

রফিকুল ইসলাম, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) :
কিশোগঞ্জের হোসেনপুরে চলতি মৌসুমে বিভিন্ন জাতের পাট চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমান বাজারে উপযুক্ত দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে। গত কয়েক বছর যাবত প্রতিকুল আবহাওয়ায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় ও পাটের দাম কম থাকায় কৃষকের উৎসাহ দিন দিন কমে গিয়ে লক্ষমাত্রা অনুযায়ী আবাদ হচ্ছে না। সোনালী আঁশ পাটের বিশাল সম্ভাবনা থাকলেও পাটের তৈরী বিভিন্ন পন্যের ব্যবহার কমে যাওয়ায় দেশের অধিকাংশ জোটমিল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাছাড়াও চাহিদা অনুযায়ী বিদেশেও রপ্তানি কম হওয়ায় কৃষকরা উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছে না। এ ছাড়াও কৃষি অধিদপ্তর বিভিন্ন ফসলে প্রনোদনা দিলেও পাট চাষে কৃষকদের সার ও বীজ দিয়ে কৃষকদের সহযোগীতা ও উৎসাহিত করছে না।

ফলে পাটের চাষ কমে গিয়ে লক্ষমাত্রা অর্জিত হচ্ছেনা। পাটের কাঙ্খিত দাম না পেলেও দেশের গ্রাম ও কলকারখানা সমূহে পাটশলার অত্যান্ত চাহিদা রয়েছে। পাটকাঠি জালানী হিসাবে ব্যবহার ছাড়াও বর্তমানে প্রযুক্তির আর্শিবাদে কলকারখানায় পাটকেল বোর্ডসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরীতে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে কৃষক চড়াদামে পাটকাঠি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। ভরা মৌসুমে উৎপাদিত পাটের প্রকার ভেদে মুল্য মন প্রতি ৩ হতে ৪ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার বাসুরচর গ্রামের কৃষক মীর মোশারফ হোসেন জানান, পাটের চেয়ে পাটকাটির চাহিদা অনুধাবন করে এবার পাট চাষ করেছি। তবে গত বছরের তুলনায় বাম্পার ফলন হয়েছে। তিনি বিঘা প্রতি ৮ থেকে ১০ মন পাট উৎপাদন করেন। তবে পাটের মুল্যের পাশাপাশি পাটকাঠি চাহিদা অনুযায়ী চড়া দামে বিক্রয় করে অধিক লাভবান হচ্ছেন।
উৎপাদনে লেবারকস্ট সহ খরচ বেশি হলেও ফলন অধিক হওয়ায় এবং বাজার দর তুলনা মূলক ভাল হওয়ায় লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। সাহেবেরচর গ্রামের কৃষক হাজী ফরিদ আহমেদ বলেন, উৎপাদন খরচের তুলনায় মুল্য কম পাওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকরা পাট চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। পাট একটি প্রধান অর্থকরী ফসল সোনালী আঁশ হিসাবে সরকার যদি প্রনোদনা দিয়ে সহযোগীতা ও উৎসাহ প্রদান করে তাহলে কৃষকরা আবারও পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবেন। অন্যদিকে উপজেলার চরবিশ^নাথপুর, চরহাজীপুর, সাহেবেরচর, সিদলা গোবিন্দপুর, চরজামাইল, কাওনা, বাসুরচর ও ভরুয়া গ্রামে সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় পাটের ভাম্পার ফলন হওয়ায় উৎপাদনকৃত পাটকাঠি চড়া দামে বিক্রি করে আনন্দিত হচ্ছেন।
মাঠ চষে বেড়ানো উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান কৃষি অফিসের তদারকিতে এবার পাটের যেমান বাম্পার ফলন হয়েছে তেমনি গত বছরের তুলনায় বাজারে দামও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। হোসেনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহজাহান কবির বলেন আমরা পাট চাষে সরকারী প্রনোদনা দিতে না পারলেও সমগ্র উপজেলায় কৃষকদের সহজলভ্যতায় জৈব সার প্রয়োগে, কিটনাষক ব্যবহার না করে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা এবং মাঠ পর্যবেক্ষন ও পরিদর্শন করে উপযুক্ত পরামর্শ দানের মাধ্যমে উৎসাহ বৃদ্ধি করন অব্যাহত রেখেছি। এ বৎসর হোসেনপুর উপজেলায় ২ হাজার ৩শ ৯০ হেক্টর জমি পাটচাষের লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছে। কৃষক উৎসাহিত হয়ে পাট চাষ করায় বাম্পার ফলন হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন এবারের বর্ষা মৌসুমে উপজেলা বিভিন্ন আবাদী জমির জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংগ্রহ করনে নদী নালার পরিবেশ রক্ষায় একাধিকবার অভিযান চালিয়েছি এবং ইহা অব্যাহত থাকবে। আগামী মৌসুমে কৃষক উৎসাহিত হয়ে আরোও অধিক লক্ষমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে আশা করছি।
শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫













