সিগারেট নিষিদ্ধ না করে কর বাড়িয়ে কি তামাক ব্যবহারের প্রবণতা রোধ করা যাবে?

তামাক ও সিগারেট ব্যবহার বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ ধূমপানের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় এবং মৃত্যুবরণ করে। সরকার ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরে এ নিয়ে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন। প্রশ্ন হচ্ছে—সিগারেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ না করে কর বাড়ানো কি তামাক ব্যবহারের প্রবণতা কমাতে কার্যকর হতে পারে?

কর বৃদ্ধির প্রভাব

মূল্য সংবেদনশীলতা : গবেষণায় দেখা গেছে, সিগারেটের দাম বাড়ালে বিশেষ করে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ ধূমপান কমিয়ে দেয়। অর্থনৈতিক চাপ তাদেরকে ধূমপান থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে, তামাক নিয়ন্ত্রণে কর বৃদ্ধি সবচেয়ে কার্যকর নীতি। অনেক দেশে কর বাড়ানোর ফলে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমেছে। যেমন, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডে কর বৃদ্ধির পর ধূমপায়ীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট : বাংলাদেশে সিগারেট তুলনামূলকভাবে সস্তা। কর বাড়ালে ব্যবহারকারীদের জন্য এটি আর্থিক চাপ তৈরি করবে এবং ধূমপান কমতে পারে। তবে কর বৃদ্ধির পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।

সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ

অবৈধ বাজার : কর বাড়ালে চোরাচালান ও অবৈধ সিগারেট বাজার বাড়তে পারে। এতে সরকার রাজস্ব হারাবে এবং জনস্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আসক্তি : দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও নিকোটিন আসক্তির কারণে অনেকেই দাম বাড়লেও ধূমপান চালিয়ে যায়। তাই শুধু কর বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়।

সামাজিক প্রভাব : শুধু কর বাড়ানো যথেষ্ট নয়; সচেতনতা, শিক্ষা ও বিকল্প বিনোদনও প্রয়োজন। সমাজে ধূমপানকে অগ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে।

নিষেধাজ্ঞা বনাম কর বৃদ্ধি

সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা : বাস্তবায়ন কঠিন, কারণ এতে কালোবাজার বাড়তে পারে এবং সামাজিক প্রতিরোধ তৈরি হতে পারে।

কর বৃদ্ধি : তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। তবে এটি এককভাবে যথেষ্ট নয়; জনসচেতনতা, বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণও জরুরি।

সম্ভাব্য সমাধান

ক্রমাগত কর বৃদ্ধি: প্রতি বছর ধাপে ধাপে কর বাড়ানো।

জনসচেতনতা কর্মসূচি: স্কুল, কলেজ ও গণমাধ্যমে ধূমপানের ক্ষতি তুলে ধরা।

বিকল্প কর্মসংস্থান: বিড়ি ও তামাক শিল্পে কর্মরতদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি।

কঠোর আইন প্রয়োগ: জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিষিদ্ধ করা এবং আইন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ: ধূমপান ছাড়তে ইচ্ছুকদের জন্য কাউন্সেলিং ও চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো।

আন্তর্জাতিক উদাহরণ

অস্ট্রেলিয়া: কর বৃদ্ধি ও প্যাকেটের গ্রাফিক সতর্কীকরণ একসাথে প্রয়োগ করে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমিয়েছে।

যুক্তরাজ্য: কর বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা প্রচারণা একসাথে চালিয়ে ধূমপান কমিয়েছে।

থাইল্যান্ড: কর বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা কর্মসূচি একত্রে প্রয়োগ করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।

বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র

বাংলাদেশে প্রায় ৩৫% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে। কর বৃদ্ধি করলে নিম্ন আয়ের মানুষ ধূমপান কমাতে বাধ্য হবে। তবে ধূমপান ছাড়তে সহায়তা প্রদান জরুরি।

সিগারেট নিষিদ্ধ না করে কর বাড়ানো একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে, তবে এটি এককভাবে যথেষ্ট নয়। কর বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসচেতনতা, আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক উদ্যোগ একসাথে নিতে হবে। তবেই তামাক ব্যবহারের প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।

কর বৃদ্ধি কার্যকর, তবে এককভাবে যথেষ্ট নয়। জনসচেতনতা, আইন প্রয়োগ ও বিকল্প কর্মসংস্থান জরুরি। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের বাস্তবতায় কর বৃদ্ধি একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

প্রকাশিত : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy