

মালিকুজ্জামান কাকা :
যশোর সদর উপজেলার ধোপাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছের ডাল কেটে প্রায় ১০০ মণ জ্বালানি কাঠ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অনুমতি ছাড়া বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রুম্মন হোসাইন নামে জনৈক যুবকের বিরুদ্ধে। দুর্গাপূজার ছুটির সুযোগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বেশ কটি গাছের ডাল কেটে তা জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে। এই অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছের ডাল কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও নিয়মনীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। কিন্তু ধোপাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছের ডাল কাটার আগে বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের জানানো হয়নি। রুম্মন হোসাইনের নেতৃত্বে ডাল কাটা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। নিয়মনীতি না মেনে এভাবে গাছের ডাল কেটে জ্বালানি বিক্রির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনা ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক আলোচনা সমালোচনা চলছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন জানান, তাঁকে ফোনে মৌখিক বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তিনি বলেন, আমি বলেছি, স্কুল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবাই মতামত দিলে ডাল কাটা যাবে। তার আগে নয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের গাছের ডাল কাটার আগে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো। তাঁদের মতে, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে রুম্মন হোসাইন ভুল স্বীকার করে বলেন, পূজার ছুটি থাকায় তাৎক্ষণিক এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সবাইকে না জানিয়ে ও অনুমতি না নিয়ে কাজটি করা আমার ঠিক হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুইটি জানান, গাছের ডাল কাটার পর স্থানীয় লোকজন তাঁকে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। স্কুল খোলার পর বিষয়টি নিয়ে কমিটির সাথে আলোচনা করা হবে।
সরকারি বিদ্যালয়ের গাছের ডাল কাটার প্রয়োজনীয় অনুমতি, নিয়মনীতি অনুসরণ এবং বিক্রির অর্থের হিসাব যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি স্থানীয়দের।
প্রকাশিত: রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.














