

বন্ধুত্ব হচ্ছে স্বচ্ছ-সুন্দর ও পরিপূর্ণ জীবনের অধিকারী করে তোলার ত্রাণ কর্তা। অনেকগুলো জীবন প্রাণ চাহিদার অনুকুলে অনুভূতি নিয়ে বাস্তব দৃষ্টি কোন থেকে সমবেত হয়ে জীবন ধারন করার চেষ্টাই বন্ধত্ব। বিপরীত শত্রুতা বলতে কিছুই নেই। মানুষের কোনঠাসা আচরণ মাত্র। তবুও বন্ধুত্বের বিপরীতে শত্রুতাকে গা-ঢাকা দেওয়া যায় না। যেহেতু দু’টি শব্দই সামাজিক দায়বদ্ধতার অধীনে তাই কিছু কথা বলতে হয়।
বন্ধুত্ব সৃষ্টি পরস্পরকে সমবেত জীবনের অধিকারী করে তুলে। বিপর্যস্থ ও বিদ্বগ্ন হতাশা আর আহুত কন্টক বেড়ী চিন্ন করে বন্ধুত্ব বাস্তবতার উদারমঞ্চ তৈরী করে। যার মধ্যে লুকায়িত মায়া-মমতা, উদারতা ও মানবতা। তাই সব সময় বলে থাকি, যার যত বেশি বন্ধু থাকে, তার জীবন ততো বেশি নিরাপদ। বন্ধুত্ব মানে হচ্ছে, একাধিক মনের প্রঝন্ন দৃষ্টি ভঙ্গিও একছেত্র প্রকাশ ঘটানো। প্রকৃত বন্ধুকে বন্ধুর প্রতি নিবেদিত প্রাণ হতে হয়। এতে বন্ধুত্বের প্রসন্নতা বৃদ্ধি পায়। যদি বন্ধুত্ব স্বার্থহীন হয় সে বন্ধুযুগল পৃথিবীর সকল দুর্জয়কে বিজয়ের একমঞ্চে দাড় করাতে পারে। এজন্য মানুষের জীবনে অনেক বন্ধুত্বের গুরুত্ব সীমাহীন।

একজন মানুষের জীবনে অনেক বন্ধু থাকা ভালো। তবে ভালো বন্ধু থাকাই ভালো। প্রশ্ন হতে পারে ভালো বন্ধু কাকে বলে? একথা সত্য, কলি যুগে ভালো বন্ধু পাওয়া মুশকিল। ডোমরের ফুল যেন। ফলটা দেখা যায়, দেহের মধ্যে যে ফুল রয়েছে, সেটা বুঝে উঠা মশকিল। বন্ধুত্বের মধ্যেও এরকম একটা বৈশিষ্ট্য আছে – যা দেখা যায় না। কিন্তু অনুমান করা যায়। অনেকের জ্ঞানে বন্ধুত্বের ব্যাখ্যা গো-জামিল। অনেক সাহিত্যিক – গবেষকরাও বিশেষনে যেতে চান না। বন্ধুকে বন্ধুর ভালো মন্দ সব বিষয়ে উদারনীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বন্ধুত্বের ধর্ম। দু’টি মনের একক অনুভূতি ও তার প্রকাশনাই বন্ধুত্ব। এরকম ব্যাখ্যা দিলে ভুল হয় না।
বন্ধুদের মধ্যে একপক্ষ অন্য পক্ষে উদারচিত্ত দ্বারা হতাশাগ্রস্থ ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা অর্জনে উৎসাহিত করা, এমনকি সর্বপরি বিপদ আপদে একান্ত কাছে থকে সহযোগীতা করা। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে অন্তত সহমর্মিতা প্রদর্শন করাও বন্ধুত্বের মধ্যে পড়ে। ভালো-মন্দের কথা তুললে অনেকে বন্ধত্বকে খর্ব করা হচ্ছে – বুঝতে পারেন। বন্ধুত্বের মধ্যে মন্দের স্থান কোথায়? সব ধরনের মন্দকে বর্জন করা সব মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু বন্ধু যখন মন্দ কাজে জড়িয়ে পড়ে ; তখন অবশ্য মন্দকেই বর্জন করতে হবে- বন্ধুকে নয়। এবং বন্ধুর এরকম কার্যকলাপ থেকে ফিরিয়ে ভালো কাজে উৎসাহ আপনাকেই দিতে হবে। ভালো কাজে আমরা অনেকেই উৎসাহ দেইনা। আবার কাজকে নয়; কাজীকেই বর্জন করার চেষ্টা করি। এভাবে বন্ধুত্বের বিপরীতে শত্রুতার সৃষ্টি হয়। জনৈক ভদ্রলোককে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘বন্ধুত্বের সজ্ঞা কি?
