

সজীব খান :
চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এনায়েত উল্ল্যাহ খোকনের নামও আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক উদ্যোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে চেয়ারম্যান পদে প্রত্যাশী।

দলীয় কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগে ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। এনায়েত উল্ল্যাহ খোকন স্বদেশী সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি মৈশাদী তালতলা বাজারের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মৈশাদী তালতলা রেলস্টেশনে সাগরিকা ট্রেনের স্টপেজ চালুর উদ্যোগেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এছাড়া তিনি মৈশাদী রেলস্টেশন বাস্তবায়ন কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এনায়েত উল্ল্যাহ খোকনের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ১৯৯৩ সাল থেকে মৈশাদী ইউনিয়ন বিএনপির সঙ্গে বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জেলা বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক, উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং মৈশাদী ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি জেলা কৃষকদলের সভাপতি ও এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচনী ট্রেনিং সেলের সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এনায়েত উল্ল্যাহ খোকনের পারিবারিক পরিচয়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে শিক্ষাঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা। তার বাবা হাফেজ শামছুল হক দেওয়ান মৈশাদী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় তিনি মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা হয়েছে এবং এসব ঘটনায় তিনি নির্যাতনের শিকার হন।
নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে এনায়েত উল্ল্যাহ খোকন বলেন, “মৈশাদী ইউনিয়ন বিএনপির সঙ্গে ১৯৯৩ সাল থেকে অদ্যাবধি বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছি। এখানকার রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও শিক্ষার উন্নয়নে নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার চেষ্টা করেছি।”
চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত আমার কাছে চূড়ান্ত। চাঁদপুর জেলা বিএনপির অভিভাবক এবং চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপিসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিগত দিনের আমার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে আমাকে মূল্যায়ন করবেন—এমন প্রত্যাশা রাখি।”
মৈশাদী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চললেও দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই প্রার্থিতা নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা মনে করছেন। এনায়েত উল্ল্যাহ খোকনের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক উদ্যোগকে সামনে রেখে তার সমর্থকরা চেয়ারম্যান পদে তার প্রার্থিতার পক্ষে প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.














