

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে পরিকল্পিত অপহরণ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) বিতর্কিত ভূমিকা ও ‘তেলেসমাতি’র বিরুদ্ধে এবার আইনি লড়াইয়ে নামছে ভুক্তভোগী পরিবার।
রহস্যজনক কারণে জড়িতদের আড়াল ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে ব্যাপক ত্রুটিপূর্ণ, প্রশ্নবিদ্ধ ও হাস্যকর চার্জশিট দাখিলের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে ‘নারাজি পিটিশন’ দাখিল করা হয়েছে।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শোভাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রীকে (১৩) পরিকল্পিত অপহরণের পর থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্তির শুরু থেকেই তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এসআই রুহুল আমিনের (বিপি নং- ৮৫০৫০৮০৪৭৩) ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। এ নিয়ে মামলার বাদী অপহৃতার পিতা বার বার উচ্চ পর্যায়ে আইও পরিবর্তনের আবেদন করেন। এমনকি, বিজ্ঞ আদালতে এ দুর্নীতিবাজ আইও পরিবর্তনের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত আবেদন নথিভুক্ত করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এ অপহরণে জড়িতদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তদন্তে চরম অবহেলা ও গড়িমসি করেন। সাক্ষী ও বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ না করেই মনগড়া ও প্রভাবিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তিনি আদালতে যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন, তা বাদীকে কোনভাবেই জানানো হয়নি। অত্যন্ত গোপনীয়তায় মূল অপরাধীদের রক্ষা করা ও মামলার ধারা দুর্বল করার স্পষ্ট অপচেষ্টায় স্বার্থ হাসিলের বিনিময়ে মনগড়ামতে প্রস্তুতপূর্বক এ হাস্যকর প্রতিবেদন দাখিল করে ‘তুঘলকিকণ্ড’র জন্ম দিয়েছেন। যা নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ”আইও’র তেলেসমাতি” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বছর পেরিয়ে আরো ৩ মাস অতিক্রান্ত হবার পর সম্প্রতি এ প্রতিবেদন দাখিল করেন আইও। এর রহস্য হিসেবে বাদী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলার ৫ নম্বর আসামীর পিতা রঞ্জু মিয়া ও ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আল-আমীনের মিথ্যা ও হয়রাণিমূলক মামলা ও অপহরণে জড়িতদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা হাতানোর পর। যাতে বাদী এ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করতে না পরে। ঠিক এমন অপকৌশল ঘাঁটাতে তুঘলকিকাণ্ড’র সৃষ্টির পর আইও’র এ হাস্যকর তদন্ত প্রতিবেদনে অপহৃতার জবানবন্দিও স্থান পায়নি। পরিকল্পিত এ অপহরণে নানাভাবে জড়িতদের সঙ্গে বাড়তি সুবিধা হাতানোর স্পষ্ট প্রমাণ বয়স কমিয়ে নিয়ে ৫ নম্বর আসামীকে ‘শিশু’ হিসেবে উল্লেখ করতে তার প্রকৃত জন্ম ও শিক্ষা সনদের বদলে জালিয়াতিমূলকভাবে সৃজনকৃত জন্মসনদ ব্যবহার, অপহৃতার জবানবন্দি, বাদী ও স্বাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ বা তদন্ত না করা, অপহৃতার অবস্থান সম্পর্কে উল্লেখ না করা, অপহরণের ৬ মাস ২১ দিন পর অপহৃতাকে পার্শ্ববর্তী শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সমস গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে সবুজ মিয়ার ঘর থেকে থানা পুলিশ কর্তৃক দিন-দুপুরে গর্ভাবস্থায় উদ্ধার বিষয়ে কোন কিছুই উল্লেখ না করা, অপহরণকালে মিশুক/অটোবাইক চালকের নাম- পরিচয় উল্লেখ না করা, পূর্ববর্তী আইও এসআই আবু সাঈদ কর্তৃক উদ্ধারকৃত ৫ নম্বর আসামীর সঙ্গে এজাহারভুক্ত আসামী, অজ্ঞাতনামা আসামী ও জড়িতদের কললিস্ট, কল রেকর্ড (সিডিআর), ইমো, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসএ্যাপসহ নানাভাবে যোগাযোগের যাবতীয় তথ্যচিত্র ব্যবহার না করা ইত্যাদি। অপরদিকে, এসআই রুহুল আমিন মামলাটি তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্তির পর থেকে অপহৃতাকে নিয়ে অপহরণ ও পরিকল্পনায় জড়িতদের অবস্থান সম্পর্কে জানালেও কার্যকরি অভিযান না চালিয়ে অপরাধীদেরকে অবগত করে নিরাপদে অবস্থান নেয়ার পরামর্শ দেয়া, আসামী আঃ রহিম ওরফে আব্দুলসহ অন্যান্য আসামী ও জড়িতদের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে সুবিধা হাতানোর বিনিময়ে সখ্যতা গড়ে প্রকৃত ঘটনা ও মামলার বিপক্ষে অপস্থান নেয়াসহ আইও’র ব্যাপক দুর্নীতি সম্পর্কে সার্বিক তদন্তের প্রয়োজন বলে দাবী করছেন বাদী ও সুশীল সমাজ।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর পিতা (মামলার বাদী) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা আমাদের কোনো কথাই শোনেননি। ঘটনায় জড়িতদের বাঁচানোর জন্য তিনি মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করে তা বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেছেন। আমি এই ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন মানি না। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালতে নারাজির আবেদন জমা দিয়েছি। এর প্রেক্ষিতে সিআইডি, পিবিআই বা অন্য কোন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সংস্থার মাধ্যমে পুনঃতদন্তের দাবি জানাই।’
এ বিষয়ে একাধিক আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা যদি প্রভাব খাটানো বা কোনো অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে প্রতিবেদন দেন, তবে বাদীপক্ষের আদালতে নারাজি দেয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। আদালত বক্তব্য আমলে নিয়ে মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ বা যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারেন।
এই বিষয়ে জানতে মামলার আইও থানার এসআই রুহুল আমিনের (বিপি নং- ৮৫০৫০৮০৪৭৩) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে, ভুক্তভোগী পরিবার আশা করছে, আদালতের হস্তক্ষেপে সুষ্ঠু ও নিপেক্ষভাবে পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
প্রকাশিত : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬














