

সিরাজগঞ্জ তাড়াশ থেকে জিল্লুর রহমান :
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ গ্রামে একটি ঐতিহাসিক ভাঙা মসজিদের মূল্যবান কালো পাথর চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় গ্রামবাসীর হাতে অভিযুক্তরা আটক হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ গ্রামের প্রাচীন ভাঙা মসজিদটি এলাকার ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্মৃতির প্রতীক। মসজিদের কাঠামোতে ব্যবহৃত কালো পাথরগুলো ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। সম্প্রতি কিছু দুষ্কৃতকারী রাতের অন্ধকারে বা সুযোগ বুঝে এসব কালো পাথর খুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। পাথরগুলো বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় গ্রামবাসী তাদের দেখতে পেয়ে ঘিরে ফেলে আটক করেন গ্রামবাসীরা ।
অভিযুক্তদের ধরে তাড়াশ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলেন, এ ধরনের অপকর্ম শুধু সম্পত্তি চুরি নয়, বরং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর আঘাত। তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়ের করে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।তাড়াশ থানার পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে পাথর চুরির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
তবে অভিযুক্তদের পরিচয় ও সংখ্যা এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওগাঁ গ্রামের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মসজিদের পাথর চুরি করা মানে আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও ধর্মীয় সম্মানের ওপর হামলা। এদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে, যাতে আর কেউ এ ধরনের সাহস না দেখায়।”
স্থানীয় মসজিদ কমিটি ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও একই সুরে কথা বলছেন। ঐতিহাসিক নওগাঁ শাহী মসজিদ বা ভাঙা মসজিদ নামে পরিচিত এ স্থাপনা সুলতানি আমলের নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের প্রাচীন স্থাপনার নিদর্শন রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা প্রশাসনের কাছে মসজিদটির নিরাপত্তা জোরদার করার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সেদিকে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য ও অভিযুক্তদের পরিচয় পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং ঐতিহ্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি.














