অবৈধ জাগ উচ্ছেদের অভাবে সংকুচিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ধনাগোদা নদী

হারুন অর রশিদ, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর :

চাঁদপুরের মতলবে ধনাগোদা নদীতে অবৈধ জাগগুলো উচ্ছেদ না করার ফলে দিনে দিনে সংকুচিত হয়ে পড়ছে নদীটি। ফলে নদী হারাচ্ছে তার গভীরতা। পাশাপাশি এলাকার কৃষকেরা শুষ্ক মৌসুমে বঞ্চিত হচ্ছে সেচ পানি থেকে। এই সকল অবৈধ জাগ উচ্ছেদ করার জন্য উপজেলা মৎস্য অফিস সারা বছর নীরব থাকলেও সচল হয় ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ’ উপলক্ষে। কিন্তু তাদের এই সচল কার্যক্রম শুধুমাত্র মাইকিং, তালিকা প্রনয়ণ ও চিঠি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ, নেই উচ্ছেদের জন্য কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ধনাগোদা নদীর মতলব দক্ষিণ উপজেলার অংশে মতলব পৌরসভার উত্তর বাইশপুর, দক্ষিণ বাইশপুর ও পশ্চিম বাইশপুর মহল্লার ১৯ জন, চরমুকুন্দির ৭ জন, শোভনকর্দীর ৫জন, মুনসুবদীর ১ জন, মোবারকর্দীর ৪ জন, দক্ষিণ উদ্দমদীর ১০ জন, মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ গাজীপুর গ্রামের ৬ জন, চরলক্ষীপুর গ্রামের ১ জন, সিপাইকান্দি গ্রামের ১ জনসহ মোট ৫৪ জন ব্যক্তি রয়েছে কমপক্ষে ৮০টি জাগ। এরমধ্যে উত্তর বাইশপুর গ্রামের হরিন্দ্র সরকারের ছেলে নির্মল সরকারের রয়েছে ১০টি জাগ।


ধনাগোদা নদীতে অবৈধ জাগ স্থাপনকারীদের নিয়ে চলতি বছরের ৩ মার্চ এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত জাগ স্থাপনকারীদের নিজ দায়িত্বে জাগ অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হলেও কেউ তাঁর কথা কর্ণপাত করেন নি। উল্টো জাগ স্থাপনকারীরা বর্তমানে জাগ থেকে কেউ মাছ ধরছেন এবং অন্যরা ধরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নদীতে থাকা অবৈধ জাগ স্থাপনকারীদের পক্ষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ সুপারিশের কারণে মৎস্য অফিসের কর্মকর্তাদের বিভ্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় বলে জানা যায়।

এদিকে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত জাগ স্থাপনকারীদের তালিকায় পাওয়া যায়, গণমাধ্যম কর্মী কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ধনাগোদা নদী পার হওয়ার সময় দেখা যায় নদীর দুই তীরে জেলেরা অবৈধ মাছের জাগ তৈরীর করার ফলে ভাসমান ময়লা আবর্জনা এইসব জাগে আটকে দিন দিন নদীর সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। এতে করে মৎস্য প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ হারাচ্ছে এ নদীটি।

সাংবাদিক গোলাম নবী খোকন বলেন, নদীর দুই তীরে অবৈধ ভাবে স্থাপন করা জাগ ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে নদীর সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের এখনই কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে, তা না হলে ভবিষ্যতে মাছের সংখ্যা ব্যাপক হারে হ্রাস পাবে এবং দূষণ বাড়বে।

এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার রুমা বলেন, “এই উপজেলার নদী, খাল ও বিলে যারা নিষিদ্ধ মাধ্যম ও উপকরণ ব্যবহার করে মৎস্য আহরণ করছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। নদীতে থাকা জাগ উচ্ছেদ করার জন্য অর্থের প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অর্থ বরাদ্ধের জন্য আবেদন করছি। আর এ অর্থ বরাদ্ধ পেলেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।”

You might like