

সম্পাদকীয়
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই আমাদের নগরজীবন এক চরম দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়কগুলো তলিয়ে যায় পানিতে, তৈরি হয় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। আর এ জলাবদ্ধতা ও বদ্ধ পানিই হয়ে ওঠে প্রাণঘাতী ডেঙ্গু রোগের প্রধান প্রজননক্ষেত্র। বছরের পর বছর ধরে এ সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটলেও সমাধান মিলছে না। ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে—পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা ছাড়া ডেঙ্গু ও জলাবদ্ধতা রোধ কি আদৌ সম্ভব?
আমাদের নগরগুলোর বর্তমান সংকট কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি মূলত দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নর্দমা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা এবং জলাশয় ভরাট করারই পরিণতি। শহরের ড্রেনগুলোতে ময়লা-আবর্জনা জমে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে থাকে। একদিকে যেমন বৃষ্টির পানি নামতে পারে না, অন্যদিকে সেই জমে থাকা পানিই এডিস মশার প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়। ফলে জলাবদ্ধতার পরপরই বাড়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর ছিটানো ওষুধ বা সাময়িক অভিযানের মতো উদ্যোগগুলো খুব একটা কাজে আসছে না। কারণ, সমস্যাটির মূল গভীরে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

ডেঙ্গু ও জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মপরিকল্পনায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু মৌসুমী মশক নিধন অভিযান চালিয়ে এ সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান পাওয়া যাবে না। এর জন্যে প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী ও সমন্বিত নগর ব্যবস্থাপনা। শহরের প্রাকৃতিক খাল ও ড্রেনগুলোকে দখলমুক্ত ও নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। একই সাথে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। নগরের প্রতিটি নাগরিককেও এ বিষয়ে আরো সচেতন হতে হবে; বাসাবাড়ি বা আশপাশে যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা ছাড়া কেবল আশার কথা শুনিয়ে ডেঙ্গু বা জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। টেকসই নগর পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মধ্যদিয়েই কেবল একটি সুস্থ, বাসযোগ্য ও নিরাপদ শহর নিশ্চিত করা সম্ভব।
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.












