জামালপুরে শিক্ষকের বেতন বন্ধ, মামলার নির্দেশ : অপর শিক্ষকের উচ্চতর ও টাইম স্কেলের আবেদন বাতিল

জাকিরুল ইসলাম বাবু, জামালপুর প্রতিনিধি:

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার আদ্রা আব্দুল মান্নান উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় যোগ্যতার সনদ ছাড়া দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইসিটি বিভাগের শিক্ষক নাসিমা আক্তারের বেতন বন্ধ করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শাহ নাজ পারভীনের উচ্চতর স্কেল ও টাইম স্কেলের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম এবং বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ২৬ জুন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাহ নাজ পারভীন গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ পান। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগের সময় তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ জমা দেন। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালে শাহ নাজ পারভীন বগুড়ার সিট ফাউন্ডেশন থেকে অর্জিত একটি ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি কোর্সের সনদ জমা দেন। সনদে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছর মেয়াদি কোর্সের উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে বেতন উত্তোলনের তথ্য থাকায় সনদটির সত্যতা ও কোর্স সম্পন্ন করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ওই সনদের ভিত্তিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর শাহ নাজ পারভীনের উচ্চতর স্কেল ও টাইম স্কেলের আবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। তবে সংবাদ প্রকাশের পর রোববার সকালে আবেদনটি ফেরত দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম।

অন্যদিকে, আইসিটি বিভাগের শিক্ষক নাসিমা আক্তারের প্রয়োজনীয় যোগ্যতার সনদ না থাকার অভিযোগও উঠেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁর বেতন বন্ধ এবং মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন বলেন, “শাহ নাজ পারভীনের উচ্চতর স্কেল ও টাইম স্কেলের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। নাসিমা আক্তারের বেতন বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি মামলা দায়েরের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্দেশ দিয়েছেন।”

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা জানান, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ডেকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম এ প্রতিবেদক মাসুদুর রহমানকে বলেন, রোববার সকালে শাহ নাজ পারভীনের উচ্চতর স্কেল ও টাইম স্কেলের আবেদন ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক শাহ নাজ পারভীন ও নাসিমা আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন নম্বর বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.

You might like

About the Author: priyoshomoy