

সজীব খান, চাঁদপুর :
চাঁদপুর সদর উপজেলাধিন ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬-১০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। চলতি মানের বুধবার দুপুর ১টায় সরেজমিনে উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের ১৩২ হিন্দুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা গেছে বিদ্যালয়টি বন্ধ।

স্থানীয় এক তরুণের কাছে জানতে চাইলে সে জানায় আজকে ক্লাসে মাত্র ৬জন শিক্ষার্থী এসেছে অল্প সংখক শিক্ষার্থী হওয়ায় শিক্ষকরা আগে বাগে চলে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা জানান, এক সময় বিদ্যালয়টিতে প্রচুর শিক্ষার্থী ছিল বিদ্যালয়টির বেশ কিছু দূরে দুটি মাদ্রাসা হওয়ার পর থেকে আস্তে আস্তে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী কমে যায়। বর্তমানে ৬, ৭, ৮ কখনোবা ১০জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলে পাঠদান। শিক্ষার্থী ভর্তি বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আগ্রহ কম। কারণ তারা তো মাস গেলে বেতন পাচ্ছে। বিদ্যালয়ের আশেপাশে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
পক্ষান্তরে মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষকরা প্রত্যেক বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মাদ্রাসাতে ভর্তি করার চেষ্টা করে। এছাড়াও এক নারী অভিভাবক জানান, শিক্ষকদের আগ্রহ কম থাকার কারণে বিদ্যালয়টিতে ছাত্রছাত্রী কমে গেছে। এছাড়া স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাসেম খান বিদ্যালয়ে বেশির ভাগই অনুপস্থিত থাকেন। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে প্রাক্তন দুই শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায় তারা এখন মাদ্রাসায় পড়ছে। ঈদগাহ মাঠ থেকে তারা দুজন সংবাদ কর্মীকে বিদ্যালয়টি পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। যাওয়ার পথে তারা বলে একটা বাজে তো স্কুল মনে হয় বন্ধ হয়ে গেছে আপনি দ্রুত চলুন।
জানতে চাইলে তারা বলে প্রতিদিনই স্কুল ১টার আগে বন্ধ হয়ে যায়। কয়টায় শুরু হয় জানতে চাইলে তারা বলে সকাল ১০টায়।
আমরা জানতে পারি বিদ্যালযের পাশের একটি রুমে মোঃ মাইনুদ্দিন খান নামে বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক থাকে। এরপর বিষয়টি তার কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি এবিষয়ে কোন কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে কল দিয়ে সাংবাদিক উপস্থিতির কথা জানান।
পরে তিনি বলেন বিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০০ জন। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসে না। তিনি ছাড়া বাকি শিক্ষকরা চাঁদপুর থেকে এসে ক্লাস করান। মোঃ শাহাদাত হোসেন, মোঃ মনির হোসেন এ দুজন শিক্ষক কিছুক্ষণ আগে স্কুল বন্ধ করে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রোওয়ান হয়েছেন। এর বেশি কিছু তিনি বলতে পারবেন না। বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাগজে-কলমে আরও বিস্তারিত ও সঠিক তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়রা আরো জানায় প্রতিদিন উত্তাল নদী পার হয়ে শিক্ষকরা আসতে সমস্যা হয় এছাড়া বৈরি আবহাওয়ায়ও শিক্ষকরা স্কুলে আসতে পারেন না। আসলেও তাদের আগে বাগে চলে যেতে হয়। এখান থেকে স্থানীয় শিক্ষক নিয়োগ দিলে স্কুলটি ঘুড়ে দাড়াতে পারে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক হাসেম খান এর সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি কথা এড়িয়ে গিয়ে বলেন ফ্যাসিস্টরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমার এদিক সেদিক দৌড়াতে হয় অনেক কাজ থাকে। আর অন্যান্য শিক্ষকদেরও আজকে শিক্ষা অফিসের কাজ থাকায় তারা আগে আগে স্কুল থেকে বেড়িয়েছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান জানান, আগে কি ছিল সেটা আমার জানা নাই, আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি এখন থেকে গুরুত্ব সহকারে বিষয় গুলো দেখা হবে। শিক্ষকদের স্কুলের বাহিরে কোন কাজ নাই। নিয়মিত স্কুলে ক্লাস না করালে তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫













