অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ, শরীরে পচন নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন শাহিনুর

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি :

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সারেংকাঠি ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বিষ্ণুকাঠি গ্রামের অতি দরিদ্র দিনমজুর মোস্তফা আকনের স্ত্রী শাহিনুর বেগম (৪৫) দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বর্তমানে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে পচন ধরেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ১০ লাখ টাকা। কিন্তু দিনমজুর স্বামীর পক্ষে এত বিপুল অর্থের জোগান দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে সামান্য জ্বর দিয়ে শাহিনুর বেগমের অসুস্থতার শুরু। স্থানীয়ভাবে ও বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করানো হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরবর্তীতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে পচন ধরতে শুরু করে। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর।

শাহিনুরের স্বামী মোস্তফা আকন জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর স্ত্রীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। প্রতিটি পরীক্ষার খরচ প্রায় ২৩ হাজার টাকা হওয়ায় অর্থের অভাবে সেগুলোও করাতে পারেননি তিনি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ লাখ বা তারও বেশি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

মোস্তফা আকন বলেন, “চার মাস আগে আমার স্ত্রীর সামান্য জ্বর হয়েছিল। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করিয়েও কোনো ফল পাইনি। বর্তমানে ডাক্তার তিনটি পরীক্ষা দিয়েছেন। প্রতিটি পরীক্ষার খরচ প্রায় ২৩ হাজার টাকা। টাকার অভাবে পরীক্ষা করাতে পারিনি। ডাক্তার বলেছেন, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে প্রায় ১০ লাখ বা তারও বেশি টাকা লাগতে পারে। আমি একজন দিনমজুর। একসঙ্গে এত টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষগুলো যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো আমার স্ত্রীকে বাঁচানো সম্ভব হবে।”

শাহিনুরের পরিবারে রয়েছে চার বছরের একটি কন্যাশিশু। মায়ের অসুস্থতার কারণে শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন পরিবারটি। ইতোমধ্যে বিভিন্নভাবে চিকিৎসার অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করা হলেও প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে পারেনি পরিবার।

নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, “রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো জরুরি। রোগের প্রকৃত কারণ ও চিকিৎসার ধরন নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের জটিল অবস্থায় দেরি না করে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া উচিত।”

অসহায় শাহিনুর বেগমের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান, মানবিক ও সহৃদয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে তাঁর পরিবার। সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা পেলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে শাহিনুর সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন এমন আশায় দিন গুনছে পরিবারটি।

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.

You might like