কুবি শিক্ষার্থী ও মায়ের মৃত্যু : সিসিটিভি ফুটেজে চাঞ্চল্যকর দৃশ্য

নিউজ ডেস্ক :
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন ও তার মা তাহমিনা বেগমের মরদেহ নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা এটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার নগরীর কালিয়াজুরী পিটিআই মাঠসংলগ্ন নেলী কটেজ ভবনের দ্বিতীয় তলার পৃথক দুটি কক্ষ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, নিহত তাহমিনা বেগমের পরিবার গত ৪ বছর ধরে কালিয়াজুরী এলাকায় ভাড়া বাসায় রয়েছেন।

স্বামীর মৃত্যুর পর তাহমিনা বেগম দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। ঘটনার দিন রাতে তাহমিনা বেগমের দুই ছেলে ঢাকা থেকে বাসায় এসে ঘরের দরজা খোলা দেখেন। প্রথমে তারা ধারণা করেন তাদের মা ও বোন ঘুমিয়ে আছে। পরে অনেকক্ষণ পর খাওয়া-দাওয়ার জন্য তাদের ডাকতে গেলে কাছে গিয়ে নিশ্চিত হন, তারা দুজনেই মৃত।

তবে এ ঘটনায় পাশের হাতেখড়ি আনন্দ পাঠশালার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ হওয়ার পর নতুন তথ্য যুক্ত হয়। এতে দেখা যায়, রবিবার সকাল ৮টা ৮ মিনিটে টুপি ও পাঞ্জাবি-পায়জামা পরা এক অজ্ঞাত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটটিতে প্রবেশ করেন। এরপর বেলা ১১টা ২২ মিনিটে ওই ব্যক্তিকে বের হতে দেখা যায়। তবে ১২ মিনিট পরেই তিনি আরেক দফা ফ্ল্যাটের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন।

তবে এবার হাতে দুটি ব্যাগসহ প্রবেশ করেন। এরপর দুপুর ১টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত তাকে আর ওই ফ্ল্যাট থেকে বের হতে দেখা যায়নি। এরপর স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে সিসিটিভি ক্যামেরাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পরবর্তীতে তিনি কখন বের হয়েছেন তা ক্যামেরায় ধরা পড়েনি। ফুটেজে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে মধ্যবয়স্ক (৪০-৪৫ এর আশেপাশে বয়স) বয়স বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিসিটিভি ফুটেজের বিষয়ে ওই স্কুলটির সভাপতি আবু জাহেদ বলেন,‘একজন পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তিকে বেশ কয়েকবার ওই বাসায় ডুকতে দেখা গেছে। পরের বার যখন ডুকে তখন পোশাকে পরিবর্তন ছিল। তবে পুলিশ বলছে দুজন একই ব্যক্তি। পরে স্কুল ছুটি হলে সিসিটিভি বন্ধ করে ফেলি। বন্ধ করার আগপর্যন্ত লোকটি বাসার মধ্যেই ছিল। এর আগে উনাকে স্কুলে বা এই এলাকায় দেখিনি।’

তবে ইতোমধ্যে নিহত তাহমিনার সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগের সূত্র ধরে দুপুর ২টার দিকে একজনকে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থেকে আটক করেছে র‌্যাব-১১ সিপিসি-২। আটককৃত ব্যক্তির নাম আব্দুর রব (৭৩)। তিনি পেশায় একজন কবিরাজ। তার বাড়ি লাঙ্গলকোট উপজেলায়৷

এ নিয়ে র‌্যাব-১১ সিপিসি-২ এর কুমিল্লা কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, ‘সন্দেহভাজন একজনকে লাঙ্গলকোট থেকে দুপুরে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে কীভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে সেটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। আমরা পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি। নিহত ব্যক্তিদের বাসায় তেমন কিছু খোয়া যায়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিহত ব্যক্তিদের শরীরে তেমন কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। মেয়েটির গলায় একটি দাগ দেখা গেছে। আর মায়ের একটি চোখ রক্তাক্ত ছিল। যেই ভবনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, সেই ভবনের নিচতলায় একটি স্কুল ছিল। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি, সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে।’

সোমবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়

You might like

About the Author: priyoshomoy