অ্যান্টিবায়োটিক বেশি খেলে কি হতে পারে?

মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি রক্তের বর্জ্য ছেঁকে বাইরে বের করে। এই অঙ্গ অসুস্থ হলে শরীরের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয় এবং তা জীবনঘাতীও হতে পারে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ কিডনির যত্নে সচেতন নন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও এক উদ্বেগের কারণ হলো অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবন। সর্দি- কাশির মতো সাধারণ অসুখে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা অনেকেরই। যা কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে,অ্যান্টিবায়োটিক শুধুমাত্র ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে না-এটি উপকারী বা বন্ধু ব্যাকটেরিয়াগুলোকেও কমিয়ে দেয়। অথচ এই শরীর-বান্ধব ব্যাকটেরিয়াগুলোই স্বাভাবিকভাবে কিডনিতে পাথর তৈরি হওয়া প্রতিরোধ করে। তাদের সংখ্যা কমে গেলে বা অনুপস্থিত হলে শরীরে অক্সালেট জাতীয় পাথর জমার প্রবণতা বাড়ে। কিডনিতে যে পাথরগুলো বেশি দেখা যায়, তার প্রায় ৬০ শতাংশই এ ধরনের অক্সালেট পাথর।

বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে মাইক্রোবায়োম জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে। আমেরিকান ইউরোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের অর্থানুকূল্যে কানাডার লসন হেলথ রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির যৌথ গবেষণায় জানানো হয়েছে- যাদের শরীরে বিশেষ করে লালা, খাদ্যনালি ও মূত্রনালিতে উপকারী বা বন্ধু ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কম, তাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

এই যৌথ গবেষণায় মোট ১১৩ জন মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। তাদের মধ্যে ৮৩ জনের কিডনিতে পাথর ছিল, আর বাকি ৩০ জন ছিলেন সম্পূর্ণ সুস্থ। অংশগ্রহণকারীদের কেউই গত তিন মাসে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেননি।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যাদের কিডনিতে পাথর ছিল, তাদের শরীরে মুখ, খাদ্যনালি ও মূত্রনালিসহ বিভিন্ন স্থানে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। ফলে ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হওয়াই পাথর গঠনের বড় কারণ হিসেবে উঠে আসে।

প্রকল্পের প্রধান গবেষক জানিয়েছেন, ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত করা ও তাদের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণের জন্য তারা ব্যবহার করেছেন ‘শটগান মেটাজিনোমিক সিকোয়েন্সিং’ পদ্ধতি। এই পরীক্ষার ফল দেখায়, যাদের কিডনিতে পাথর রয়েছে, তাদের শরীরে একাধিক সাধারণ উপকারী বা বন্ধু ব্যাকটেরিয়া হয় সম্পূর্ণ অনুপস্থিত, না হলে সংখ্যায় অত্যন্ত কম। ফলে এই ব্যাকটেরিয়াগুলো শরীরে যে ভিটামিন ও বিপাকজাত পদার্থ (মেটাবোলাইট) তৈরি করে, তার পরিমাণও কমে যায় বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়-যা কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যাদের কিডনিতে পাথর জমেছিল, তাদের খাদ্যাভ্যাস তুলনামূলকভাবে কম স্বাস্থ্যকর এবং অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের প্রবণতাও বেশি।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই রোগীদের মধ্যে অন্তত ৮৪ শতাংশের শরীরে শুধু ‘অক্সালোব্যাকটর’ নামের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ব্যাকটেরিয়াই নয়, আরও একাধিক উপকারী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিও হয় খুব কম, না হলে নেই বললেই চলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জানা ছিল-অক্সালোব্যাকটর নামের উপকারী ব্যাকটেরিয়া কিডনিতে পাথর জমার পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে। কিন্তু সাম্প্রতিক এই গবেষণা দেখিয়ে দিয়েছে, বিষয়টি আরও বিস্তৃত। শুধু অক্সালোব্যাকটরই নয়, শরীরে থাকা আরও নানা ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়াও কিডনিতে পাথর তৈরি প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যোগাযোগ

হাকীম মো. মিজানুর রহমান

ডিইউএমএস (ঢাকা) | বিএসএস (জা.বি) | এএপিএনএ (ভারত) 

অলটারনেটিভ মেডিসিনে ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা 

সরকারি রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ৩৫৪৬/এ 

 চিকিৎসা কেন্দ্রের ঠিকানা

সততা প্লাজা, 

ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার 

প্লট নং ২৬, গাউছিয়া মডেল টাউন 

রামপুর বাজার, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর

প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন

মোবাইল: 01762-240650

সেবাসমূহ :

শ্বেতী রোগ, যৌন রোগ, সোরিয়াসিস, দাদ, একজিমা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, থাইরয়েড, পাইলস-ফিস্টুলা, ডায়াবেটিস, টিউমার, জরায়ু টিউমার, ব্রেস্ট টিউমার, পলিপাস, টনসিল, মেহ প্রমেহ, আঁচিল, ব্রণ, বন্ধ্যাত্বর চিকিৎসা।

০৭  ডিসেম্বর ২০২৫

You might like