

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী :
চাঁদপুরে প্রথমবারের মতো আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে কেক ফেস্টিভ্যাল ও বেকিং অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান। নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করা সংগঠন ‘বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা’র উদ্যোগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর সাংবাদিক ক্লাবে এ আয়োজন করা হয়।

বিজয়ী’র ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খানের সার্বিক পরিচালনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন নতুন নারী উদ্যোক্তারা। ১৬ জন নারীকে নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী বিশেষ কেক বেকিং প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী উপলক্ষে এ কেক ফেস্টিভ্যাল, সার্টিফিকেট ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাঈদ হোসেন অপু চৌধুরীর প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ইনার হুইল ক্লাব অব চাঁদপুরের সাবেক সভাপতি মাহমুদা খানম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বাংলাদেশের কর্মকর্তা সিগমা আহসান, চর্যাপদ একাডেমির পরিচালক আইরিন সুলতানা লিমা, উদয়ন স্কুলের শিক্ষক নাসরিন আক্তার, শুভানা পোদ্দার, সেজুতি দত্ত,ইন্টারেক্ট ক্লাব অফ চাঁদপুর এর সাবেক সভাপতি সাহিরা নাসির এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর চৈতি।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চর্যাপদ একাডেমির মহাপরিচালক অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রনি, এনটিভির জেলা প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম, দৈনিক চাঁদপুরের সম্পাদক কে এম মাসুদ, কালবেলা জেলা প্রতিনিধি অমরেশ দত্ত জয়, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর উজ্জ্বল দেওয়ান তাসবির এবং টিম বিজয়ীর ভলেনটিয়ারবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা ‘বিজয়ী’র উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে নারী ক্ষমতায়নে এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের নিজ হাতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় কেক প্রদর্শন করা হয়। পরে আমন্ত্রিত বিচারকমণ্ডলী কেকগুলোর স্বাদ, মান, সৌন্দর্য ও উপস্থাপনাসহ বিভিন্ন দিক মূল্যায়ন করেন। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন শেষে সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করা ১৬ জন নারী উদ্যোক্তার হাতে সার্টিফিকেট ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ‘বিজয়ী’র ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি হওয়া নতুন নারী উদ্যোক্তারা নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি চাঁদপুরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবেন।
উল্লেখ্য: নারী উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বিজয়ী। নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চাঁদপুরে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা। সংগঠনটি বিভিন্ন সময়ে নারীদের জন্য বিনামূল্যে কারিগরি ও উদ্যোক্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা ও সম্প্রসারণে নারীদের সহায়তা, উদ্যোক্তাদের মানসিকভাবে উৎসাহিত করা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে ‘বিজয়ী। নারী উন্নয়নের পাশাপাশি সংগঠনটির কার্যক্রম শিক্ষা ও সামাজিক সেবাতেও বিস্তৃত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ও মেধা পুরস্কার প্রদান, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আয়োজনেও সংগঠনটির সম্পৃক্ততার খবর প্রকাশিত হয়েছে। নারীদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা তৈরির মাধ্যমে তাদের নিজস্ব পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করার যে ধারাবাহিক উদ্যোগ ‘বিজয়ী গ্রহণ করেছে, চাঁদপুরে নারী উন্নয়ন ও স্বাবলম্বিতা অর্জনের ক্ষেত্রে তা একটি চলমান উদ্যোগ হিসেবে ইতোমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে।
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.














