

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শাহতলী কামিল মাদরাসার আয়োজনে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল ২২সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় মাদরাসা মিলনায়তনে মাদরাসার আধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাদরাসা গভর্নিং বডির সভাপতি ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী৷
প্রধান অতিথি’র বক্তব্য মাদরাসা গভর্নিং বডির সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, আজকের অভিভাবক সমাবেশে অধিকসংখ্যক অভিভাবকের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এ মাদরাসা শতবছরের ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা। ১৯০১ সালে হাজী ছমির উদ্দিন কারী সাহেব এ মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন৷ পরে ১৯৬৫সালে আমার দাদা মরহুম এটি আহমেদ হোসাইন রুশদী সাহেব এ মাদরাসায় কামিল প্রতিষ্ঠা করেন৷
তিনি বলেন, এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে মাদরাসাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে৷ আপনারা অভিভাবকরা আপনাদের সন্তানদের খোঁজ-খবর রাখবেন। আমরা এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে চাই। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রচেষ্টায় শিক্ষার মান বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের পড়াশোনার খোঁজখবর নিতে হবে। মাদরাসার পড়া মাদরাসাতেই শেষ করতে হবে। শিক্ষার মান উন্নয়নে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।
সোহেল রুশদী বলেন, যারা নিয়মিত মাদরাসায় উপস্থিত থাকবে এবং ওয়ান থেকে কামিল পর্যন্ত ভালো ফলাফল করবে, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। একইভাবে যেসব বিষয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করবে, সেসব বিষয়ের শিক্ষকদেরও পুরস্কৃত করা হবে। পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদেরও পুরস্কৃত করা হবে। অসহায় গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হবে।প্রতিষ্ঠানে কোন শিক্ষাথীকে মোবাইল ফোন আনা যাবে না। প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিযিদ্ধ। মোবাইল থাকলে ক্লাসের মনোযোগ থাকে না।
তিনি বলেন, প্রাক-নির্বাচনী ও নির্বাচনী পরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হবে, তাদের পাবলিক পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণের ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষার্থী অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে তাকে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করার বিষয়েও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। শতভাগ শিক্ষার্থী যাতে পাস করে, সেভাবে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের জন্য মাসে অন্তত একটি পরীক্ষা নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে সাপ্তাহিক মডেল টেস্টেরও আয়োজন করা যেতে পারে। কোন বিষয়ে ফলাফল বিপর্যয় হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদরাসার সহকারি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন এর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মোহাস্মদ ইয়াছিন মিয়া, প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা আখতার হোসাইন, সহকারি অধ্যাপক মাওলানা কামাল হোসাইন, সহকারি অধ্যাপক মাওলানা এমদাদ উল্ল্যাহ, সহকারি অধ্যাপক মোহাম্মদুল্লা, সহকারি অধ্যাপক মোঃ বেলায়েত হোসেন মিজি, সহকারি অধ্যাপক মাওলানা এ এন এম হেলাল উদ্দিন, প্রভাষক মাওলানা নাজির হোসাইন, সিনিয়র শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জহিরুল হক, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মিজানুর রহমান, প্রভাষক মাওনালা আব্দুস সালাম, প্রভাষক সাদিয়া রহমান, প্রভাষক তানিজনা আক্তার, প্রভাষক রেশমা আক্তার, প্রভাষক মাওলানা মহিবুল্লাহ, প্রভাষক নুরুল হক সিয়াম, প্রভাষক শাহপরান, সহকারি শিক্ষক সখিনা আক্তার, সহকারি শিক্ষক মাওলানা আব্দুল হালিম গাজী, সহকারি শিক্ষক মো: হাবিবুর রহমান, সহকারি শিক্ষক মাওলানা বাহাউদ্দিন, সহকারি শিক্ষক মাওলানা আনিসুর রহমান, ইবতেদায়ী প্রধান শরীফ মো: মোস্তফা খান,, মাদরাসার সহকারি শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, সহকারি শিক্ষক (শরীরচর্চা) মো: শরীফ হাওলাদার, গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য মাওলানা শহিদুল ইসলাম, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, অভিভাবক হাবিবুর রহমান, অভিভাবক মাওলানা হাবিবুর হুজুর, হিসাব রক্ষক মো: শরীফুর রহমান খান, জিলানী চিশতী কলেজের অফিস ইনচার্জ মো: রানা সরকার, মাদরাসার অফিস সহকারি মো: রিয়াদ হোসেন, অফিস সহকারি মো: শরীফ খান সহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন ও দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাস্মদ বিলাল হোসাইন।
একইদিন বেলা ১২টায় মাদরাসার সভাকক্ষে গভর্নিং বডির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন মাদরাসা গভর্নিং বডির সভাপতি ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী৷ সভা পরিচালনা করেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাস্মদ বিলাল হোসাইন।
প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি.














