দিনে তীব্র রোদ, রাতে শীতের আমেজ: পঞ্চগড়ে জেঁকে বসছে আবহাওয়ার বৈচিত্র্য

মোঃ এনামুল হক, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ
উত্তরের হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ে প্রকৃতিতে এখন ঋতু পরিবর্তনের পালাবদল। দিনে কড়া রোদ আর তীব্র গরম, আর রাত নামতেই হালকা শীত—এমন বৈরী ও অদ্ভুত আবহাওয়া বিরাজ করছে তেঁতুলিয়া তথা পুরো পঞ্চগড় জেলায়। দিনের বেলা রোদের প্রখরতা সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুললেও, সন্ধ্যা গড়ালেই চারপাশ কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাওয়ার ফুরফুরে আমেজে শীতের আগমনী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।

স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই এ অঞ্চলে দিনের বেলা তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকছে এবং কড়া রোদের কারণে গরম অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোদের তেজ এতটাই বাড়ে যে ঘর থেকে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। তবে বিকেল গড়াতেই পাল্টে যেতে শুরু করে দৃশ্যপট। হিমেল হাওয়ার ছোঁয়া আর সন্ধ্যার পর থেকে হালকা কুয়াশা জাঁকিয়ে বসে। রাত বাড়ার সাথে সাথে শীতের অনুভূতি এতটাই তীব্র হয় যে শেষ রাতে অনেককে হালকা কাঁথা বা চাদর গায়ে জড়াতে হচ্ছে।

আবহাওয়ার এমন খামখেয়ালিপনায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তৈরি হয়েছে এক ভিন্নধর্মী মিশ্র অভিজ্ঞতা। দিনের বেলা রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা বা সুতির কাপড়ের সাহায্য নিচ্ছেন পথচারী ও খেটে খাওয়া মানুষ। অন্যদিকে, গরমের কারণে দিনমজুর ও ভ্যানচালকদের পরিশ্রমে বাড়তি কষ্ট যোগ হলেও রাতের আরামদায়ক আবহাওয়া তাদের সেই ক্লান্তি দূর করে দিচ্ছে।

শহরের চৌরঙ্গী এলাকার রিকশাচালক রহিম মিয়া বলেন, “দিনের বেলা রোদে শরীর পুড়ে যাওয়ার মতো গরম লাগে, ঘেমে একাকার হয়ে যাই। অথচ রাতে ঘুমানোর সময় গায়ে হালকা কাঁথা না টানলে ঠান্ডা লেগে যায়। অদ্ভুত এক আবহাওয়া চলছে এখন।”

চিকিৎসকরা বলছেন, দিন ও রাতের তাপমাত্রার এই বড় পার্থক্যের কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা সর্দি, কাশি, জ্বর এবং নিউমোনিয়ার মতো বিভিন্ন ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। তাই এ সময় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

প্রকৃতির এমন পালাবদলে তেঁতুলিয়ার সীমান্তঘেঁষা গ্রামীণ জনপদে এখন শীতের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। লেপ-তোশক তৈরির কারিগররাও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাদের পুরনো কাজ নিয়ে। শীত পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই উত্তর জনপদের মানুষ এখন উপভোগ করছে এই মিষ্টি আমেজ ও দিনের গরমের দারুণ এক মিশ্রণ।

প্রকাশিত: বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ খ্রি.

You might like

About the Author: priyoshomoy