’ ভদ্রলোক কোনঠাসা জবাব দিলেন, ‘ বন্ধুত্বকে সংজ্ঞায়ীত করা যায় না। ’ শিক্ষিত মুখে এমন উত্তর হলে চিন্তিত হওয়ার কারন থাকে। ভদ্রলোক বলেন, বন্ধত্ব হয় প্রাকৃতিক দৃষ্টি কোন থেকে। আমার মনে হচ্ছে ভদ্রলোকের উক্তির মধ্যে কোথাও ভুল আছে। প্রাকৃতিক দৃষ্টি কোন থেকে বন্ধুত্ব সৃষ্টির প্রেরণা থাকতে পারে কিন্তু বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয় একথা নিলজ্জের মত দাবী করতে পারি না। অবশ্য এক্ষেত্রে ব্যাক্তির দৃষ্টি ভঙ্গি ুযত উদার ও নমনীয় হয়, তার পক্ষে সেটা ততো কল্যাণকর।
নিয়ত শুদ্ধ হলে কাজের ধারাবাহিকতা সুন্দর হয়। বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে না, প্রকৃতির রক্ষণাবেক্ষণ সভ্যতা সৃষ্টির বাহক। যেখানে প্রকৃতি উদার, সেখানে মানবীয় সভ্যতার সৃষ্টি হয়। প্রকৃতির বে-মানান সৃষ্টিই উগ্রতার লক্ষণ। তবু নৈতিকতা ও উগ্রতাকে প্রকৃতির দায়বদ্ধতার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যাবে না। উদায্য ও উগ্রতা উভয়েই প্রকৃতি কেন্দ্রিক সৃষ্টির খেলা। যদিও প্রকৃতির সৃষ্টি থেকে উদায্য -উগ্রতা বা বন্ধ-ুশত্রুও মধ্যে অনেকটা মিল আছে। প্রকৃত পক্ষে মানুষের কল্যাণে মানুষ প্রকৃতিকে সুন্দর করে সাজাতে পারে। মানুষের সুন্দও উপলব্দি বোধ ও চেষ্টাই হচ্ছে চার পাশের প্রকৃতির সৌন্দর্যও শৃংখলাবদ্ধতা।
ঠিক তেমনি মানুষের অনুভূতি ও সমবেত আচরণের শৃংখলাবদ্ধতা হচ্ছে বন্ধুত্বের উপমা। বিশ্বস্থতা হচ্ছে বন্ধুত্ব সৃষ্টির প্রথম শর্ত। প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রে বিশ্বাস আত্নার উন্নতর ক্রম বিকাশ ঘটায়। যার নিজের প্রতি বিশ্বাস আছে, তার কর্মেও সফলতা নিশ্চয় হয়। আর বন্ধুর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস জীবনকে নিরাপত্তা করে তুলা সহজ হয়। এক্ষেত্রে একের লাঠি দশের বোঝা গল্পটা অনুকরনীয়।
যে বন্ধত্বের বিশ্বাস নেই, তার বন্ধুরুপি চরিত্রে স্বার্থ থাকে। অথচ স্বার্থেও বিপরীতে শত্রুতার প্রশ্ন আসে। নিঃস্বার্থ বন্ধু যেমন করে একে অন্যের সহযোগীতা জীবন ও মানকে উন্নত করতে স্বার্থক হয়, সংসার ও সমাজকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে পাওে – তেমনি স্বার্থের বন্ধু সব কিছুই চুলোর গচ্ছা দিতে পারে।
কথার জোরে বন্ধুত্ব হয়, কিন্তু চরিত্রে শোভা পায় না। আপনী দেখবেন, কোন স্বার্থান্বেষী বন্ধু হতে চায়। কিন্তু আপনার চরিত্রের সঙ্গে তার চরিত্রের মিল হয় না। কারন হলো, আপনার চরিত্র স্বার্থহীণ ু বন্ধুর চরিত্রে স্বার্থের অন্বেষণ। ফলে দু’ মেরুর বস্তু এক স্পর্শে আসে না। স্বার্থপর বন্ধুর চরিত্র অভিনয়ের মত – যা সহজে অনুভূতির কাজে ধরা পড়ে। সম্পতি স্বার্থই পরে বিচ্ছেদ ঘটায়। বন্ধুত্বের উদ্দেশ্য দেখা যাচ্ছে। স্বার্থের জন্য বন্ধু হয়; স্বার্থেও পওে বিচ্ছেদ ঘটায়। বন্ধুত্বের ফাকি বাজি, ধড়িবাজি ও প্রতারনা যেন নিয়মসিদ্ধ হয়ে পড়েছে। স্বার্থেও কাছে বিশ্বস্থতা দায়বদ্ধ এবং বিশ্বস্থতা বন্ধুত্বের কাছে দায়বদ্ধ-এমন যদি হয় তা বন্ধুত্ব এর ভবিষ্যত কি হতে পারে নিশ্চয়ই ভেবে দেখা দরকার। বন্ধুত্বে প্রবল আন্তরিকতা ও বিশ্বাস থাকতে হয়। বন্ধু হবেন? আগে বিশ্বাস করুন এর অপরকে বিশ্বাস করতে সুযোগ দিন।
আপনার বন্ধুত্ব চিরস্থায়ী শিরোধার্য হবে। বন্ধুত কার স^াথে করবেন? ভেবে দেখুন, কে আপনাকে বিশ্বাস করে এবং তাকে আপনি কতটা বিশ্বাস করেন। বিশ্বাস যদি অনুভূতিকে জাগ্রত না করে তবে সেটা প্রকৃত বিশ্বাসের পর্যায়ে পড়ে না। বাবা-মা, বোন – ভাই এমনকি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও বন্ধুত্বের প্রভাব থাকা চাই। কেননা সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয় কিন্তু বন্ধুত্ব নষ্ট হয় না। বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের অভাবে সব সম্পর্ক চুলোয় যেতে পাওে – তাই রক্তের চেয়ে বন্ধুত্বকে বিশ্বাসের সঙ্গে গুরুত্ব দিতে হয়। প্রতিবেশী-পরিজন, আত্নীয় স্বজনদের মধ্যে অনেকেই বন্ধুত্বেও যোগ্যতা রাখে। শুধু মাত্র বিশ্বস্ত দৃষ্টিভঙ্গিই যোগ্যতা যাচাইয়ের একমাত্র অবলম্বন। ১৯/১০/২০১১
প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ খ্রি.














