ময়মনসিংহে খাদ্য পরিদর্শক কামালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিপুল সম্পদের অভিযোগ

জাকিরুল ইসলাম বাবু, জামালপুর প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে কর্মরত খাদ্য পরিদর্শক শাহ মাজহারুল ইসলাম কামালের বিরুদ্ধে বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তার, পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগে তদবির, অনিয়ম-দুর্নীতি, জুয়ার আসর থেকে অর্থ আদায় এবং নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে জেলা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

অভিযুক্ত কামাল বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সেচ শাখার সেচপাম্প মেরামতকারী শাহ আবুল কাশেমের বড় ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তাকে নিয়ে অনলাইন ও ছাপা পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ:
গফরগাঁওয়ের রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, কামাল গফরগাঁও সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির সদস্য এবং ছাত্র সংসদের নাট্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় অংশগ্রহণের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় হন এবং ২০২০ সালে তদবির করে উপজেলা এলএসডি হিসেবে বদলি নেন।

চাকরি ও কর্মস্থল:
সূত্র জানায়, গফরগাঁওয়ের সাবেক এমপি প্রয়াত আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের তদবিরে ২০০০ সালের ২৬ ডিসেম্বর তিনি খাদ্য বিভাগে যোগ দেন। দীর্ঘদিন ময়মনসিংহে থাকার সুযোগে তিনি বদলি ও ঠিকাদারি নিয়োগে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালের জুলাইয়ে ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগে ফুলপুর এলএসডি থেকে প্রত্যাহার করে তাকে নেত্রকোনার আটপাড়ায় পাঠানো হয়। পরে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ হয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে ডেপুটেশনে আসেন।

সম্পদের অভিযোগ:
তার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ নগরীর মফিজ উদ্দিন ইনডেক্স প্লাজায় ফ্ল্যাট, আমলাপাড়া ও নতুন বাজারে ফ্ল্যাট, দুর্গাবাড়ী রোডে দোকান, কাঁচিঝুলিতে ৬ তলা ফাউন্ডেশনের ৪ তলা ভবন, গফরগাঁও জামতলা মোড় ও ঈদগাহ বাজারে দোকান, ঢাকার উত্তরায় ফ্ল্যাট এবং ঢাকা বাইপাসে জমিতে শেয়ারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেট্রো-গ-৪৩-২৬৪৭ নম্বরের একটি প্রিমিও গাড়ি পরিবহন ঠিকাদার আবু বক্কর সিদ্দিকের নামে নিবন্ধিত হলেও কামাল ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ।

স্ত্রী নূরজাহান বেগম, ভাই শাহ ইশতিয়াক রুবেল ও শ্যালক ফাহিমের নামেও জমি ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগের অভিযোগ তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তারা আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব ও দলিল যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

জুয়ার আসরের অভিযোগ:
স্থানীয় বাসিন্দা সুলতানের অভিযোগ, নতুন বাজার কাঁচাবাজারে খাদ্য পরিদর্শক সমিতির কার্যালয়ে রাতে জুয়ার আসর বসে, যেখানে ‘বিডার’ হিসেবে কামাল বিপুল অর্থ আয় করেন।

প্রতিক্রিয়া:
ময়মনসিংহের বিএনপি নেতা শামছুল হক বলেন, তার পরিবারের আগের আর্থিক অবস্থা ও বর্তমান সম্পদের তুলনামূলক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহ মাজহারুল ইসলাম কামালের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুঃ জসীম উদ্দিন খানও ফোন রিসিভ করেননি।

ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহমুদুল হাসান বলেন, “বিষয়গুলো খোঁজ নিয়ে দেখব।” আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশরাফুল আলম বলেন, অভিযোগ খতিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সনজীদা শরমিন ডিজির সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

দ্রষ্টব্য: উল্লিখিত সকল অভিযোগ অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এর সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণিত হবে।

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.

You might like

About the Author: priyoshomoy