হাজীগঞ্জ বাজারে যানজটের প্রধান কারন মার্কেটগুলোতে পার্কিং ব্যবস্থা না থাকা

জহিরুল ইসলাম জয় :

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে যানজটের প্রধান কারন দুই পাশে গড়েতোলা মার্কেটগুলোতে গাড়ী পার্কিং এর ব্যবস্থা না থাকা। এমনটাই মনে করছেন ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা ও সচেতন মহল। আর এর দায় কি বিল্ডিং কোড আইনে পৌরসভা নাকি সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকদের তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে!

হাজীগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহন সমিতির তথ্যমতে দৈনিক বিভিন্ন সড়কে কয়েক হাজার ছোট বড় গাড়ী চলাচল করছে। তার মধ্যে
সিএনজি চলাচল করে প্রায় দেড় হাজার, অটোরিক্সা চলে পাঁচ শতাধিক, বাস মিনি বাস, ট্রাক চলে কয়েক শতাধিক, মাইক্রো চলাচলের হিসাব সঠিক না থাকলে ছোট বড় দৈনিক হাজার হাজার যানবাহন হাজীগঞ্জ বাজারের উপর দিয়ে চলাচল করে আসছে। এসব গাড়ীর মধ্যে বিশেষ করে বাস, সিএনজি, অটোরিক্সা হাজীগঞ্জ বাজারের মধ্যে প্রতিনিয়ত যাত্রী উঠানামা করে আসছে। তার পাশাপাশি বিভিন্ন মার্কেটে আসা ক্রেতাসাধারণ সড়কের উপর গাড়ী রেখে মালামাল উঠানামার ফলে যানজটের আকার বৃদ্ধি পাচ্ছে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ অনেক সময় কাজ করতে গিয়ে বেসামাল হয়ে পড়ে।

হাজীগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশ এর তথ্যমতে, হাজীগঞ্জ বাজারে বিশ্বরোড, ডিগ্রী কলেজ, মডেল কলেজ ও আমিন রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যে পরিমান ট্রাফিক পুলিশ প্রয়োজন সেই পরিমান জনবল নেই। বর্তমানে ট্রাফিক পুলিশের ৮ জন কনস্টবল, এটিএসআই ও টিআইসহ মাত্র ১০ জন বিভিন্ন শিপ্টে কাজ করে যাচ্ছে। গত কয়েক দিনে ঈদের মার্কেটে আসা মানুষের চাপে যানবাহন ব্যাপক বেড়ে গেছে। বাজারে এতো যাত্রীবাহী গাড়ী প্রবেশ করায় ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে যানজট নিয়ন্ত্র করতে গিয়ে অনেকটা হিমসিমে পড়তে হয়। ঈদকে কেন্দ্রকরে হাজীগঞ্জ পৌরসভা ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে কিছু স্বেচ্ছাসেবী টিম কাজ করলেও যানজট নিরসনে ব্যর্থ হয়ে পড়েছে।

ট্রাফিক বিভাগ ও সচেতন মহল মনে করছেন হাজীগঞ্জ বাজারের যানজটের জন্য সব চেয়ে বড় দায়ি দুই পাশের বড় বড় মার্কেটের সামনে কোন পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায়। এসব মার্কেটের ক্রেতা বিক্রেতাদের গাড়ী সড়কের পাশে রেখে নানা সময় ব্যয় করে কেনাকাটা করে আসছে। সেই সাথে মার্কেটের সামনের দোকানদার অর্থের বিনিময়ে হকার বসিয়ে যানজট সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে হাজীগঞ্জ বাজারের মার্কেটের চিত্র ঘুরে দেখা যায়, পশ্চিম বাজারের রাফা টাওয়ার, শেখ সিটি মার্কেট, কাতার কানাডা টাওয়ার, মফিজউদ্দিন শেখ মার্কেট, পপুলার হাসপাতাল এন্ড মেডিসিন কর্ণার, পৌর বিপনি বিতান, গাউছিয়া মার্কেট, রয়েল সুপার মার্কেট,
মকিমউদ্দিন শপিং কমপ্লেক্স , হাজীগঞ্জ টাওয়ার মার্কেট, পৌর সুপার মার্কেটসহ ছোট বড় প্রায় অধ্যশত মার্কেট গড়ে উঠেছে। তাদের মধ্যে শেখ সিটি, কাতার কানাডা ও মকিমউদ্দিন শপিং কমপ্লেক্স এর নিচে পাকিং ব্যবস্থা রাখলেও সেখানে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন সুপার সোপ।

হাজীগঞ্জ রয়েল মার্কেটের মালিক হাবিবুর রহমান জীবন বলেন, বিল্ডিং কোড আইন কয়জনে মানে। আমারা যারাই মার্কেটের মালিক তাদের তেমন ব্যক্তিগত গাড়ী না থাকায় হয়তো পাকিং ব্যবস্থার কথা মাথায় আসেনি।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার টিআই মাহফুজ মিয়া বলেন, দেশের ছোট বড় শহরে গড়ে উঠা বহুতল মার্কেটে নিজন্ব পাকিং ব্যবস্থা থাকলেও হাজীগঞ্জে এর ব্যতিক্রম। কয়েকটি মার্কেটের নিচে পার্কিং থাকলে সেখানে গড়ে উঠেছে সুপার সপ মার্কেট। তাদের কাস্টমারের গাড়ীগুলো সড়কে ঘন্টার পর ঘন্টা অবস্থান নিতে দেখা যায়। যে কারনে যানজট আরো বেড়ে যায়।

হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক হায়দার পারভেজ সুজন বলেন, এ দায় পৌরসভা এড়াতে পারে না। গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা না নিলে পৌরসভা কিভাবে অনুমোদন দেয়। আমরা ব্যবসায়ীরা কাজ করে যাচ্ছি যানজট নিরসনে।

হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আ. স. ম মাহবুব-উল আলম লিপন বলেন, পৌরসভা থেকে বিল্ডিং করার সময় পাকিং এর ব্যবস্থা দেখালেও পরবর্তী তা আর মানে না। আমরা ইতিমধ্যে কয়েকটি মার্কেটের মালিককে নোটিশ দিয়েছি, প্রয়োজনে বিল্ডিং কোড আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যানজট সৃষ্টিতে মার্কেটের সামনের দোকানদার প্রধানত দায়ি। দোকানের সামনে হকার বসিয়ে তাদের কাছ থেকে দৈনিক ৩/৪ শ টাকা নেওয়ার অভিযোগ আছে। ঈদ উপলক্ষে দৈনিক পৌরসভা থেকে ৫/৬ জন লোক যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে।