শিক্ষক আবু ইউসুফের মৃত্যুর ১৬ বছরেও অবসর সুবিধার চেক পায়নি পরিবার

মো. মহিউদ্দিন, ফরিদগঞ্জ সংবাদদাতা:

চাঁদপুর আল- আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক আবু ইউসুফের স্ট্রোকজনিত মৃত্যুর ১৬টি বছর পার হলেও এতিম দু‘সন্তানের হাতে অবসর সুবিধার চেক পৌঁছায়নি। এমন গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধান চালিয়ে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মরহুম আবু ইউসুফের দু‘টি সন্তান তাসনিম ইউসূফ ও তাসফিক ইউসুফ  জানান, আমার বাবা ৭ সেপ্টেম্বর ২০০৫ সনে স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন। তখন আমি ও আমার ছোট ভাইটির বয়স ছিল ৫ বছর । বাবার অবসর সুবিধার প্রাপ্তির জন্য আমার মা পারুল বেগম ২০০৫ ও ২০০৬ সনে পর পর দু‘দফা কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর অদ্যাবধি সে কাগজ অধিদপ্তরে পৌঁছায়নি। ফলে আমরা অসহায় ও নিরুপায় হয়ে অপেক্ষার প্রহর গুণে চলছি।

বর্তমানে আমার বয়স ১৯ বছর ৬ মাস, ছোট ভাই তাসফিকের বয়স ১৫ বছর উন্নিত হয়েছে। আমরা প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষ মাহাবুবুর রহমানের নিকট কয়েকবার ধর্ণা দিয়ে কোন ফল পাইনি। তিনি বছরের পর বছর কি কারণে আমাদেরকে হয়রানি করে চলেছেন আমরা তা জানিনা।

সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অধ্যক্ষ্যের নিকট গেলে তিনি বললেন, প্রযোজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এসো সব ঠিক করে দেবো।

এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, জামায়াতি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের এটাই কি চরিত্র ? এদেরকে এ জন্য বলা হয় রাজাকার, আল বদর, আস সাামছ। এরা পারে না এমন কিছু কাজ নেই। এতিম দু‘টি অবুঝ পরিবারের পক্ষ থেকে বার বার চেষ্টা করেও এ রিপোর্ট লিখাকালিন বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোন ফল পাওয়া যায়নি। আর কত বছর অপেক্ষা করলে বাবার অবসর সুবিধার চেক পাবো। এ সময় দু‘চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। শব্দহীন কান্নায় স্তব্দ হয়ে পড়ে পরিবেশ।

‘‘আমার বাবার মৃত্যু বরণ করাটা কি অপরাধ ছিল? বাবাকে কবর তোলে প্রশ্ন করবো আমাদের অপরাধ কি? এতো কষ্ট করে পৃথিবীতে চলতে হচ্ছে। এরই মাঝে মাওতো অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করছেন। আমাদের অপরাধ আমরা বেঁচে আছি কেন ? আমাদের অপরাধ বাবা জায়াতের প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করলেন কেন?

এ বিষয়ে সাবেক অধ্যক্ষ মো: মাহাবুবুর রহমানের বক্তব্য হচ্ছে, আমি দু‘বার কাগজপত্র মাউশিতে পাঠিয়েছি। রিসিভিং আছে ? প্রশ্নের জবাবে বলতে পারবো না বলে জানান।

এমনটা হলো কেন জানতে চাইলে বলেন, আমি বলবো কি করে। অল্প টাকা পেতো বলে জানান। অল্পই হউক তাদের জন্য দেড় যুগ আগে এ অর্থ অনেক বেশী ছিল। আপনার কাছে কম হতে পারে। সঠিক কোনও জবাব না দিয়ে বলেন, তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বর্তমান অধক্ষ্য কর্নেল ড. শাহাদাৎ হোসেন (অব.) জানান, আমাকে মাউশির ড. সমেরন বাবু বলেছেন, আবু ইউসূফ নামের এ শিক্ষকের নাম এমপিও থেকে বাদ দেওয়া হয়নি কেন? এটি গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। এর পর এ বিষয়ে আমি ব্যবস্থা নিয়েছি। তিনিও স্বীকার করে বলেন, অনিয়ম হয়েছে। দেড় যুগেও অবসর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয় আমার জানা নেই। তাছাড়া তিনি আরোও বলেন, আপনি আসুন কথা বলবো আপনার সাথে।

এ বিষয়ে গভর্নিং বডির সভাপতি ড. জে আর ওয়াদুদ টিপুর মোবাই ফোনে একাধিক বার ফোন দিয়েও মোবাইল ফোন রিসিভ না হওয়ায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. গিয়াস উদ্দিন পাটওয়ারীর মুঠোফোনে বক্তব্য চাইলে, তিনি জানান, বিষয়ে আমার সংশ্লিষ্টতা তেমন নেই। আমি এ বিষয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপ্যালের নিকট জেনে মাউশিকে অবহিত করবো।

আরো পড়ুন : শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায়

আরো পড়ুন : মেহ প্রমেহ ও প্রস্রাবে ক্ষয় রোগের কার্যকরী সমাধানসমূহ

আরো পড়ুন : পাইলস রোগে করণীয়

আরো পড়ুন : জেনে নিন দীর্ঘক্ষণ মিলনের ঔষধ

আরো পড়ুন : একজিমা হলে কী করবেন?

You might like