সুন্দরগঞ্জে মামলা তদন্তে বিঘ্ন ঘটিয়য়েছে দুর্বৃত্তরা

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি :

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সাংবাদিকের পরিবারে অতর্কিত হামলার মামলা তদন্তকালে বাধা-বিঘ্নের সৃষ্টি করেছে ভূমিদস্যু আল-আমিনের কিছু ভাড়াটে ও জামিনপ্রাপ্ত আসামীরা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শোভাগঞ্জ কলেজ মোড়স্থ মিনিবিশ্ব রোড সংলগ্ন সাংবাদদিক আবু বক্কর সিদ্দিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তদন্তকারী কর্মকর্তার তদন্ত কাজে এ ঘটনা ঘটিয়েছে দৃর্বৃত্তরা। এ সময় মামলায় জামিনপ্রাপ্ত আসামী গোলজার হোসেন, আঙ্গুর মিয়া, জয়গুন বেগম, আশিক ওরফে রানু মিয়া, ফিরোজা বেগম, পপি পারভীনসহ হামলাকালে জড়িত ভাড়াটেরা এই বাধা-বিঘ্নের সৃষ্টি করে। ফলে তদন্ত কাজ অসম্পন্ন রেখেই তদন্তকারি কর্মকর্তা (আও) থানার এসআই তৈয়ব আলী ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই সাংবাদিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায় স্থানীয় আল-আমীন ও গোলজার হোসেনের নেতৃত্বে ১৭-১৮ জনের একদলভুক্ত সন্ত্রাসীরা। হামলায় সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিক, তাঁর স্ত্রী হালিমা বেগম, ছোট ভাই আশরাফুল ইসলাম, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কাকলী বেগম ও তাঁদের ৯ মাসের শিশুকন্যা আফরিন জান্নাত মণি গুরুতর আহত হন।

ঘটনার আগে রাত থেকে বৃষ্টির সুযোগে আশরাফুল ইসলামের দোকানঘরসহ দেশীয় অস্ত্রের মুখে দখলের অপচেষ্টা চালায় আল-আমীনসহ অন্যান্যরা। উপায় না পেয়ে আশরাফুল জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ ফোন দিলে থানার এসআই মোবারক আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন ও উদ্ধার করা অস্ত্রসহ আল-আমীনকে দোকান থেকে বের করে দেন। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলে তিনি সঙ্গীয়ফোর্সসহ চলে যেতে না যেতেই হামলাকারীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে পাশের নিজ দোকানের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিক ও তাঁর স্ত্রীর উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক মারধর, দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা।

এতে আহত সাংবাদিক ও তাঁর ভাই সুন্দরগঞ্জ থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও মামলা রেকর্ড না হওয়ায় পরবর্তীতে আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ আমলী আদালতে সিআর মামলা (নং- ৫৩৯/২০২৬) দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পাঁপড়ি বড়ুয়া অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করতে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। যার জিআর মামলা নং- ২৬৯/২০২৬ইং।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিক অভিযোগ করে বলেন, ‘আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে আমার পরিবারকে হুমকি-ধামকি, মেয়েকে অপহরণ, ফেইসবুকে অপপ্রচার, মুক্তিপণ আদায়, চাঁদা দাবি ও জমি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে। গত ২৯ মে থানায় লিখিত এজাহার দেয়া হলেও ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ মামলা নথিবদ্ধ না করে সালিশের নামে সময়ক্ষেপণ করেন। বাধ্য হয়ে আমি আদালতে অপর একটি মামলা (সিআর নং- ৪৫৫/২০২৬) দায়ের করি।

এছাড়া, ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর আসামিদের হুমকিতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১১৫৬) দায়ের করা হয়। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়ে পুলিশ গত ২ এপ্রিল আদালতে নন-এফআইআর প্রসিকিউশন দাখিল করে (যার নং- ২২/২০২৬)।
উক্ত মামলায় গত ১ জুলাই আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে এসেই পূর্বে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও সাক্ষ্য দেয়া কেন্দ্র করে পুনরায় এই বর্বরোচিত হামলা চালায়।
সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিকের দাবি, ‘থানা পুলিশ যদি আমার প্রথম এজাহারটির বিষয়ে শুরুতেই যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিত, তবে আসামিরা পরবর্তীতে পরিবার ও সম্পদের এত বড় ক্ষতি করার সাহস পেত না।’

সে সময় অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোবারক আলী বলেন, ‘আল-আমীনের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। আগামী ১০ আগস্ট থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হবে, সেখানেই বিষয়টি দেখা যাবে।’

​এদিকে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ ক্ষতিগ্রস্ত দোকানঘর পরিদর্শন করে হামলাকারীদের বেআইনি কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন ও ঘটনার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান স্থিতি বজায় রাখার পরামর্শ প্রদান করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তৈয়ব আলী জানান, পরবর্তীতে বাকী তদন্ত কাজ সম্পন্ন করা হবে।

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি.

You might like