

মো. মহিউদ্দিন, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ভাসমান বেডে সবজি চাষ ও চারা উৎপাদনের অপর সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে ৮টি ইউনিয়নে ভাসমান বেডে শাকসবজি চাষ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। অত্র উপজেলায় ২৭০ হেক্টর জমি ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত জলাবদ্ধতায় পতিত থাকছে।
তাছাড়া ডাকাতিয়া নদীতে চাঁদপুর – ফরিদগঞ্জ অংশে প্রায় ১৮ কিলো মিটার পুরোটাই কচুরিপানা দিয়ে বেষ্টিত রয়েছে। এ সকল স্থান ও নদীতে ভাসমান বেডে শাকসবজি, চারা উৎপাদন ও বীজতলা তৈরি করে কৃষক- কৃষানীরা লাভবান হচ্ছে। উপজেলার ১,৩,৪, ৫,৬,৯,১০,১৪ নং ইউনিয়নে এ কার্যক্রম চলছে। ভাসমান বেডে লাউ,মিষ্টিকুমড়া,শষা,লাল শাক ,পাট শাক, কলশী শাক,ধনিয়া পাতা ইত্যাদি চাষ হচ্ছে।

আরো পড়ুন : জেনে নিন যৌন রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
স্থানীয় উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্র জানায়, কৃষক-কৃষানীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ২০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১.২৫ মিটার প্রস্থ , ৪ থেকে ৫ মিটার উচ্চতার কচুরিপানা দিয়ে বেড তৈরি করে ও পঁচা কচুরি পানা উপরে দিয়ে প্রতিটি বেড তৈরিতে ৭/৮ জন শ্রমিকের লাগে। প্রতিটি বেড প্রস্তুত করতে সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়। ৪/৫ বার ফসল উৎপাদন করা যায়। তিনটি বেড হতে গড়ে ১৩/১৪ হাজার টাকার আয় করা সম্ভব হচ্ছে। ফসল ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে তোলা যায়। এত পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পুরন করে বাজারে উদ্বৃত শাকসবজি ও চারা বিক্রি করে কৃষকরা বেশ ভালোই করছে বলে জানায়। তাছাড়া জৈবসারে উৎপাদিত এ শাকসবজিতে কোন ধরনের কিটনাশক ছিটানো হচ্ছেনা।
আরো পড়ুন : শ্বেতির সাদা দাগ দূর করার সহজ কিছু উপায়
সোভান এলাকার ভাসমান বেডে শাকসবজি চাষী মো: মিজানুর রহমান তালুকদার জানান, আমার ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে ২৫টি বেড রয়েছে। জনতা ব্যাংক হতে ঋণ নিয়ে ও ধার দেনা করে চাষ করে চলছি। স্থানীয় কৃসি দপ্তর প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সাথে ৫শত টাকাও দিয়েছে। এছাড়া মাত্র ১ হাজার টাকা পেয়েচি বেড তৈরি বাবত। সরকার আমাদেরকে সুদবিহিন ঋণের ব্যবস্থা চালু করলে আমরা ফরিদগঞ্জে ভাসমান বেডে সবজি চাসে বিপ্লব ঘটাতে পারবো।
বাবুল গাজী জানায় , আমার ১২টি ভাসমান সবজির বেড রয়েছে। এখানে সবজি ও চারা উৎপাদণ করে মোটামািট ভালোই চলছেন বলে জানান। তিনিও সরকারী বরাদ্দ বাড়ানোর দাবী জানান। তিনি আরোও জানান, আমাদেরকে কৃষি অফিস ১ থেকে দেড় হাজার টাকা দিয়ে থাকে এতে লেবারের চা-বিস্কুটের পয়সা হয়ে থাকে।
অপর চাষী সিরাজ মিয়া জানান, আমার ৩ টি ভাসমান বেড রয়েছে আমি এক টাকাও পাইনি। তাছাড়া প্রশিক্ষণ ও দিতে পারিনি। আমি কোন রকম সবজি চাষ করেই সংসার চালিয়ে যাচ্ছি।
আরো পড়ুন : মেহ প্রমেহ ও প্রস্রাবে ক্ষয় রোগের কার্যকরী সমাধানসমূহ
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশিক জামিল মাহমুদ জানান, সম্পূর্ন জৈব পদ্ধতিতে ও বাণিজ্যিক ভিক্তিতে আয়বর্ধক একটি চাষ প্রক্রিয়া। পারিবারিক ভাবে সবজির চাহিদা মেটায়ে আর্থিক লাভবান হওয়ার অপার সম্ভবনা রয়েছে ভাসমান বেডে সবজি চাষে।সরকার বড় ধরনের বরাদ্দ দিলে এ এলাকার ১৮ কি :মি: ডাতাতিয়া নদীর ফরিদগঞ্জের অংশে কচুরিপানা জটকে কাজে লাগিয়ে ভাসমান বেডে সবজি চাষ করা যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি জানান, ভাসমান বেডে সবজি চাষ করার উপযুক্ত অঞ্চল হচ্ছে, এ উপজেলার বদ্ধজলাশয় ভূমিগুলো । আমি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা বলে ভাসমান বেডে সবজি চাষ কি ভাবে আরোও ভালো করা যায় এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলবো।







