
কবির হোসেন মিজি :
চাঁদপুর শহরের প্রাণ কেন্দ্র কালী বাড়ি মোড়ে এলোপাতারি ভাবে অটোবাইক পার্কিং করার কারনে যানজটের মুল কারন বলে মনে করছেন শহরবাসি। দীর্ঘদিন ধরে দেখা গেছে শহরের ওয়ান মিনিট সংলগ্ন স্থানে ইচুলী, ঢালীর ঘাট, নতুন বাজার ও ট্রাক ঘাট এলাকায় যাতায়াতকারী অটোরিক্সা গুলো পার্কিং করে রাখা হয়। সেখান থেকেই প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা অটোরিক্সায় চড়ে তাদের গন্তব্যস্থানে পৌছেন। প্রতিনিয়ত ওইস্থানে গাড়ি পার্কিং করে যাত্রীদের উঠানামা করতে গিয়ে সেখানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ চাঁদপুর পৌরসভায় কর্মরত ট্রাফিক সহায়তাকারী বাবুল সহ যারা সেখানে প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করেন তারা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করার কারণেই চালকরা সেখানে গাড়ি পার্কিং করার সুযোগ পায়। অভিযোগ রয়েছে যখন ওই ট্রাফিক সহায়তাকারীরা পৌর মেয়র আসার খবর পান তখন তারা সেখানে উপস্থিত থাকেন। আর তিনি চলে গেলে তারা অবহেলার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
সরজমিনে দেখা গেছে চাঁদপুর শহরের কালী বাড়ি মোড়, ওয়ান মিনিট সংলগ্ন সাধনা ঔষধালয়ের সামনে সড়কের দুই পাশ জুড়ে প্রতিদিন শত শত অটোরিক্সা পার্কিং এবং যাতায়াত করে থাকে। সেখান থেকেই যাত্রীরা অটোতে চড়েন এবং নামেন। এসব অটোবাইক গুলো সড়কের দু পাশ জুড়ে পার্কিং করে যাত্রী উঠা নামানোর কারনে প্রায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে দেখা যায়। শহরের এমন প্রাণ কেন্দ্রের মুল জায়গায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এভাবে অটোরিক্সা পার্কিং করার কারনে একদিকে যেমন যানজট সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এসব অদক্ষ, আনাড়ী চালকরা সেখানে গাড়ি পার্কিং করার সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদেরকে ডাক দোহাই দিলে তারা মারামারিতে লিপ্ত হয় বলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। এমন কি গত কয়েক মাস পূর্বে কোন এক অটো চালককে গাড়ি পার্কিং করার সময় নিষেধ করলে সে দল বল নিয়ে স্থানীয় ইসলামিয়া লাইব্রেরীর এক কর্মচারীকে মেরে গুরুতর আহত করেন বলেও তাদের অভিযোগ। এ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চাঁদপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। একই সাথে ওইস্থানে অটোরিক্সা পার্কিং না করার জন্য, তার সমাধান চেয়ে চাঁদপুর পৌর মেয়র বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী বর্নমালা লাইব্রেরীর তোফায়েল কাজী সবুজ, কাশবন টেলিকমের আরিফ হোসেন, সাগরিকা স্টেশনারীর মোরশেদ ও ইসলামীয়া ফার্মেসীর পলাশ সহ বেশ ক,জন ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত সেখানে অটোবাইক পার্কিং করার কারনে প্রচন্ড ভিড় ও যানজট লেগে থাকে। যখন অটোরিক্সা চালকরা ওইস্থানে এলোপাতারি গাড়ি পার্কিং করেন, তখন তাদের কে নিষেধ করলে তারা আমাদের সাথে মারমুখী আচরন করেন। কখনো কখনো অনেক চালক প্রথমে ডাক দোহাই দিলে পরবর্তীতে তারা তাদের দলবল নিয়ে আসে মারামারি করার জন্য। গত ৬/৭ মাস পূর্বেও একজন অটোচালকে এখানে গাড়ি পার্কিং করতে নিষেধ করলে সে পরে তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে