

মো. মহিউদ্দিন,ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা :
জলমহাল নীতিমালা লঙ্ঘন করে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের পোয়ায় (রনাতলী মৌজার) তিরানব্বই একর বদ্ধ জলমহাল ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় পোয়া রনাতলী চররামপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ২২ এপ্রিল চাঁদপুর জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হওয়ায় পুনরায় ১১ ‘মে আরেকটি অভিযোগ জমা দেয়। প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের সাথে জলমহালটির নিকটবর্তী স্থানীয় মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যদের সাথে যেকোনো রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে একাবাসী।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার তফসিলে বর্ণিত পোয়া রনাতলী মৌজার বি এস ১/১ খতিয়ানে মোট ৯৩.৪০ একর জলমহাল। দীর্ঘদিন ধরে জলমহালটি অবৈধভাবে সাইফুল ইসলাম নামের একজন হর্নি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির পক্ষে ভুয়া তথ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসের লোকজনকে ম্যানেজ করে ইজারা নিয়েছে। চলতি বছর পুনরায় স্থানীয় পোয়া রনাতলী চররামপুর মৎস্যজীবি সমিতি কে জলমহাল ইজারা না দিয়ে জলমহালের দূরবর্তী হর্নি মৎস্যজীবি সমিতিকে মাছ চাষ করতে দেয়। এদিকে ২০০৯ সালের জলমহাল নীতিমালা অনুযায়ী ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে জলমহালের নিকটবর্তী মৎস্যজীবী সমিতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে।
এদিকে ইজারা বাতিলের জন্য ২২ এপ্রিল পোয়া রনাতলী চররামপুর মৎস্যজীবি সমিতির পক্ষে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। তাতে উল্লেখ ৮ মে পোয়া রনাতলি মৌজার বদ্ধ জলাশয়টি ইজারা দেওয়ার উদ্দেশ্যে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা স্থানটি পরিদর্শন করেন। ইজারায় জন্য আবেদনকৃত দুটি সমিতির কাগজ পত্র দেখেন। সেখানে হর্নি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির পক্ষে সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক একটি ভুয়া সদস্য তালিকা উপস্থাপন করেন। সেখানে সদস্যদের নামে সমিতির মধ্যে কোনরকম শেয়ার বই, সঞ্চয় বই, জমা খরচের ভাউচার কিছুই নেই। মৎস্য কর্মকর্তার প্রত্যয়ন পত্রও দাখিল করা হয়নি। তাছাড়া সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য যারা, এদের কারো জেলে কার্ড ও মৎস্য কর্মকর্তার প্রত্যায়ন পত্র নেই। ইজারাদার সাইফুল ইসলাম নিজের স্বার্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে জলমহালটি ইজারা নেয়। তাছাড়া সাব লিজ দিয়ে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ও আইন লঙ্গন করেছে।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানাযায়, বদ্ধ জলমহালের এক একর আবুল হাজী নামের একজনকে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে সাব লিজ , সাইফুল ইসলাম ও মোস্তফা গংরা ৩ একর ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায়, শাহাদাত হোসেন টেলু এক একর ৭০ হাজার টাকায়, ফারুক হোসেন ভূঁইয়া তিন একর ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায়, জয়নাল চৌকিদার এক একর ৭০ হাজার টাকায়, দেলোয়ার হোসেন বাতেন দুই একর ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়, ফারুক হোসেন দেড় একর ৮০ হাজার টাকায় সাব লিজ দিয়েছে। জলমহাল টির বাকি অংশ পরিত্যৗত্ত হিসাবে পড়ে আছে। এদিকে অনেকে অভিযোগ করে বলেন জলমহাল টির অধিকাংশ জায়গায় বাঁধ সৃষ্টি হওয়ার ফলে অতিবৃষ্টি ও বন্যার সময় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ চলমান না থাকায় জলাবদ্ধাতার সৃষ্টি হচ্ছ্ ে।
পোয়া রনাতলী চররামপুর মৎস্যজীবি সমিতির সদস্য , শফিকুর রহমান, মো: দুলাল, কালু সরদার, মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, হাবিবুর রহমান, হোসেন জমাদার, আবদুল মান্নান সহ অনেকেই জানান এই জলাশয়টি আমাদের মৌজার। সেই হিসেবে আমাদের পোয়া রনাতলী চররামপুর মৎস্যজীবি সমিতি ইজারা পাওয়ার কথা। কিন্তু জেলা প্রশাসক কোন যুক্তিতে দূরের সমিতিকে সঠিক কাগজপত্র ছাড়া ইজারা প্রদান করেন তা বোধগম্য নহে। আমরা পুনরায় জেলা প্রশাসক কর্তৃক এই জলমহালের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ইজারার দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগ কারীদের মধ্যে পোয়া রনাতলী চররামপুর মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো: রফিক সর্দার বলেন, হর্নি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি এই জলমহাল হতে অনেক দূরে। অবৈধ এবং পরিপূর্ণ কাগজপত্র না থাকা সত্বেও আমাদের এই জলমহালটি বারবার তারা কিভাবে লিজ নেয় তা আমরা বোধগম্য নই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মৎস্য অধিদপ্তর ও সমবায় অধিদপ্তর নীতিমালা লঙ্ঘন করে আমাদের ইজারা না দিয়ে দূরের সমিতিকে ইজারা দেন। এতে আমাদের এলাকার মৎস্যজীবীরা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নাজমুন্নাহারের সাথে কথা হলে ইজারা প্রাপ্ত সমিতি হর্নি মৎস্যজীবি সমিতির উল্লেখিত দোষ-ত্রুটিগুলোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সঠিক জবাব দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বিব্রতবোধ করেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার রুমার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক থেকে তদন্তের জন্য আমাকে সময় দিয়েছে একদিন, সেই আলোকে যতটুকু সম্ভব সঠিক তদন্তের রিপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ইজারা কে পায়, জেলা প্রশাসক কাকে দেয়, সেগুলো আমাদের দেখার বিষয় নহে।







