কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কুড়িগ্রামে সংবাদ সম্মেলন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকের ছড়া ও সোনাহাট এলাকায় সার বিতরণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং কৃষকদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে কৃষকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন “সচেতন কৃষক”।

আজ সোমবার বিকেল ৫টায় কুড়িগ্রাম শহরের ঘোষণা পাড়াস্থ ভূমি মালিক সমিতির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর সোনাহাট রোডের শহীদ মোড় বাজারে সার বিতরণের সময় স্থানীয় সার ডিলার ও সংশ্লিষ্ট ব্লক সুপারভাইজারের ধীরগতিতে সার বিতরণ, দীর্ঘ সময় কৃষকদের অপেক্ষায় রাখা এবং স্বজনপ্রীতির কারণে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়।

বক্তারা বলেন, দিনভর কৃষকদের অপেক্ষায় রাখার পর একপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ডিলারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সারের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ওই দিন আর সবার মধ্যে সার বিতরণ করা সম্ভব হবে না। কখন পুনরায় সার বিতরণ করা হবে, সে বিষয়েও কৃষকেরা স্পষ্ট তথ্য পাননি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট ডিলার ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর বর্তায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ১১ জন কৃষকের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তাঁদের দাবি, মামলাটি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রত্যাহার করতে হবে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, মামলার পর পুলিশ কয়েকজন কৃষকের বাড়িতে গভীর রাতে অভিযান চালায় এবং ঘুমন্ত অবস্থায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় কিছু বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে তাঁরা দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় একটি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তাঁকেও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁরা পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. সার বিতরণকে কেন্দ্র করে কৃষকদের বিরুদ্ধে করা ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার করতে হবে।
২. অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ী সার ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।
৩. সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ব্লক সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. পুরো ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে।

বক্তারা বলেন, কৃষকদের সঙ্গে প্রশাসন ও পুলিশের আচরণ গণমুখী ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। তাঁরা নিরপরাধ কৃষকদের হয়রানি বন্ধ এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শামসুল আলম, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক বিধান দাস এবং রাষ্ট্র সংস্কার কৃষক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম জুয়েল, রাষ্ট্র সংস্কার কৃষক আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সদস্য সচিব রেজাউল করিম প্রমুখ।

প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি.

You might like