

মো. মহিউদ্দিন, ফরিদগঞ্জ :
দেশের সাংবাদিকতা ও রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলো। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক মুহাম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, প্রবীণ সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা ও চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন।
পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, নিজ বাসায় শৌচাগারে পড়ে গিয়েছিলেন শফিকুর রহমান। তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জসহ সারাদেশের সাংবাদিক মহল, রাজনৈতিক অঙ্গন ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যিনি ছিলেন একাধারে কলম সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা ও জননেতা
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ছিলেন এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যার জীবনজুড়ে মিশে ছিল তিনটি পরিচয় – সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধ ও জনসেবা।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর কলমকে অস্ত্র বানিয়ে তিনি আমৃত্যু সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লড়ে গেছেন। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের মতো দেশের সর্বোচ্চ সাংবাদিক সংগঠনের সভাপতি হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
পরবর্তীতে তিনি জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে রাজনীতিতে আসেন। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি এলাকার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেন। সংসদে তিনি ছিলেন ফরিদগঞ্জের মানুষের কণ্ঠস্বর।
শোকবার্তা
তাঁর ইন্তেকালের সংবাদে বিভিন্ন মহল থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। এক শোকবার্তায় বলা হয়-
“সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের নিজ বাসভবনে ইন্তেকালের সংবাদে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। মহান আল্লাহ তাআলা মরহুমকে ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন।”
আরেক শোকবার্তায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে বলা হয় – ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ, স্থানীয় সাংবাদিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, তাঁর মৃত্যুতে ফরিদগঞ্জের সামাজিক ও সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এক অপূরণীয় ক্ষতি
মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের মতো একজন গুণী মানুষের প্রস্থান দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন তরুণ সাংবাদিকদের অভিভাবক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাতিঘর এবং সাধারণ মানুষের আস্থার ঠিকানা।
তাঁর জীবন থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে কিভাবে সততা, সাহস ও দেশপ্রেম নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়। তিনি দেখিয়ে গেছেন, কলম দিয়েও যুদ্ধ করা যায়, মানুষের অধিকার আদায় করা যায়।
আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তাঁর পরিবারকে এই শোক কাটিয়ে ওঠার তৌফিক দান করেন। আমিন।
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.














