শুভালেখ্য ও অনামিকার গল্প

ক্ষুদীরাম দাস :
অধ্যায় ১: গল্পের বীজ এবং সমাজের ছায়া
শহরের এক কোণে ছোট একটি টিনের ছাদ দেওয়া ঘরে বসে সুমিত রায় খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিল। সুমিত পেশায় একজন প্রাবন্ধিক ও সমাজমনস্ক লেখক। সে গত কয়েক বছর ধরে সমাজের নানা অসংগতি, পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে নিয়মিত লিখে আসছে। তার লেখার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে সচেতন করা, যাতে কেউ কোনো মিষ্টি কথায় ভুগে প্রতারণার জালে পা না দেয়। কিন্তু সমস্যা হলো, এই সমাজে কেউ যখন কোনো গভীর সত্য উন্মোচন করতে যায়, তখন একদল মানুষ সত্যকে মেনে নেওয়ার বদলে লেখকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে।

ঠিক এমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল গত রাতে। সুমিত ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছিল। সেখানে সে লিখেছিল কীভাবে কিছু স্বার্থপর মানুষ দাম্পত্য জীবনে অবহেলিত বা একাকী নারীদের দুর্বলতার সুযোগ নেয়। মিষ্টি কথা ও ভুয়া অনুভূতির জাল বুনে তাদের কাছ থেকে নানা সুবিধা আদায় করে নেয়, অথচ কোনো আর্থিক খরচ ছাড়াই সব দায়িত্ব এড়িয়ে চলে।

পোস্টটি প্রকাশের পরেই কমেন্ট বক্সে ঝড় বয়ে গিয়েছিল। কেউ কেউ সুমিতের সাহসিকতার প্রশংসা করেছিল। কিন্তু একদল নারী ও পুরুষ এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছিল যা শুনলে যে কারও মাথা ঘুরে যাবে।

কিছু নারী মন্তব্য করেছিল, “এসব তো আপনার নিজের জীবনের গল্প! কার সঙ্গে এমন হয়েছে বলুন তো?” আবার কিছু পুরুষ বিদ্রূপ করে লিখেছিল, “লেখক মহাশয় বোধ হয় নিজে ফেঁসে গিয়ে এখন সাধু সাজার চেষ্টা করছেন!” এমনকি এক নারী তো সরাসরি লিখেছিল, “তাহলে পতিতাালয়ে যারা যায়, তারা কারা? আপনার বাবা, ভাই, মামা, কাকারা?”

সুমিত গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে জানালার দিকে তাকিয়ে দেখল, বাইরে হেমন্তের মিষ্টি রোদের আলোয় রাস্তার ধারের দেবদারু গাছের পাতাগুলো মৃদু বাতাসে কাঁপছে। সে ভাবল, সমাজের কোনো বাস্তবতা তুলে ধরলেই কি সেটা লেখকের নিজের জীবনের ঘটনা হয়ে যায়? কোনো অপরাধ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করলেই কি ধরে নিতে হবে যে অপরাধটি লেখকের নিজের সঙ্গেই ঘটেছে?

তাহলে কি মহাশ্বেতা দেবী বা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যা লিখেছেন, তার প্রতিটি চরিত্র ও ঘটনা তাদের নিজেদের জীবনে ঘটেছিল? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চাঁদ দেখেছেন, প্রকৃতি দেখেছেন, মানুষের সুখ-দুঃখ ও অনুভূতিকে উপলব্ধি করেছেন। সেই উপলব্ধি থেকেই সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য কবিতা ও সাহিত্য। তাঁর লেখার প্রতিটি অনুভূতি কি তাঁর নিজের জীবনের হুবহু ঘটনা ছিল? না! একজন সৃষ্টিশীল মানুষ শুধু নিজের জীবন দেখেন না, তিনি চারপাশের পৃথিবীকেও দেখেন। অন্যের অভিজ্ঞতা, সমাজের ঘটনা এবং মানুষের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন। তারপর সেখান থেকে উপলব্ধি করেন, লেখেন এবং অন্যদের ভাবতে শেখান।

সুমিত খাতায় লিখে রাখল—“সবার চোখ থাকলেই সবাই একভাবে দেখতে পারেন না। দেখার চোখ আর উপলব্ধি করার ক্ষমতা এক জিনিস নয়।”

অধ্যায় ২: অনামিকার সংকট ও চারপাশের ফিসফিসানি
শহরের অন্য প্রান্তে, একটি পুরোনো একতলা দালানে বাস করত অনামিকা রায়। অনামিকার জীবনটা বাইরের দিক থেকে খুব শান্ত মনে হলেও এর ভেতরে জমে ছিল দীর্ঘদিনের অভিমান আর একাকিত্বের পাহাড়। তার স্বামী দ্বীপংকর রায় শহরের একটি বেসরকারি ব্যাংকের মাঝারি কর্মকর্তা। সারাদিন অফিস আর অফিসের বাইরের নানা ব্যস্ততা নিয়ে সে এতটাই ডুবে থাকত যে অনামিকার সঙ্গে দুটো মিষ্টি কথা বলারও সময় পেত না।

অনামিকার মনে হতো, সে এই বাড়ির একজন কাজের মানুষ ছাড়া আর কিছু নয়। বিয়ের প্রথম কয়েক বছর ভালোবাসার যে উষ্ণতা ছিল, তা ধীরে ধীরে বরফ গলে জলের মতো হারিয়ে গেছে। দাম্পত্য জীবনের এই শীতলতা অনামিকাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। ঠিক সেই সময় তার জীবনে আসে ঋত্বিক।

ঋত্বিক ছিল দ্বীপংকরেরই এক দূরসম্পর্কের পরিচিত এবং শহরের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সক্রিয় কর্মী। ঋত্বিকের কথা বলার ধরন ছিল দারুণ আকর্ষণীয়। সে খুব সহজেই মানুষের মন জয় করতে পারত। অনামিকা যখনই ফেসবুক বা মুঠোফোনে নিজের একাকিত্বের কথা সামান্য ইঙ্গিত করত, ঋত্বিক তখন খুব যত্ন নিয়ে তার কথা শুনত। সে বলত, “অনামিকা দেবী, আপনার মতো একজন সংবেদনশীল মানুষের পাশে কেউ নেই ভেবে আমার খুব কষ্ট হয়। দ্বীপংকর দা বড়ই পাথর হৃদয়ের মানুষ, সে আপনার মনের গভীরের সৌন্দর্য বুঝতেই পারল না।”

প্রাথমিকভাবে ঋত্বিকের এই সহানুভূতি অনামিকার কাছে অমৃতের মতো মনে হয়েছিল। সে ভেবেছিল, “আমার স্বামী আমাকে বোঝে না, কিন্তু এই মানুষটা আমাকে বোঝে। আমার স্বামী আমাকে ভালোবাসে না, কিন্তু এই মানুষটা আমাকে ভালোবাসে।”

কিন্তু অনামিকা জানত না যে এই মিষ্টি কথার আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো অভিসন্ধি। ঋত্বিক ধীরে ধীরে অনামিকার কাছ থেকে বিভিন্ন পারিবারিক তথ্য, এমনকি তার স্বামীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও জমানো টাকার হিসাব পর্যন্ত জানার চেষ্টা করতে লাগল। ঋত্বিকের গলার স্বরের সেই কোমলতার আড়ালে যে এক ধরনের সুক্ষ্ম স্বার্থপরতা লুকিয়ে ছিল, তা অনামিকা প্রথমে বুঝতে পারেনি।

ঠিক সেই সময়েই সুমিতের সেই সামাজিক সচেতনতামূলক লেখাটি অনামিকার চোখে পড়েছিল।

লেখাটিতে সুমিত স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছিল—“অবহেলিত একজন নারী যখন স্বামীর কাছ থেকে ভালোবাসা, সম্মান কিংবা মানসিক সমর্থন পান না, তখন অন্য কোনো পুরুষের মিষ্টি কথা, যত্ন কিংবা সহানুভূতি তাঁর কাছে সত্যিকারের ভালোবাসা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সব যত্নের পেছনে যে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা থাকে, তা নয়। কিছু মানুষ অন্যের দুর্বলতার সুযোগ নেয়। ভালোবাসার অভিনয় করে নিজের স্বার্থ হাসিল করে। গোপন সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে চলে, অথচ অন্য মানুষটিকে আবেগের জালে আটকে রাখে।”

লেখাটি পড়ার পর অনামিকার হাত থেকে মুঠোফোনটি খসে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। তার বুকটা কেঁপে উঠেছিল। সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দিকে তাকিয়েছিল। সে কি তবে ঋত্বিকের পাতা সেই ফাঁদেই পা দিয়ে ফেলছিল? ঋত্বিক তো তাকে ভালোবাসার কথা বলে কৌশলে তার কাছ থেকে বেশ কিছু দামি উপহার এবং আর্থিক সাহায্য চেয়েছিল! অনামিকা সেদিন বুঝতে পেরেছিল, প্রতিালয়ে গেলে নির্দিষ্ট অর্থমূল্য পরিশোধ করতে হয়, কিন্তু কোনো নারীর আবেগকে ব্যবহার করলে কোনো আর্থিক খরচ ছাড়াই নিজের স্বার্থ হাসিল করা যায়। এই নির্মম সত্যটি তার চোখ খুলে দিয়েছিল।

অধ্যায় ৩: সমাজের আক্রমণ ও লেখকের কলম
অনামিকা যখন বুঝতে পারল যে সে এক বিরাট ভুলের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে, তখন সে ঋত্বিক থেকে দূরত্ব বজায় শুরু করল। কিন্তু ঋত্বিক তা সহজভাবে নিল না। সে উল্টো অনামিকাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করল। সে অনামিকার পাঠানো কিছু চ্যাট ও কথপোকথনের স্ক্রিনশট তার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিল।
অনামিকা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ল। সে বুঝল, সমাজের কিছু মানুষ এতটাই নিষ্ঠুর হয় যে তারা ভুক্তভোগী মানুষটির পাশে দাঁড়ানোর বদলে তাকেই অপরাধী সাব্যস্ত করতে চায়।

ঠিক এই সময়েই সুমিতের আরেকটি লেখা প্রকাশিত হলো। সেই লেখায় সুমিত লিখেছিল—“দুঃখের বিষয়, কিছু মানুষ সতর্কবার্তার অর্থ বোঝার পরিবর্তে সতর্ককারী মানুষটিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করান! আর একটা কথা বিশেষভাবে বলতে চাই—নারীরাই নারীদের শত্রু। কিছু নারী যখন অন্য নারীর সচেতনতামূলক বক্তব্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে দেখেন, তখন সত্যিই খারাপ লাগে। একজন নারী আরেকজন নারীকে সতর্ক করলে তাঁর কথার উদ্দেশ্যটা বোঝার চেষ্টা করা উচিত। অন্ধভাবে সমর্থন করার দরকার নেই, কিন্তু না বুঝেই ব্যক্তিগত আক্রমণ করাটাও কি যুক্তিসংগত?”

এই লেখাটি পড়ার পর সমাজে এক অদ্ভুত আলোড়ন সৃষ্টি হলো। সুমিতের ফেসবুক পেজে কমেন্টের বন্যা বয়ে গেল। অনেকেই সুমিতের ওপর চড়াও হলো। এক স্থানীয় প্রভাষক মন্তব্য করলেন, “লেখক মহাশয় খুব বড় বড় কথা বলেন। দেখি আপনার নিজের পরিবারে কী চলছে!”
আরেকজন নারী মন্তব্য করলেন, “পুরুষ হয়ে নারীদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে কথা বলার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে? আপনার নিজের চরিত্র কি ধোপে টেকে?”

সুমিত এই আক্রমণগুলো দেখে মুচকি হাসল। সে জানত, সত্য কথা বললে আঘাত লাগবেই। সমাজ সবসময় আয়নায় নিজের রূপ দেখতে ভয় পায়। যখনই আয়নায় কোনো দাগ ধরা পড়ে, মানুষ আয়নাটাকেই ভাঙতে চায়—আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুখের দাগটা মুছতে চায় না।

সুমিত তার পড়ার টেবিলে বসল এবং একটি ডায়েরি টেনে নিল। সে লিখতে শুরু করল—
“সমাজকে নিয়ে কথা বলার জন্য সমাজের প্রতিটি ঘটনা নিজের জীবনে ঘটিয়ে দেখার প্রয়োজন নেই। আমার লেখার সঙ্গে আপনার মতের মিল না-ও থাকতে পারে। আপনি যুক্তি দিয়ে প্রতিবাদ করুন, আপনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরুন, আমার বক্তব্যের ভুল ধরিয়ে দিন। আমি সেটাকে সম্মান করব। কিন্তু কোনো বক্তব্যের উত্তর দিতে না পেরে লেখককে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা কিংবা তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা কোনো সুস্থ আলোচনার পরিচয় নয়।”

অনামিকা সেদিন সুমিতের সেই লেখাটি পড়ল। তার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল কৃতজ্ঞতার অশ্রু। সে বুঝতে পারল, এই পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা কোনো স্বার্থ ছাড়াই সমাজের অন্ধকার কোণে আলোর প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখেন। অনামিকা সাহস সঞ্চয় করল। সে ভয় পেল না। সে সোজা গিয়ে তার স্বামী দ্বীপংকরকে সব কথা খুলে বলল এবং ঋত্বিকের সেই ব্ল্যাকমেইলের বিষয়টি পরিষ্কার করে দিল।

দ্বীপংকর প্রথমে প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিল। কিন্তু অনামিকার চোখের জল এবং তার সরল স্বীকারোক্তি দেখে দ্বীপংকরের মনের সেই পাথর গলা শুরু হলো। সে বুঝতে পারল, তার নিজের চরম অবহেলা এবং উদাসীনতাই অনামিকাকে বাইরের একজন মানুষের কাছে ভুল পথে নিয়ে যাওয়ার উপক্রম করেছিল। দ্বীপংকর অনামিকার হাত ধরে ক্ষমা চাইল এবং প্রতিশ্রুতি দিল যে সে আর কখনো কাজের অজুহাতে পরিবারকে অবহেলা করবে না।

অধ্যায় ৪: সত্যের জয় ও কলমের অবিনশ্বরতা
কয়েক মাস কেটে গেল। বিরামপুর শহর এবং তার আশপাশের এলাকায় ঋত্বিকের সেই প্রতারণা চক্রের মুখোশ উন্মোচিত হলো। পুলিশ একদিন ঋত্বিককে একাধিক নারীর সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার করল। তখন সেই মানুষগুলোই যারা একসময় সুমিতের লেখা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছিল এবং লেখকের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, তারাই লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল। তারা বুঝতে পারল, সুমিত সেদিন কোনো কাল্পনিক বা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কিছু লেখেনি, সে সমাজেরই এক নির্মম সত্যকে তুলে ধরেছিল।

অনামিকা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। সে তার স্বামীর সঙ্গে একটি সুন্দর ও সুখী সংসার গুছিয়ে নিয়েছে। সে নিজে এখন এলাকার তরুণ নারীদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক পাঠচক্র পরিচালনা করে, যাতে কোনো নারী আর কখনো একাকিত্বের সুযোগ নিয়ে কোনো প্রতারকের মিষ্টি কথায় পা না দেয়।
একদিন বিকেলে সুমিত তার ঘরের বারান্দায় বসে চা খাচ্ছিল। তার সামনে খোলা ছিল ল্যাপটপ। খবরের কাগজে একটি ছোট্ট খবর প্রকাশিত হয়েছে—“সচেতনতামূলক লেখার মাধ্যমে সমাজ সংস্কারে বিশেষ অবদান রাখছেন প্রাবন্ধিক সুমিত রায়।”

সুমিত খবরের কাগজটি টেবিলের ওপর রাখল। সে আকাশের দিকে তাকাল। পশ্চিম আকাশে সূর্য ডুবছে, লাল আভায় রাঙিয়ে তুলেছে চারপাশ। তার মনে কোনো ক্ষোভ বা অভিমান ছিল না। সে বুঝতে পেরেছিল, মানুষের সমালোচনা বা ব্যক্তিগত আক্রমণ ভয় দেখিয়ে সত্যের কণ্ঠরোধ করা যায় না।

সুমিত মনে মনে ভাবল, কেউ যদি মনে করে যে সে যা লেখে, সবই তার নিজের জীবনের কাহিনি, তবে সেই ধারণা তাদেরই হোক। কিন্তু তার একটি লেখা পড়ে যদি একটি মানুষও সচেতন হয়, একজন নারীও প্রতারণার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন, তাহলেই তো লেখার সার্থকতা শতভাগ পূর্ণ হয়।

সে আবারও কীবোর্ডে হাত রাখল। নতুন একটি লেখা শুরু করার আগে সে স্ক্রিনে টাইপ করল—
“আমি সমাজের বাস্তবতা নিয়ে লিখব, মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করব। কে কী ভাবলেন, কে কী বললেন, সেই ভয়ে কলম থামিয়ে দেব না। কারণ বাস্তবতা নিয়ে কথা বলা অপরাধ নয়। অপরাধ হলো বাস্তবতাকে জেনেও চোখ বন্ধ করে থাকা এবং অন্যকে সচেতন হতে দেখলে তাকেই দোষী বানানো।”

বাতাসে দেবদারু পাতার মর্মর ধ্বনি শোনা গেল। সুমিতের মুখে এক চিলতে প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল। সে কলম থামাল না, বরং নতুন উদ্যমে সমাজের কল্যাণে আরও একটি পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখে চলল।

প্রকাশিত: রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.

You might like

About the Author: priyoshomoy