

মিজানুর রহমান রানা :
মুসলমানদের জীবনে কোরআন ও সুন্নাহর গুরুত্ব রয়েছে। কারণ বেশিরভাগ মুসলমানই প্রকৃত কোরআন ও হাদিস পড়েন না, নবীবীর সুন্নাহ কী তা ভালোভাবে জানেন না, মুখস্ত করা তো দূরের কথা। বেশিরভাগ মুসলমানই কুরআন ও হাদিস পড়াশোনা না করে সাধারণ লোকদের কাছ থেকে শোনা কথা শুনে তাদের মনমতো চলেন। আলেম ওলামা ও ইসলামী স্কলারদের কাছ থেকে প্রকৃত ইসলাম জেনেশুনে আমল করার সুযোগ পান না। দুনিয়ার কাজ নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত থাকেন। একদিন যে মরে যেতে হবে, সাথে যে আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলে কবরে যেতে হবে সে সম্পর্কে অনেক মুসলমানই উদাসীন থাকেন। তাই এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি।

মুসলমানের জীবন ও কোরআন-সুন্নাহ: একটি অনিবার্য সম্পর্ক
কোরআন ও সুন্নাহ: ইসলামের মূল ভিত্তি, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যার ভিত্তি হলো আল-কোরআন ও রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন:
> “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।” — সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ৩।
এই আয়াত প্রমাণ করে, ইসলামের প্রতিটি দিক—আচার, বিচার, নৈতিকতা, ইবাদত—সবই কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে নির্ধারিত।
মুসলমানের দায়িত্ব: নিয়মিত অধ্যয়ন ও আমল
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সেই ব্যক্তি, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।” — সহীহ বুখারী, হাদিস ৫০২৭
এই হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোরআন শেখা ও শেখানো শুধু একটি ভালো কাজ নয়, বরং এটি শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক।
কেন সব সময় কোরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ জরুরি?
– জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা : নামাজ, রোজা, ব্যবসা, পারিবারিক জীবন—সবকিছুতেই কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা রয়েছে।
– আখিরাতের মুক্তির পথ : রাসূল (সা.) বলেন, “আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি—কোরআন ও আমার সুন্নাহ। তোমরা যদি এগুলো আঁকড়ে ধরো, কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।”– মুয়াত্তা মালিক, হাদিস নম্বর ১৬২৮ (বা ৩৩৩৮, সংস্করণভেদে)। এছাড়াও এই হাদিসের বিভিন্ন রূপ পাওয়া যায় তিরমিযী, হাকেম, মুসনাদে আহমদ, এবং আবু দাউদ-এর মতো গ্রন্থেও, কিছু ক্ষেত্রে “আহলে বাইত” শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে “সুন্নাহ” এর স্থলে।
– নিয়মিত আমল না করলে বিপদ: কোরআন ত্যাগকারীকে কিয়ামতের দিন কোরআন নিজেই অভিযোগ করবে।
এই বক্তব্যের মূল ভিত্তি পাওয়া যায় সহীহ মুসলিম গ্রন্থে। হাদিসটি আবু উমামা বাহিলি (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “তোমরা কোরআন পাঠ করো, কেননা কিয়ামতের দিন তা তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে।” — সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ১৯১০
এছাড়া আরও একটি হাদিসে কোরআনের ভূমিকা আরও স্পষ্টভাবে এসেছে: “এই কোরআন (কিয়ামতে) সুপারিশকারী, তার সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হবে। (কোরআন) সত্যায়িত প্রতিবাদী। যে ব্যক্তি তাকে সামনে রাখবে, সে ব্যক্তিকে সে জান্নাতের দিকে পথপ্রদর্শন করবে। আর যে ব্যক্তি তাকে পিছনে রাখবে, সে ব্যক্তিকে সে জাহান্নামের দিকে পরিচালিত করবে।” — ইবনে হিব্বান, হাদিস: ১২৪; সহীহ তারগীব, হাদিস: ১৪২৩
এই হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায়, কোরআন শুধু সুপারিশকারী নয়, বরং যারা কোরআনকে অবহেলা করে, তাদের বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন প্রতিবাদও করবে
কিভাবে কোরআন ও সুন্নাহর চর্চা করা যায়?
– প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় কোরআন তেলাওয়াত ও অর্থ অনুধাবন
– রাসূল (সা.)-এর জীবনী ও হাদিস অধ্যয়ন
– আমল করার জন্য ছোট ছোট সুন্নাহ চর্চা (যেমন: সালাম দেওয়া, মুসাফাহা, দোয়া পড়া)
– পরিবার ও সমাজে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেওয়া
কোরআন ও সুন্নাহ মুসলমানের জীবনের দিশারী। এগুলোর চর্চা শুধু ধর্মীয় কর্তব্য নয়, বরং আত্মিক উন্নয়ন, নৈতিকতা, এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ। তাই একজন মুসলমানের উচিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে চলা, যেন সে দুনিয়া ও আখিরাতে সফল হতে পারে।
বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
শেয়ার করুন









