তাড়াশে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি: জনমনে আতঙ্ক ও প্রশাসনিক নীরবতা

জিল্লুর রহমান :

সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলায় সম্প্রতি এক অদ্ভুত ও উদ্বেগজনক ঘটনা জনমনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন গ্রামে, বাজারে ও রাস্তাঘাটে এক ব্যক্তি হাতি নিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে অটোরিকশা, ভ্যান, এমনকি বড় গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায় করছেন। স্থানীয়রা একে চাঁদাবাজি বললেও অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করছেন, এটি হাতির খাবারের জন্য চাঁদা নয়, বরং “চায়ে নেওয়া” অর্থাৎ স্বেচ্ছাসেবী অনুদান।

তাড়াশ উপজেলার চারমাথা, ভোগলমান, সরাপপুর, ঝুরঝুরি বাজারসহ আশেপাশের এলাকায় এই ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাতি নিয়ে রাস্তায় অবস্থান করে যানবাহন থামিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। দোকানদার, পথচারী, চালক—কেউই রেহাই পাচ্ছেন না।

ঝুরঝুরি বাজারের দোকানদার ইসব আলী বলেন, “টাকা না দিলে হাতির শুঁড় দিয়ে ভয় দেখায়। কখনো দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে, কখনো হাতি দিয়ে জিনিসপত্র নড়াচড়া করে। বাধ্য হয়ে ১০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।”

এক অটোরিকশা চালক জানান, “আমার গাড়ি থামিয়ে বলল, হাতির খাবারের জন্য কিছু দাও। না দিলে হাতি গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকে, যাত্রী ভয় পায়।”

হাতির মাহুতের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা চাঁদা না, হাতির খাবারের জন্য চায়ে নিই। কেউ না দিলে জোর করি না।” তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে, যা চাঁদাবাজির পর্যায়ে পড়ে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। স্থানীয় থানায় একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, জনসাধারণের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করা অপরাধ। পশু ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করা আরও গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পশু নির্যাতনের পর্যায়েও পড়ে, যা প্রাণী সুরক্ষা আইনের পরিপন্থী।

সামাজিক প্রভাব

এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে:

জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে।

যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে ভয় তৈরি হচ্ছে।

হাতিটি সারাদিন রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়, প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। খাবার ও বিশ্রামের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় পশুটির স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। এটি পশু নির্যাতনের একটি উদাহরণ।

জনসচেতনতা ও করণীয়

প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

পশু অধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

জনগণকে সচেতন হতে হবে এবং ভয় না পেয়ে আইনগত সহায়তা নিতে হবে।

তাড়াশে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি। প্রশাসনের নীরবতা, জনগণের অসহায়ত্ব এবং পশু নির্যাতনের এই চিত্র আমাদের সবাইকে ভাবিয়ে তোলে। এখনই সময়, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার।

প্রকাশিত/ মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy