

সিরাজগঞ্জ তাড়াশ থেকে জিল্লুর রহমান :
আশ্বিন মাস শুরু হতে না হতেই সিরাজগঞ্জের তাড়াশসহ চলনবিল অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে নানা প্রজাতির পাখির আনাগোনা। বক, পানকৌড়ি, শামুকখোল, মাছরাঙাসহ বিভিন্ন দেশি পাখির উপস্থিতিতে বিলাঞ্চলের প্রকৃতিতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

আগামী রবিশস্য আবাদকে সামনে রেখে তাড়াশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা আগাছাযুক্ত জমিতে চাষাবাদ শুরু করেছেন। জমিতে লাঙল ও পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ দেওয়ার সময় মাটির নিচে থাকা বিভিন্ন পোকামাকড় বেরিয়ে আসছে। আর সেই পোকামাকড় খেতে দলবেঁধে জমিতে ছুটে আসছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।
চাষের সঙ্গে সঙ্গে কোথাও শত শত বককে জমির ওপর ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। আবার কোথাও পানকৌড়ি, শামুকখোল ও মাছরাঙাসহ অন্যান্য পাখি খাবারের সন্ধানে ব্যস্ত সময় পার করছে। পর্যাপ্ত খাবার পেয়ে পাখিদের এমন বিচরণে কৃষকেরাও উপভোগ করছেন প্রকৃতির অপূর্ব দৃশ্য।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, প্রতিবছর রবিশস্য চাষের মৌসুমে জমিতে চাষ দেওয়ার সময় পোকামাকড়ের উপস্থিতি বাড়ে।তখন বিভিন্ন প্রজাতির পাখি জমিতে এসে এসব পোকামাকড় খেয়ে থাকে। এতে একদিকে যেমন পাখির খাবারের জোগান হয়, অন্যদিকে জমির ক্ষতিকর পোকামাকড়ও কিছুটা কমে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, চলনবিলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পাখিদের এমন বিচরণ গ্রামীণ প্রকৃতির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে মাঠে পাখিদের খাবার খোঁজার দৃশ্য এখন পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীদেরও আকৃষ্ট করছে।
প্রকৃতিপ্রেমীরা বলছেন, পাখিদের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে তাদের শিকার ও নিধন বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বিল ও কৃষিজমির প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা গেলে প্রতিবছরই এমন পাখির সমাগম আরও বাড়তে পারে।
আশ্বিনের শুরুতেই চলনবিলের মাঠজুড়ে কৃষকের চাষাবাদ আর পাখিদের খাবার খোঁজার এই দৃশ্য যেন প্রকৃতি ও কৃষির এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি করেছে।
প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.














