

মোঃ মাসুদুল আলম, স্বরূপকাঠী প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের নেছারাবাদে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের গণগ্রেফতার আতঙ্কে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ অক্টোবর থেকে প্রতিদিন রাতে বিভিন্ন স্থানে হানা দিয়ে ডিবি পুলিশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, ১৭ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে নেছারাবাদ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সোহাগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পিরোজপুর ডিবি পুলিশ। একই রাতে ওই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্বাস হোসেনকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন (১৮ অক্টোবর) রাতে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য অর্নব বিশ্বাসকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ ডিবি পুলিশের ইনচার্জ মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা কাউকে গ্রেফতার করিনি, পিরোজপুর ডিবি পুলিশ তাদের ধরেছে।” তবে পিরোজপুর ডিবি পুলিশের ইনচার্জ মিলন কুমার বলেন, “চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ ও আব্বাস হোসেনের গ্রেফতারের বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।” অন্যদিকে নেছারাবাদ থানার ওসি বনি আমিন জানান, “ডিবি পুলিশ তাদের নিয়ে গেছে, আমাদের থানা থেকে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।”
এরপর ২০ অক্টোবর দুপুরে স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মতিউর রহমান বাদশা মিয়াকেও নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ।
মো. মতিউর রহমান বাদশা মিয়ার ছেলে মো: প্রিন্স মাহমুদ অভিযোগ করেন, ২০ অক্টোবার দুপুরে বাসায় সাদা পোশাকে একদল লোক এসে তার পিতাকে ধরে নিয়ে গেছে। আমার পিতা খুবই অসুস্থ। তিনি নির্দোষ।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকেই যারা দলের নাম ভাঙিয়ে দুর্নীতি ও সম্পদ অর্জন করেছেন তারা ঢাকায় নির্বিঘ্নে অবস্থান করছেন, অথচ তৃণমূলের প্রকৃত কর্মীরাই এখন ডিবি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। হঠাৎ এই গণগ্রেফতারের ঘটনায় অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যাচ্ছেন।
সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫













