পঞ্চগড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলার দাবিতে অনশন

এন এ রবিউল হাসান লিটন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ে জাতীয় বাজেটে কিন্ডার গার্ডেন শিক্ষকদের জন্য অর্থ বরাদ্দ এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবীতে প্রতীকী অনশন করেছে জেলার কিন্ডার গার্ডেনের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

৯ জুন (বুধবার) সকাল ১০টায় পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ কিন্ডার গার্ডেন এসোসিয়েশন পঞ্চগড় শাখার আয়োজনে বেলা দশটা থেকে বারোটা পর্যন্ত দুই ঘন্টাব্যাপি প্রতীকী অনশন করেছে শিক্ষক শিক্ষিকাগন।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কুড়িটি কিন্ডার গার্ডেনের শিক্ষক শিক্ষিকারা দাবী সম্বলিত ব্যানার লাগিয়ে অনশন করেন। এদিকে অনশনের খবর পেয়ে বেলা ১২ টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছুটে আসেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম। তিনি শিক্ষকদের দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে একই সাথে তাদের দাবীগুলো নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্তাদের সাথে আলোচনা করার আশ্বাস দেন। পরে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান।

অনশনে জেলার কিন্ডার গার্ডেনের প্রায় ১৫০ জন শিক্ষক শিক্ষিকা অংশ নেয়। এ সময় বাংলাদেশ কিন্ডার গার্ডেন এসোসিয়েশনের পঞ্চগড় শাখার সভাপতি জিল্লুর রহমান, সাধারন সম্পাদক দিলিপ কুমার সরকার, জেলা কিন্ডার গার্ডেন সোসাইটি এর সভাপতি সোয়েব আলী সবুজ, শিক্ষক নেতা রাজিউর রহমান, পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম বক্তব্য প্রদান করেন।

বক্তারা জানান, কিন্ডার গার্ডেন শিক্ষকরাও এদেশের নাগরিক। যদি কিন্ডার গার্ডেন না থাকে তাহলে দেশের শিশুদের একটি অংশ লেখাপড়া থেকে ছিটকে পড়বে। কারন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দেশের সকল শিশুদের পাঠদানের মত জায়গা নেই। স্বাধীনতার এত বছর পরেও কিন্ডার গার্ডেন শিক্ষকরা এখনো জাতীয় বাজেটে বরাদ্দের অর্ন্তভুক্ত হয় নাই।

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করে শিক্ষকরা বলেন স্বাধীনতার এত বছর পরেও কিন্ডার গার্ডেন শিক্ষকরা স্বল্প পারিশ্রমীকে শিশুদের শিক্ষা দিয়ে আসছেন । কিন্তু শিক্ষকের মর্যাদা এখনো পায়নি বলেও জানান শিক্ষকরা। করোনাকালীন সময়ে শিক্ষকদের জীবন চরম বিপাকে পড়েছে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে। এজন্য অনতিবিলম্বে জাতীয় বাজেটে আর্থিক বরাদ্দের দাবী জানায়। বর্তমানে করোনা নিয়ন্ত্রনে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করেছে। কিন্তু কিন্ডার গার্ডেন শিক্ষকরা চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। যদি সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে না দেয় তাহলে প্রতি মাসে আমাদের আর্থিক সহযোগীতা করা হউক। এসময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া জোর দাবী জানায় বক্তারা।

You might like