

মো: মহিউদ্দিন : (ফরিদগঞ্জ) সংবাদদাতা:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। অতিরিক্ত লোডশেডিং, বিদ্যুৎ বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগ, ভুতুড়ে বিল, জনবল সংকট এবং গ্রাহক হয়রানিসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার বিপুলসংখ্যক বিদ্যুৎ গ্রাহক।

বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদগঞ্জ ও কামতা সাব-সেন্টার মিলিয়ে মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার। স্বাভাবিক সময়ে এ এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ থেকে ২৩ মেগাওয়াট। বর্তমান ডিজিএম মো. মোবারক হোসেন সরকার জানিয়েছেন, চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। তবে প্রাপ্ত বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ ঘাটতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে রেজু মুন্সী, ডাক্তার দেলোয়ার,মসজিদের ইমাম সাদ বিন রেদোয়ান, সাংবাদিক আনিছুর রহমান সুজন অভিযোগ, বাস্তবে লোডশেডিং অনেক সময় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে যায়। বিশেষ করে ৫ নম্বর ফিডারে তুলনামূলক বেশি লোডশেডিং ও বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যুৎ অফিসের আশপাশের কিছু এলাকায় তুলনামূলকভাবে বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকার অভিযোগও করেছেন গ্রাহকদের কেউ কেউ।
এ অবস্থায় উপজেলার ৮টি ফিডারে বিদ্যুৎ বিতরণে বৈষম্য দূর করে সমন্বিত ও সমবণ্টনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
ভুতুড়ে বিল নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ
ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের আরেকটি আলোচিত সমস্যা হলো ভুতুড়ে বিল। গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও বিল না আসার পর হঠাৎ করে একসঙ্গে বড় অঙ্কের বিল দেওয়া হচ্ছে। আবার কোনো কোনো গ্রাহককে বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত মিটার পরিদর্শন ও যথাসময়ে বিল প্রস্তুতের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের বকেয়া বা একসঙ্গে বড় অঙ্কের বিলের কারণে যেন সাধারণ গ্রাহক হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া জরুরি।
জনবল সংকটে বিদ্যুৎ বিভাগ।
ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে পর্যাপ্ত জনবল না থাকার বিষয়টিও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় কম জনবল দিয়ে অতিরিক্ত কাজ পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সংযোগ সংক্রান্ত কাজ এবং ঝড়-বৃষ্টির পর দ্রুত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করতে সংশ্লিষ্টদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এখানে ৮৮ টি পদের বিপরীতে ৭৮টি পদে লোকবল রয়েছে।১০ টি পদ শূন্য রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, শুধু অতিরিক্ত সময় কাজ করানোর মাধ্যমে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে সচল ও গ্রাহকসেবাকে কার্যকর রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ ও পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করা জরুরি।
স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ানদের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন
গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান বিভিন্ন সময় অফিসিয়াল অনুমোদন বা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই মিটার, সংযোগ ও লাইন বিচ্ছিন্ন বা
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করপুনঃসংযোগের মতো কাজে যুক্ত হচ্ছেন। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রাহক হয়রানি এবং অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।ছেন তারা। অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া কেউ যেন বিদ্যুৎ সংযোগ, মিটার বা লাইন সংক্রান্ত কোনো কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গ্রাহকরা।
গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করার দাবি
বর্তমান ডিজিএম মো. মোবারক হোসেন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও সমস্যা সমাধানে তুলনামূলকভাবে আন্তরিক ও তৎপর রয়েছেন বলে স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করেন। তবে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট ও ব্যবস্থাপনাগত সমস্যাগুলো সমাধানে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজনবলে মনে করছেন তারা।
সচেতন মহলের দাবি, ৮টি ফিডারে ন্যায্যভাবে বিদ্যুৎ বণ্টন, লোডশেডিংয়ের বৈষম্য দূরীকরণ, নিয়মিত মিটার রিডিং ও সঠিক সময়ে বিল প্রদান, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং অননুমোদিতভাবে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কাজ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে গ্রাহকদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমবে।
এ জন্য ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলার ভুক্তভোগী গ্রাহক ও সচেতন মহল।
পল্লী বিদুৎতের ডিজিএম মোবারক হোসেন সরকার জানান, এখানে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ থেকে ২৩ মেঘাওয়াট, ৪০ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। এ দপ্তরে পদসংখ্যা ৮৮টির মধ্যে ১০টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া লোকবল নিয়োগ ও অনুমোদনের জন্য ঢাকা বিআরইবির এখতিয়ারে রয়েছে বলে জানান।
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬














