সিরাজগঞ্জ তাড়াশে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে । রং তুলির শেষ আঁচড়ে ব‍্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা

সিরাজগঞ্জ, তাড়াশ থেকে জিল্লুর রহমান :

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে এখন রং-তুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা।

অন্যদিকে, পূজামণ্ডপ সাজানো, তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সব মিলিয়ে উপজেলার ৪৯টি পূজামণ্ডপে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে তাড়াশ উপজেলার শহর ও গ্রামের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে কর্মব্যস্ততা। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে সারা বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের। তাই পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভক্ত ও আয়োজকেরা।

পূজামণ্ডপগুলোতে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির খড়কুটো ও মাটির কাজ প্রায় শেষ। এখন দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমাকে রং ও সাজসজ্জার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে ব্যস্ত কারিগররা। পাশাপাশি মণ্ডপের সৌন্দর্য বাড়াতে চলছে আলোকসজ্জা ও বিভিন্ন সাজসজ্জার কাজ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিমাশিল্পী জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতিমা তৈরিতে তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রং-তুলির কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

তিনি বলেন, ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে কাদামাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শেখা। সেই থেকে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। প্রতিমা তৈরি অত্যন্ত ধৈর্য ও মনোযোগের কাজ। সামান্য ভুল হলেও তা সংশোধন করতে অনেক সময় লাগে। একটি পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরিতে নকশা ও কাজের ধরন অনুযায়ী তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হয়।

নিজেদের পেশাগত সংকটের কথা তুলে ধরে ওই শিল্পী আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী তাঁরা পারিশ্রমিক পান। তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণ ও অন্যান্য মালামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ বাদ দিয়ে তেমন কিছুই থাকে না। এ পেশায় জীবন-জীবিকা চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় অনেকেই অন্য পেশায় চলে গেছেন। তারপরও বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে তাঁরা এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, ভাটার পাড়া দুর্গা মন্দিরের সভাপতি শ্রী পরিমল কুমার মাহাতো জানান, উপকরণ ও কারিগরদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এবার প্রতিমা তৈরি এবং মণ্ডপের সামগ্রিক ব্যয় বেড়েছে। শুধু প্রতিমা তৈরির জন্য কারিগরদের সঙ্গে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার চুক্তি হয়েছে, যা আগে প্রায় ১ লাখ টাকায় করা যেত। এতে আয়োজকদের বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে। তারপরও সবার সহযোগিতায় সুন্দরভাবে পূজা সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

এদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপর রয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমাম জাফর বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুন্দরভাবে পূজা সম্পন্ন হবে।

সব মিলিয়ে প্রতিমাশিল্পীদের শেষ মুহূর্তের কর্মব্যস্ততা, আয়োজকদের প্রস্তুতি এবং প্রশাসনের নিরাপত্তামূলক তৎপরতায় তাড়াশে শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। এখন অপেক্ষা দেবী দুর্গার আগমন।

প্রকাশিত:  বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.

You might like