

জেলা প্রতিনিধি :
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কাসিমনগর ইউনিয়নে সন্ত্রাসী পাগলা শাহিনের সহযোগীরা এখন বেজায় বেপরোয়া। অবৈধ মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, লোকজন কে মারধোর, সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি জমি জবর দখলে লিপ্ত ফ্যাসিস্টের দোসর কুখ্যাতি পাওয়া এসব সন্ত্রাসী লোকজন। কয়েকটি অভিযোগপত্র অনুসারে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যশোরের শীর্ষ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মুড়লি রাজারহাটের পাগলা শাহিনের সহযোগীরা মনিরামপুরের গ্রামে গ্রামে সন্ত্রাসী, মাদক, চাঁদাবাজি, জোর পূর্বক অন্যের বসত বাড়ি ভাঙচুর, জমি জবর দখল, নিরীহ লোকজনকে মারধোর, গাছ বিক্রিসহ নানা অসামাজিক অপ তৎপরতায় জড়িয়ে পড়েছে। এদের সিন্ডিকেট ওয়ারী অপরাধে সাধারণ মানুষ কার্যত জীম্মি হয়ে পড়েছে।
পাগলা শাহিনের অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বিশাল মজুদ দিয়ে এরা কয়েক গ্রামে জন জীবনে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে। অভিযোগ অনুসারে এদের কাছে ছয়টি পিস্তল, শতাধিক গাছি দা, ক্রিস, বল্লম, রামদা, হাসুয়া এবং বিপুল পরিমান জিআই পাইপ মজুদ রাখা আছে।
এসব বিষয়ে থানায় চারটি অভিযোগ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে মামলা হয়নি। বাধ্য হয়ে ভুক্তভুগিরা বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অভিযোগ করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
এসব সন্ত্রাসী আবু বককারের ছেলে নাজিম কে মেরেছে। একই সন্ত্রাসীরা জোর পূর্বক দাউদের গাছ কেঁটে নিয়েছে। তাকে মারধোর করে সন্ত্রাসীরা তার বাড়িঘর ভেঙ্গে রাস্তা করার পায়তারা করছে। এসব ইত্যা গ্রামের ঘটনা।
কয়েক দিন আগে এসব চিহ্নিত সন্ত্রাসী চালাকিডাঙার বিএনপি কর্মী আসাদুজ্জামান সবুর কে মারধোর করে তার পা ভেঙে দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেদিন রাত ১১টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে ভ্যান ও রিক্সায় অস্ত্র পরিবহন করতে দেখা যায়। এছাড়া আরো দুই জন কে তারা মারধোর করে। এত অপরাধ করলেও তাদের কেউ কিছু করতে পারছে না।
ভুক্তভুগিদের পক্ষে মনিরামপুর থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও থানা অভিযোগ গুলোকে মামলা হিসাবে রেকর্ড করেনি। কেন তার সদুত্তর নেই।
আওয়ামীলীগের চিহ্নিত এসব সন্ত্রাসী এখন কখনো স্থানীয় জামায়াত আবার কখনো আঞ্চলিক দু একজন বিএনপি নেতার মদদে এসব অপরাধ নিরাপদে করতে পারছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কাসিমনগর ইউনিয়নের নাদড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে যুবলীগ নেতা শাওন। অভিযোগ রয়েছে তার কাছে একটি কালো রঙের নাঈম এম এম পিস্তল রয়েছে। ইত্যা গ্রামের অতিয়ারের ছেলে জিন্নাহ (৩২), গয়াসপুরের তসলিমের ছেলে রিপন, খোজালিপুরের শাখাওয়াত মুন্সীর ছেলে তাজ উদ্দীন, লেবুজ্ঞাতি ট্যাংরার গাছির ছেলে স্বপনসহ প্রায় ২০/২২ জন চিহ্নিত অপরাধী এসব অপরাধ করেছে। নাদড়ার শাওনের চাচা বুর মোহাম্মদ এদের পরিচালক বলে জানা গেছে।
জীন্নাহর কাছে পাগলা শাহিনের একটি নাইন এম এম পিস্তল ও হ্যান্ডকাপ রয়েছে। এরা পুলিশ পরিচয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করছে বলে সু নিদৃষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা কয়েক দিন আগে সলুস গেট খালের মাটি অবৈধ পন্থায় বিক্রি করেছে। ঐ মাটি আজিবরের ছেলে বিশ্বাসের জমিতে পড়ে। ঐ চক্রের সদস্যরা মাটি ফেরত চায়। তা না হলে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।
মোস্তফার ছেলে ইসমাইলের এক পা ও এক হাত ভেঙে দেয়। এর ফলে কৃষক ইসমাইল চরম বেকায়দায় পড়েছে। ইত্যা বাজারে সকাল ১০ টায় এই ঘটনা ঘটলেও কেউ বাঁধা দিতে পারেনি।
জানা যায় সলুইস গেট এলাকার মকবুলের ছেলে কামরুল এই চক্রের অন্যতম সদস্য। সে এর আগে সিআইডি কর্মকর্তা তৌহীদের হাত থেকে পালিয়ে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চাচার সেলটারে চলে যায়।
পাগলা শাহিনের সহযোগী সাজামেলের ছেলে সামছু, রজব আলীর ছেলে লিটন, ইত্যার সামাদের ছেলে মনির, হাসমতের ছেলে করিম, মনুর ছেলে হান্নান, নুর ইসলাম, রফিক, সায়েদের ছেলে ইমরান এসব অপরাধে সম্প্রীক্ত।
কাসিমনগরের সাবেক শিবির কমান্ডার বাসার ও হায়দার এদের মদদ দিচ্ছে। ভুক্তভুগি বিএনপির কর্মীরা এসব অভিযোগ করেছেন। তবে জামায়াতের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, কাসিমনগরে জামায়াত বিএনপি রাজনৈতিক প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব চলছে। এসব নিয়েই মারামারি হয়েছে। আর আওয়ামীলীগ ফ্যাসিস্ট দোসররা ভোল পাল্টিয়ে সুবিধামত বিভিন্ন মহলে মিশে যাচ্ছে।
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ খ্রি.
















