবং শয়তানের যাবতীয় ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুক।
আল্লাহুম্মা আমিন।

মোঃ-রফিকুল ইসলাম।
শিক্ষার্থীঃ-ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়।

You might like