এসে ইসলামীয় লাইব্রেরীর এক কর্মচারীকে মেরে গুরুতর আহত করে। এ নিয়ে আমরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। তারা আরো জানান, কিছু দিন পূর্বে এখানে এলোপাতারি গাড়ি পার্কিং করতে দেখে চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল নিজে গাড়ি থেকে নেমে তাদের গাড়ি সরানোর কথা বলেন। ওই সময় তিনি ওইসব গাড়ির লাইসেন্সের ছবি তুলে নেন এবং কয়েকটি অটোরিক্সা আটক করেন। তবুও চালকরা একই ভাবে প্রতিনিয়ত এখানে গাড়ি পার্কিং করছে। তারা কোন কিছুই মানছেনা। এ বিষয়ে স্থায়ী সমাধান চেয়ে আমরা পৌর মেয়রের কাছে লিখিত দিয়েছি। শহরের এমন প্রাণকেন্দ্রে এভাবে এলোপাতাড়ি ভাবে গাড়ি পার্কিং করার বিষয়ে স্থায়ী সমাধান চান চাঁদপুর শহরবাসী।
চাঁদপুর পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, আমরা তাদেরকে জোড়পুকুর পাড় ঘাটের পরের স্থানে গাড়ি পার্কিং করার কথা বলেছি।এমনকি অটোরিকশা মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ কে ডেকে তাদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দরাও কয়েকদিন দাঁড়িয়ে থেকে সেখানে ডিউটি করেছেন যাতে চালকরা ওই স্থানে গাড়ি পার্কিং না করে। কিন্তু তারপরেও তারা ওই স্থানে গাড়ি পার্কিং করতে দেখে মেয়র সাহেব নিজে গাড়ি থেকে নেমে তাদেরকে গাড়ি পার্কিং না করতে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং যেসব গাড়ি সেখানে পার্কিং করেছে তাদের গাড়ির লাইসেন্স এর ছবি তুলে লাইন্সেস বাতিল করার পদক্ষেপ নেন। কয়েকটি অটোরিকশা আটক করে পৌরসভা নিয়ে যান পরবর্তীতে মানবতার দিক বিবেচনা করে কয়েক দিন আটকে রেখে আটককৃত গাড়ি গুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা আটক করে জরিমানা করা হয়। তিনি আরো বলেন, লাইসেন্স বিহীন কোন অটোবাইক চাঁদপুর পৌরসভার এরিয়াতে চলতে দেয়া হবে না। লাইসেন্স বিহিন অবৈধ যেসব অটোবাইক রয়েছে, আমরা সেগুলো আটক করার জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চাঁদপুর ট্রাফিক বিভাগের টি আই জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সেখানে কোনো স্ট্যান্ট নেই তবুও অটোরিক্সা চালকরা সেখানে নিয়মিত গাড়ি পার্কিং করে চলেছে। গত বুধবার দিনে আমি সেখানে পার্কিং করতে দেখে অটোরিক্সার ২২ গদি আটক করেছা। পরবর্তীতে মানবতার দিক বিবেচনা করে তা দিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন সেখানে প্রতিদিন নিয়মিত দুইজন ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করলে আর এভাবে তারা পার্ক গাড়ি পার্কিং করতে পারতো না। কিন্তু আমাদের লোকবল সংকটের কারণে সেখানে প্রতিদিন একজন ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করেন। দেখা গেছে শহরের মূলকেন্দ্র এটি। যেখানে প্রতিদিন শত শত গাড়ি যাতায়াত করে থাকে একদিকে দায়িত্ব পালন করতে গেলে অন্যদিকে তারা সুযোগ পেয়ে সেখানে গাড়ি পার্কিং করে। তবে এ বিষয়ে চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মহোদয়ও যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে চলেছেন। আমি মেয়রের সাথে সমন্বয় করে বিষয়টি নিয়ে আমরা ভেবে দেখবো এবং সেখানে আরও গুরুত্ব সহকারে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।







