বিএনপি নেতা মৃত ব্যাক্তি কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতি প্রবাসীকে আওয়ামীলীগ নেতা বানিয়ে নাশকতা মামলা যশোরে

মালিকুজ্জামান কাকা :

একটি মামলা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। এই মামলায় বিএনপি নেতা, কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতি কে আসামি করেছে পুলিশ। ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক দেখানো হয়েছে একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে। অথচ ঐ সেনা কর্মকর্তার আওয়ামীলীগের কোন কমিটিতেই নাম নেই। মামলার দুই জন আসামি মৃত বলে জানা গেছে।

এছাড়া এক যুগের বেশি প্রবাসীকে আসামি করা হয়েছে। এমন অনেক প্রশ্ন নিয়ে মামলাটি যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ। ভুক্তভুগিরা ধারণা করছে তাদের ইচ্ছে খুশি ফাঁসাতে কোন মহল মামলাটি দায়ের করেছে।

মামলার বাদি হলেন এস আই (নিরস্ত্র) মো: শফিকুল ইসলাম। বিপি -৭৮৯৭০৫০৫৫১। তিনি বর্তমানে যশোর সদরের পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত। মামলা নম্বর ১২৬, তারিখ: ৩০ আগস্ট ২০২৬। সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর ৬/৭/৮/৯/১০/১১/১২/১৩ ধরায় মামলাটি রজ্জু করা হয়েছে।

আসামি তালিকায় ১০২ নং ক্রম এ আসামি মো: নুর ইসলাম বাবু সাধারণ সম্পাদক যশোর পৌরসভা ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ দেখানো হয়েছে। বাস্তবে ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হলেন মোঃ নুর ইসলাম সিকদার। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দুইজন হলেন মোঃ আব্দুল সাত্তার ও মোঃ জাহাঙ্গীর আলম আনু। সর্বশেষ তালিকায় এই নাম পাওয়া গেছে।

তবে কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম ৬নং ওয়ার্ড রায়পাড়া মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি ছিলেন মোঃ নুর ইসলাম বাবু সার্জেন্ট (অব:)। এই কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মোঃ মাহমুদুল হাসান বাবু। খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই মাহমুদুল হাসান বাবু ৬নং ওয়ার্ড বিএনপি কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক। বিগত সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে তিনি যশোর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ ইসলাম অমিতের ধানের শীষ মার্কায় ক্যাম্পেইন করেছেন। রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদক প্রাপ্ত মাছ চাষী ও ব্যাবসায়ী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান মজুসহ অনেকেই ধানের শীষ প্রতীকের ভোট চাচ্ছেন এমন অনেক ছবি ও ভিডিও রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীরা বলেছেন মাহমুদুল হাসান বাবু বিএনপির সক্রিয় একজন। তাদের সাথেই জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ তথা অনিন্দ ইসলাম অমিতের পক্ষে ভোট চেয়েছেন তাবৎ রায়পাড়া, ইসমাইল কলোনী, তুলোতলা সাড় অফিস মোড়, কবরস্থান চাঁচড়া এলাকায়।

বিএনপির নেতা কর্মীরা বলেন, এটি একটি প্রশ্নবোধক ষড়যন্ত্রমূলক মামলা কোন সন্দেহ নেই। এখানে ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদককে কোন মহল মামলা থেকে বাঁচাতে এই প্রতারণা করেছেন। তারা পুলিশ কর্তাকে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করেছেন অনুমিত হয়। ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ লীগ সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ও তাদের অনুসারিদের এই মামলায় আসামি করা হয়নি। অথচ এরা ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের অনুসারি। এটি বিএনপির স্থানীয় নেতা কর্মীদের মতামত।

পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নগর শাখা ৬নং ওয়ার্ড, যশোর অনুমোদিত কমিটি। এই কমিটির কোন নেতা কর্মী এই মামলার আসামি হয়েছে বলে দায়িত্বশীল বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন। এছাড়া প্রবাসী ও মৃত ব্যাক্তিরাও এই মামলার আসামি যার বিবরণ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপির একটি সূত্র জানান, দলীয় গ্রূপিং লবিংকে পুঁজি করে কোন মহল পুলিশ ব্যাবহার করে এসব মামলা দায়ের করেছে। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুন্ন হয়েছে তেমনি তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব নিয়েও জোর প্রশ্ন উঠেছে। একই সাথে এই মামলার ভবিষ্যত নিয়েও কথা উঠছে।

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি.

You might like