আধুনিকতার ছোঁয়ায় স্মৃতির পাতায় এখন ঐতিহ্যের ’যাতা’

মো.মজিবুর রহমান রনি:

কালের আবর্তনে বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ‘যাতা’। কিছু বছর আগেও গ্রামের গৃহবধূরা যাতা দিয়ে চাল ও গম থেকে চালের গুঁড়া ও আটা-ময়দা তৈরি করতো। এছাড়া যাতা দিয়ে ভাঙানো হতো মুসুরী, খেসারী, মাশ কলাইসহ প্রভৃতি রকমের ডাল। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রায় হারিয়ে গেছে যাতা কল।

পাথরের তৈরি যাতা, খুবই মসৃণ দুই খন্ড পাথর কেটে গোল করে তৈরি করা হতো যাতা । সেই খন্ড দুটির ভেতরের ভাগকে লোহার তৈরি বিশেষ বাটাল বা যন্ত্র দ্বারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চটলা করে এর ধার বাড়ানো হয়। যাতার উপরের এবং নিচের অংশের মাঝ বরাবর একটি ছিদ্র করা হয়। সেই ছিদ্রের মাঝে কাঠ বা বাঁশ দ্বারা তৈরি একটি হাতল লাগানো হয় যা দুই পাটকে এক জায়গায় রাখতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন : জেনে নিন যৌন রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

দুই ছিদ্রের মাঝে বিশেষ খাঁজ কাটা থাকে যার সাহায্যে পাট দুটির মাঝে কতটুকু ফাঁক থাকবে তা নির্ধারণ করা হয়। শুধু উপরের পাটে আর একটি ছিদ্র করা হয় যা দিয়ে শস্যকে ভিতরে পাঠানো হয় পিষার জন্য। গৃহবধূরা মাঝের ছিদ্র হাতল ধরে আরেকটি ছিদ্র দিয়ে শস্য ভিতরে দিয়ে হাতল ধরে জোরে ঘুরাতে থাকে। এতে শুধু উপরের পাট নিচের পাটের উপর ঘুরতে থাকে এবং দুই পাটের ঘর্ষণের ফলে উপর হতে দেওয়া শস্য ভেঙে গুঁড়া হয়ে দুই পাটের চার পাশের ফাঁক দিয়ে দ্রুত গতিতে বেরিয়ে আসে। অনেক সময় ডাল ভালোভাবে গুঁড়া হয় না। ফলে সেগুলিকে পুনরায় ভিতরে দিয়ে যাতা ঘুরিয়ে ভালো করে গুঁড়া করা হতো । দুই পাটের মাঝে থাকা খাঁজ কাটা দ-র মাধ্যমে দু’পাটের ফাঁক কম বেশি করে শস্যের আটা বা ডালের গুঁড়া কেমন হবে তা নির্ধারণ করা হতো।

যাতা পাথরের তৈরি হওয়ায় কাজ চলাকালীন সময়ে যাতা থেকে এক ধরনের মিষ্টি শব্দ শোনা যেতো। কিন্তু বর্তমানে গ্রামাঞ্চলের কোথাও যাতার ব্যবহার তেমন আর চোখে পড়ে না।

আরো পড়ুন : মেহ প্রমেহ ও প্রস্রাবে ক্ষয় রোগের কার্যকরী সমাধানসমূহ

উন্নত মানের মেশিন তৈরি হওয়ার কারণে কেউ আর যাতা চালাতে চায় না।আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যের এই যাতা এখন শুধুই স্মৃতি ।এ সময়ের গৃহবধুরা চিনেনা যাতা । যাতার কথা বলতেই মনে করে এ যেন রুপকথা ।চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের রান্ধুনিমূড়া গ্রামের এক গৃহবধুকে যাতার কথা বল্লে বলে সেটা আবার কি ? যাতার সম্পর্কে ধারনা দিলে সে বলে এত কষ্ট করে চাউলের গুড়া করে খাওয়ার চাইতে মেশিনে করে খাব ।এত কষ্ট করতে পারবোনা ।এখনকার আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে কত উন্নত মেশিন তৈরী হয়েছে তাহলে এত কষ্ট করতে যাব কেন ।

ঐ গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী মোস্তফা কামাল বলেন , আধুনিকতার যান্ত্রিকের কবলে পড়ে হারিয়ে গেয়ে গ্রামের অনেক ঐতিহ্য । আর এর মধ্যে অন্যতম হলো যাতা যা এখন স্মৃতিতে পরিনত হয়েছে ।

 

You might like