মাঝ রাতে আকাশ দেখতে ইচ্ছে হলো : সোহানুর রহমান অনন্ত

রাত ১টা বেজে ২০মিনিট। খোলা জানালা দিয়ে বয়ে আসছে দখিনা বাতাস। কোন এক অজানা টানে জোনাকিরা ছুটে যায় আঁধারের পথ ধরে। নিশি ফোটা ফুলেদের বুকে শিশির দল বাসা বাধতে শুরু করেছে। তাই দেখে সবুজ ঘাসের মরিচীকা স্বপ্নগুলো আর স্বপ্ন দেখায় না। সুবজ ধান গুলো পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে, খোলা মাঠ জুড়ে কেবলই অন্ধকার আর অন্ধকার। দৈত্যর মতো দাড়িয়ে থাকে বড় বড় বৃক্ষগুলো, আমারী মতো ওরা বড় একা।

কেউ কি জেগে আছে? মাঝ রাতের এই মায়াজালে জড়ানো পৃথিবীর বুকে। জানতে ইচ্ছে করে খুব বেশি জানতে ইচ্ছে করে। আমারী মতো কেউ কষ্টের ফুল হয়ে ফুটেছে কিনা।

নরম বিছনায় কিংবা শক্ত ইটে মাথা রেখে হয়তো সুখের ঘুম ঘুমাচ্ছে অনেকেই। আমার চোখেই কেবল ঘুম নেই, চোখের পাতা দুটো আমাকে অভিষাপ দিয়ে মরে সারাক্ষণ, কেন ওদের মিলন ঘটাই না। আমার হৃদয়ের সপ্তডিঙ্গাই প্রতিনিয়ত কত বেদনার বোঝা আমি বয়ে বেড়াচ্ছি তা এই জগতের কেউ জানেনা। ভালবাসার মহাপ্রলয়ের আঘাতে আমার স্বপ্ন দিয়ে সাজানো তরী আমার চোখের সামনে ডুবে গেছে। আমার হাতে গড়া আমার সব সুখ স্মৃতি হয়ে আমার ধূসব মনের মাঝে চাপা দেওয়া কষ্ট গুলো জাগিয়ে তোলে। আজ আমি বিশ্বাস করতে ভুলে গেছি, ভুলে গেছি কাউকে আপন করতে। রাতের নিরবর্তা ভেঙে উড়ে যায় বাদুরের দল।

এক অন্য শিহরণে কেপে উঠে আমার সমস্ত শরীর। ঐ তো সেই মায়াবতী তরুণীর পায়ের নুপুরের শব্দ শোনা যায়। এই নুপুরের সুর আমার যুগ যুগ ধরে চেনা। এই তো মনে হয় সেদিনও এই নুপুরের শব্দে ভালবাসার স্বর্গ রচে ছিলাম। কবি হয়ে কবিতা লিখেছিলাম। আজ……..আজ আর সেই সুর নেই…..নেই সুর তোলার মানুষটি। আমার বুকের ভেতর অশান্তির ঝড় তুলে সেই সুর থেমে গেছে। তার কথা মনে পড়লে শুরু হয় ঘুনপোকাদের সুখ কাটার শব্দ। জানালা দিয়ে যত দুর চোখ যায় খোলা মাঠ আর অঁধারের মহাস্রোত।

আমার এই একলা জীবনে চলন্ত রেলগাড়ি হয়ে দেখা দিয়েছিলো সে। এলোই আমার জীবনে দাড়ালো না, ক্ষণিকের জন্য এলো আবার হারিয়ে গেলো। শুধু আমায় তলিয়ে দিয়ে গেলো অঁন্ধকারের গহীন সাগরে। তারপর থেকে এই একা আমি আরো একলা হয়ে গেলাম। অনেক দিন দু’চোখ ভরে আকাশ দেখিনা, আমার প্রিয়ার প্রিয় রং ছিলো নীল। তাইতো আকাশ আর আমার প্রিয়ার মাঝে কোন পাথক্য করতাম না। আকাশ ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায় আর আমার প্রিয়া সুযোগ বুঝে রং বদলায়। আজ এই মাঝ রাতে কেন যেন বড্ড বেশি আকাশ দেখতে ইচ্ছে করছে। হয়তো আমার প্রিয়া এই সময় কারো হাতে হাত রেখে আকাশের সুখ তারা গুনছে।

ঘর ছেড়ে ছাদের উপর উঠে এলাম। নিঃশ্বব্দ পৃথিবীর বুকে কত সুখ আর কত দুঃখের হিসেবের কষাকষি। অথচ মাঝ রাতের এই আকাশটার দিকে তাকালো মনে হয়। এই পৃথিবীটা কত সুখের, কত সুখ ভরা মানুষের মন। প্রিয়তমার কালো কেশের মতো মেঘ উড়ে যায়। দু হাত বাড়িয়ে আকাশটাকে ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে হয় আমার। ইচ্ছে হয় চিৎকার করে বলি জীবন কেন এতো কষ্টের হয়। যে কষ্ট কাউকে বলা যায়না, আবার হৃদয় মাঝে পুষেও রাখা যায় না। বৃক্ষের মতো কেবল তা সয়ে যেতে হয় নিরবে। আঁধারকে ভালবাসার সঙ্গী ভেবে হাত বাড়ালাম, কিন্তু শূণ্য হাত শূণ্যই রয়ে গেলো। মেঘের আড়ালে চাঁদ হারিয়ে গেছে।

আবারো আঁধারের সাগরে হারিয়ে গেছে পৃথিবী। চোখ বেয়ে আমার অশ্রু কণাগুলো ঝড়ে পড়ে মাটির বুকে। যেমন আজ সুখের ভ’বণে ঝড়ে পড়ে আমার প্রিয়তমার সুখগুলো। থেমে যেতে চায় নিঃশ্বাস, যেমন অন্য কারো জীবনে থেমে গেছে আমার প্রিয়ার চলন্ত মন। জমে থাকা কষ্টগুলো বার বার ফিরে আসে শুধু ফিরে আসেনা আমার জীবনে সুখের দিন গুলো।

শত দুঃখের মাঝে আমি বেঁচে আছি যেমন বেঁচে থাকে আজীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, কষ্টে কাতর জোনাকির দল, দলছুট মেঘ আর একলা বয়ে চলা নদী। জীবন আজ আমার ঝড়া পাতার মতো। তবু আজ স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে হয়। ইচ্ছে হয় মাঝ রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে, প্রিয়ার হাতে হাত রেখে বহুদুর হেটে যেতে।

প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy