কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা, ত্যাগ নাকি প্রদর্শনী?

মোঃ সাইফুল ইসলাম রণি :

পবিত্র ঈদ-উল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও মানবতার এক অনন্য শিক্ষা নিয়ে আসে। হযরত ইবরাহিম (আ.) মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ত্যাগ করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। সেই ত্যাগের মহান আদর্শই কোরবানির মূল শিক্ষা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আমরা কি সেই প্রকৃত শিক্ষা ধারণ করতে পারছি, নাকি কোরবানি এখন ধীরে ধীরে সামাজিক প্রদর্শনীতে পরিণত হচ্ছে- এ প্রশ্ন আজ সমাজের অনেক সচেতন মানুষের মনে।

বর্তমান সময়ে কোরবানিকে কেন্দ্র করে এক ধরনের অঘোষিত প্রতিযোগিতা দেখা যায়। কে কত বড় গরু কিনেছে, কার পশুর দাম কত, কার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি ভাইরাল- এসব যেন অনেকের কাছে ইবাদতের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পশুর পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, লাইভ ভিডিও করা কিংবা দাম নিয়ে অহংকার করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। অথচ ইসলাম কখনোই অহংকার ও লোক দেখানোকে সমর্থন করে না।

কোরবানির মূল উদ্দেশ্য পশুর রক্ত বা মাংস নয়, বরং মানুষের তাকওয়া ও আন্তরিকতা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন-“আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এগুলোর গোশত ও রক্ত, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” অর্থাৎ কোরবানি হলো আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহভীতির শিক্ষা।

দুঃখজনক হলেও সত্য, সমাজের কিছু মানুষ কোরবানিকে নিজেদের সামাজিক অবস্থান জানান দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। অনেক পরিবার সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে শুধুমাত্র সমাজের চোখ রাঙানির কারণে ঋণ করে কোরবানি দিচ্ছে। এতে ধর্মীয় আবেগের চেয়ে সামাজিক চাপই বেশি কাজ করছে। অথচ ইসলাম সামর্থ্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, প্রতিযোগিতার ওপর নয়।

কোরবানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, ভাগাভাগি ও সহমর্মিতা। সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই কোরবানির অন্যতম সৌন্দর্য। যদি আমাদের কোরবানিতে প্রতিবেশীর অধিকার নিশ্চিত না হয়, তবে সেই আনন্দ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

আমাদের মনে রাখতে হবে, কোরবানি কোনো উৎসবের বাহ্যিক চাকচিক্য নয়, এটি আত্মত্যাগের এক মহৎ ইবাদত। তাই সামাজিক প্রদর্শনী থেকে বেরিয়ে এসে কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। তবেই ঈদ উল আজহার সৌন্দর্য ও তাৎপর্য সত্যিকার অর্থে ফুটে উঠবে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে।
ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

লেখক পরিচিতি: মোঃ সাইফুল ইসলাম রণি, লেখক ও সাংবাদিক।

প্রকাশিত : বুধবার, ২০ মে ২০২৬ খ্রি.

 

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy