চাঁদপুর-২ বিএনপি ও ইসলামী দলের প্রার্থীদের সক্রিয় প্রচারণা

সজীব খান, চাঁদপুর :
ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানের পর গত এক বছর চাঁদপুর-২ মতলব উত্তর দক্ষিন আসনে বিএনপি ও ইসলামী দলের প্রার্থীদের সক্রিয় প্রচারণা রয়েছেন। তারা মাঠ পর্যায়ে এখন প্রচার প্রচারনায় ব্যাস্ত সময় পার করছে, সারাদেশের মত চাঁদপুর -২ আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করছে,নির্বাচনী আমেজ মাথায় নিয়ে ইউনিয়নের থেকে শুরু করে হাট বাজার দোকান পাঠে তারা প্রচারনা করে যাচ্ছে,সব মিলিয়ে চাঁদপুর ২ আসনে নির্বাচনী প্রচারনায় জমে উঠতে শুরু করেছে।

জেলার সবগুলো নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গা ভাব বিরাজ করছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিযোগিতামূলক প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই থাকেন নির্বাচনী এলাকার বাইরে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে তাদের আগমণ ঘটে নিজ এলাকায়। সম্প্রতি নির্বাচনী তফসিলের সম্ভাব্য সময় ঘোষণার পর নেতাদের আগমন বেড়েছে নিজ এলাকায়। সামাজিক ও রাজনৈতিক সভা এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন এসব নেতারা।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ি এই আসনের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২লাখ ৫১ হাজার ৯০৬জন, মহিলা ভোটার সংখ্যা ২লাখ ৭০ হাজার ২০১জন। সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ৫লাখ ২২হাজার ১০৭জন। হিজড়া ভোটার দুইজন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই আসনে ২০১৮ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন। এবারও তিনি দলের থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশায় গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ এর সাবেক চেয়ারম্যান এমএ শুক্কুর পাটোয়ারী এবং জেলা বিএনপি যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী নুরুল হুদার ছেলে তানভীর হুদাও রয়েছেন মাঠ পর্যায়ের প্রচারণায়।

বিএনপি থেকে এই দুইজন ছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহা-সচিব ও ঢাকা মহানগরের সভাপতি ডা. সরকার মাহমুদ আহমেদ শামীম ও বাংলাদেশ কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার ওবাইদুর রহমান টিপু।

এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত একামাত্র প্রার্থী হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল মুবিন এবং ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি মানসুর আহমেদ সাকী। এছাড়া এনসিপি ও অন্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে প্রচারণায় আসেনি।

বিএনপি নেতা ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, শুধুমাত্র নির্বাচন কেন্দ্রিক না, আমি দলের জন্মলগ্ন থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে আসছি। বর্তমানে দলের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছি। আমার স্বপ্ন নির্বাচিত হলে মতলবের সাথে জেলা ও ঢাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবো।

জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম.এ. শুককুর পাটোয়ারী বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ই রাষ্ট্রকাঠামোর ৩১ দফা তৈরী হয়। ওই ৩১ দফার কথাগুলো প্রান্তিক পর্যায়ে লোকজনের সাথে তুলে ধরছি। লোকজন তারেক রহমানের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে। আমি মতলব দক্ষিণ ও উত্তর উপজেলায় সবার কাছে পরিচিত। দল থেকে যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়া হয়, তাহলে সবাইকে নিয়ে আধুনিক মতলব গড়ে তুলবো।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক তানভীর হুদা বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের আশা আকাঙ্খা হচ্ছে নির্বাচন। শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় নয়, সব সময় আমি সাধারণ মানুষের সাথে থেকে কাজ করার চেষ্টা করছি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় তার কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

কৃষকদলের যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার ওবাইদুর রহমান টিপু বলেন, আমি পূর্বে এই আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। তবে দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হয় তার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।

জামায়াত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আব্দুল মবিন বলেন, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলায় আমি নিয়মিত সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলছি। তাদেরকে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার ডাকে এগিয়ে আসার আহবান করছি। আমার বিশ্বাস ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভোটাররা দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকে তাদের সমর্থন দিবেন।

ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী মুফতি মানসুর আহমেদ সাকি বলেন, এই মনোনয়ন আমার জন্য সম্মানই নয়, বরং জনগণের সেবা করার এক বিশাল আমানত। নির্বাচনে আমি শুধু একটি প্রতীক নয়, জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন হয়ে দাঁড়াতে চাই।

বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল এবং সর্বশেষ নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এসব নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তারা এখন পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৫

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময় ও চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy