

মোঃএনামুল হক, পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, বিগত সময়ে বিদ্যুৎ খাতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বিদ্যুৎ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। একই সাথে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান-ইসরাইল ও আমেরিকার চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবেও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। তাই দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আজাদ বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সরাসরি দেখভাল করছেন এবং জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, অল্প সময়ের মধ্যেই বর্তমান সংকট কাটিয়ে মানুষের কাছে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। বাড়ির ছাদ, অনাবাদি জমি, নদীর তীরসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত ও বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় তিনি পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সব দলের নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে একটি সার্বজনীন পঞ্চগড় গড়ে তুলতে হবে। সরকারের ভুল-ত্রুটি থাকলে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারা গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ দেবেন এবং সরকার তা আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণ করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে।
পরে তিনি জাতীয় মৎস্য পক্ষের আলোচনা সভায়, মাছ দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস উল্লেখ করে মাছের উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানান।
মৎস্য খাতে পঞ্চগড়ের বর্তমান ঘাটতির কথা উল্লেখ করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, জেলায় বর্তমানে প্রায় চার মেট্রিক টন মাছের ঘাটতি রয়েছে। আগামী মৎস্য পক্ষের আগে এই ঘাটতি দূর করে পঞ্চগড়কে মাছ উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলায় পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
সরকার পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী,খাল বিল খননের কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এসব নদী খাল বিলের পাড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও চলমান আছে। এসব নদী খাল বিলে মাছের চাষ করে মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে।
পঞ্চগড়ের প্রায় পৌনে ১২ লাখ মানুষের কাছে নিরাপদ আমিষ পৌঁছে দিতে মৎস্য চাষের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এ জন্য বিত্তবানদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও মাছ চাষে এগিয়ে আসতে হবে।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে আলোচনা সভায় পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোছাঃ শুকরিয়া পারভিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ডা. কে,এম, আব্দুল হালিম সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, মৎস্য চাষি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মৎস্য চাষে বিশেষ অবদান রাখায় কয়েকজনকে পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
তিনি রঙিন বেলুন উড়িয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রকাশিত : রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

















