

সম্পাদকীয়
‘ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’—এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁদপুরে পালিত হলো আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। গতকাল প্রিয় সময়ে ‘ চাঁদপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত’ শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ভূকম্পন ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক সচেতনতা বাড়ানো এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতির বাস্তব ধারণা দিতে একটি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত সময়োপযোগী ও জরুরি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ দেশকে প্রতিনিয়ত নানা ধরণের দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়। কাজেই সচেতনতা ও পূর্বপ্রস্তুতি যদি আমরা না রাখি, তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। অতীতে আমরা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখেছি।
প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহযোগিতায় বাবুরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঠিকভাবেই বলেছেন, দুর্যোগের সময় বিচলিত না হয়ে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। নিজেদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্যদের সহায়তায় এগিয়ে আসার মাধ্যমেই জানমালের ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ধরণের বাস্তবমুখী মহড়ার মধ্যদিয়ে একজন মানুষের প্রাণও যদি রক্ষা করা সম্ভব হয়, তবেই এ উদ্যোগের সার্থকতা মিলবে।

ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের মতো আকস্মিক দুর্ঘটনায় সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে অগ্নিকাণ্ড ও ভূকম্পনের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে, কিন্তু সেই তুলনায় সাধারণ মানুষের সচেতনতা এখনও কাঙ্ক্ষিত স্তরে পৌঁছায়নি। বাবুরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ, ফায়ার সার্ভিস এবং জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যে সচিত্র নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক মহড়া পরিচালনা করা হলো, তা উপস্থিত সবাইকে একটি বাস্তব ধারণা দিলো। এ ধরণের কর্মসূচি কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিনিয়ত ও পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও প্রস্তুতি এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। ঘর থেকে যদি সচেতনতা শুরু হয়, তবেই পুরো দেশকে দুর্যোগ সহনশীল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। ঘরবাড়ি তৈরির সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কী করণীয় তা পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জানা থাকা উচিত। চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের এ কর্মসূচি প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সমন্বিত চেষ্টার মধ্যদিয়ে দুর্যোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়।
আশা করা যায়, চাঁদপুরের এ সচেতনতামূলক কর্মসূচির মধ্যদিয়ে সাধারণ মানুষের ভেতরে পূর্বপ্রস্তুতির আগ্রহ আরো বাড়বে। জরুরি মুহূর্তে দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন ঘটবে। দুর্যোগকে আমরা হয়তো পুরোপুরি থামাতে পারবো না, তবে সচেতনতা ও প্রস্তুতির মধ্যদিয়ে তার ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা নিশ্চয়ই সম্ভব। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন মহড়া ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.












