

মোঃ আসতারুল আলম, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের নিয়াজিপাড়ায় সৎ ছেলেদের দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন মোছাঃ মমেনা বেগম। তিনি মৃত আব্দুল হাফেজ খন্দকারের দ্বিতীয় স্ত্রী। কোতয়ালী থানায় দায়ের করা অভিযোগে তিনি জানান, তার সৎ তিন ছেলে ও তাদের স্ত্রীদের দ্বারা দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে আব্দুল হাফেজ খন্দকারের প্রথম স্ত্রী সাফিরন বেগম নিজেই মমেনা বেগমকে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করেন। পারিবারিক শান্তির কথা বিবেচনা করে মমেনা বেগম নিজে সন্তান নেননি। ২০১৭ সালে স্বামীর মৃত্যু হলে, জমি বণ্টন না করেই তিনি মারা যান। এরপর থেকেই সৎ ছেলেরা তাকে বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ।

মমেনা বেগমের অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তার সৎ তিন ছেলে—মোঃ আব্দুর রাজ্জাক (৫৫), মোঃ জিয়াউর রহমান (৫২), ফেরদৌস এবং তাদের স্ত্রীদের দ্বারা হামলার শিকার হন তিনি। এতে তার ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয় এবং ঘরে থাকা নগদ টাকা, সেলাই মেশিনসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশীরা জানান, মমেনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। জমি বণ্টন না হওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এলাকাবাসী বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কোতয়ালী থানার এসআই বেলাল হোসেন জানান, “এটি মূলত জমি সংক্রান্ত বিরোধ। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন ওসি বরাবর জমা দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে অভিযুক্তদের একজন মোঃ আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, “আমরা ঘরবাড়ি ভাঙিনি, শুধু সরিয়ে নিয়েছি।” অপর অভিযুক্ত মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, “মামলা হলে আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা করবো।”
এলাকাবাসীর মতে, বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। একজন নারীকে তার শেষ বয়সে রাস্তায় ফেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫













