

শরীফ খান :
রাজনীতি কারও কাছে ক্ষমতার সিঁড়ি, আবার কারও কাছে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার। মৈশাদী ইউনিয়নের মাহবুবুর রহমান স্বপনের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা যেন সেই অঙ্গীকারেরই এক প্রতিচ্ছবি। পদ-পদবির চেয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসাকেই তিনি রাজনৈতিক জীবনের বড় অর্জন হিসেবে দেখেছেন—এমনটাই উঠে এসেছে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযাত্রী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের স্মৃতিচারণে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলার সূচনা। পরবর্তীতে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে চাঁদপুর সদর থানা বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা হলো তৃণমূল পর্যায় থেকে অসংখ্য নেতাকর্মীকে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং নেতৃত্বের পথে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করা। তিনি শুধু নিজে নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং নতুন নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছেন। এ কারণেই অনেকের কাছে তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং নেতা তৈরির একজন কারিগর।
দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে মামলা-হামলা, চাপ ও নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। কঠিন সময়ে যারা রাজনীতির মাঠে ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং সংগঠনের কার্যক্রম ধরে রাখার সেই প্রচেষ্টা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে মনে করেন তাঁর রাজনৈতিক সহযাত্রীরা।
মাহবুবুর রহমান স্বপনের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের নানা দিক জানতে মৈশাদী ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী এবং বিএনপির সমর্থক সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতা করা হয়। তাঁদের বক্তব্য ও স্মৃতিচারণে উঠে আসে তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক ভূমিকা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং মানুষের পাশে থাকার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা।
একজন সংগঠকের সাফল্য শুধু তিনি নিজে কতটা এগিয়ে গেলেন, তা দিয়ে বিচার করা যায় না; তাঁর হাত ধরে কতজন কর্মী নেতৃত্বের পথে এগিয়ে গেলেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে মাহবুবুর রহমান স্বপনের রাজনৈতিক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—তিনি নেতৃত্বকে নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অন্যদেরও নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছেন।
রাজনীতির দীর্ঘ পথ কখনোই সহজ ছিল না। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলেছে, এসেছে নানা প্রতিকূলতা। তারপরও সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা তাঁর রাজনৈতিক পথচলাকে একটি আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
মৈশাদীর রাজনীতিতে মাহবুবুর রহমান স্বপনের গল্প তাই শুধু একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক জীবনের গল্প নয়; এটি একজন সংগঠকের গল্প, একজন নেতৃত্ব-নির্মাতার গল্প এবং দীর্ঘদিন ধরে দলীয় নেতাকর্মী ও মানুষের সঙ্গে পথচলা একজন রাজনৈতিক কর্মীর গল্প।
আমার এই লেখাটি মূলত একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ। মৈশাদী ইউনিয়ন বিএনপি ও কিছু অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপির সমর্থক সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে আসা অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিগুলো থেকেই জনাব মাহবুবুর রহমান স্বপনকে নিয়ে এই লেখা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলায় তাঁকে কাছ থেকে দেখা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের নানা স্মৃতি আজও মনে দাগ কেটে আছে। সেই অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিগুলো নিজের উপলব্ধি থেকে তুলে ধরার এটি একটি ছোট্ট প্রয়াস।
প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি.














